একুশে বার্তা রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল র. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টামিনালের নান্দকি নকশায় ত্রুটি ধরা পড়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্যাবল সংযোজন অপারেটিং সমস্যা প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে। বেবিচকের বোর্ড সভায় এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এ দায় কার? তা নিয়ে উচ্চবাচ্য হয়নি। পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নান্দনিক সিলিং ভেংগে মোবাইল ক্যাবল সংযোজন করা হবে। আর এতে বেবিচকের গচ্চা যাবে কোটি টাকা, সময় লাগবে কয়েকমাস। এতে সময় ও অর্থ – দুটোই সামনে এসেছে। ফলে থার্ড টার্মিনালের উদ্ধোধন ভেস্তে গেছে।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এ সময়ই ধরা পড়েছে একটি বড়সড় নকশাগত ত্রুটি। টার্মিনালের ভেতরে নেই কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ। জরুরি ভিত্তিতে সিলিং ভেঙে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করতে হবে, যা শুধু সময়ই নেবে না, বরং কোটি টাকার ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ফলে টার্মিনালের উদ্বোধন পিছিয়ে যাওয়াই এখন নিশ্চিত।
প্রায় সবকিছু ঠিকঠাক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের আলোচনাও তুঙ্গে। কেউ বলছেন চলতি মাসেই, আবার কারও ধারণা জাতীয় নির্বাচনের পর চালু হবে টার্মিনাল। কিন্তু এর মধ্যেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নজরে আসে একটি গুরুতর বিষয়- এ গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের ভেতরে নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। জরুরি ভিত্তিতে টার্মিনালের নান্দনিক সিলিং খুলে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
এ নিয়ে বেবিচক জরুরি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়, সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টার্মিনালের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলিংয়ের ভেতর ক্যাবল নিতে হবে, যা আগে পরিকল্পনায় না থাকায় এখন খেসারত দিতে হচ্ছে বেবিচককে। এতে কোটি টাকার গচ্ছা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেবিচক সূত্র জানায়, মূল নকশায় (ডিজাইন) মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এখন সিলিং খুলে নতুন করে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করতে হবে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় বেবিচক বোর্ড নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত মাসে অনুষ্ঠিত ৩০৯তম বোর্ড সভায় সভাপতি ও সদস্যরা জানান, টার্মিনাল নির্মাণের ৯৯টি ধাপ শেষ হলেও টার্মিনালের অভ্যন্তরে নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা স্থাপন শুরু করা যায়নি। নকশাগত ত্রুটির কারণে এখন জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন এনে সিলিংয়ের ভেতরে নতুন অবকাঠামো স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।
সভায় সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিদর্শন) বলেন, মূল নকশায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ‘ইন-বিল্ডিং সলিউশন’ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক কাভারেজ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রীসেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনের স্বার্থে দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন জরুরি। এ কারণে বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর, টাওয়ার কোম্পানি এবং ইন্টিগ্রেটর প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোবাইল অপারেটরগুলোকে চিঠিও পাঠানো হয়।
তবে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক শুধু জায়গা ভাড়া দিতে রাজি হলেও কোনো রাজস্ব শেয়ার বা সমন্বিত প্রস্তাব দেয়নি। একমাত্র কার্যকর প্রস্তাব দিয়েছে টেলিটক। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। অন্য অপারেটরদেরও যুক্ত করবে এবং প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ নিয়মিত বেবিচককে প্রদান করবে। বৈঠকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য চুক্তি করা হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া ২.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
উক্ত বৈঠকে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাসহ বেবিচক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।(
তিনি আরও বলেন, ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। টার্মিনালে আরও কিছু ত্রুটি আছে, সেগুলোও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। চলতি মাসে উদ্বোধন না হলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হবে।
বেবিচক সূত্র জানায়, যাত্রীদের জন্য টার্মিনালটি খুলে দেওয়ার আগেই নির্মাণকাজ ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও পরিকল্পনার ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পরও এটি চালুতে বিলম্বের বড় কারণ অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও নান্দনিক নকশায় ত্রুটি। সিলিং বা ছাদের অভ্যন্তরীণ সজ্জাতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নকশায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সলিউশন না থাকায় এখন সিলিং খুলে নতুন অবকাঠামো বসাতে হচ্ছে।
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেক শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৩৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থায়ন করে জাইকা। নকশা করেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন-সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের আন্তর্জাতিক মানের স্থপতি। নির্মাণ করছে জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাংয়ের যৌথ উদ্যোগ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
