নাগরিক ঐক্যের সেমিনারে বক্তারা : ক্রসফায়ার করে কিভাবে বেহেশতে যাওয়া যায় ?

একুশে বার্তা ডেক্স : নাগরিক ঐক্যের সেমিনারে বিশিষ্টজনেরা ভালো লোকদের সামনে নিয়ে এসে খারাপ লোকদের শাস্তি দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তারা বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় ঐক্য আয়োজিত ‘দুর্নীতি’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন বক্তারা। এতে শিক্ষক, রাজনীতিক, আইনজীবীসহ সমাজের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের শাস্তি না দিয়ে শুধু ওএসডি করে নিশ্চিন্তে অবসরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। তাদের ওএসডি না করে শাস্তি দিন। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করুন। এদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে আমরা কাকে টাকা দিচ্ছি। এই টাকা জনগণের। ব্যাংক আইনের বিধি-বিধানগুলো ঘন ঘন বদলানো যাবে না। যারা দুর্নীতি করেন, তাদের সাথে সাথে শাস্তি দেয়া দরকার যেন সবার কাছে দৃশ্যমান হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের কর্মকর্তারা সাহায্য করছে। পুলিশ কখনও রাষ্ট্রে শান্তি আনতে পারে না। তারা শুধু সন্ত্রাসী ধরতে পারে। একমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই আলোচনা করে রাষ্ট্রে শান্তি আনতে পারে। উগ্র বামপন্থীরা আমাদের রাজনীতি ধ্বংস করে যাচ্ছে।

লেখক জাফর ইকবালের ওপর হামলা প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, র‌্যাগিংয়ের দায়ে ছাত্রলীগের যে কর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদেরই কেউ হাবাগোবা দাড়িওয়ালা এই ছেলেকে দিয়ে ঘটনা ঘটিয়েছে কি না দেখতে হবে।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যারা টাকা পাবে তাদেরই যদি বাজেট তৈরি করতে দেয়া হয়, তাহলে দুর্নীতি থামানো যাবে কী করে? দুর্নীতিকে অবাধ রাখার জন্যে প্রয়োজন স্বৈরশাসন এবং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘দুর্নীতির পেছনে যে মহান শক্তির মানুষ আছে, তাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে। যারা দুর্নীতি করেন, তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা শুনলে আমার প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়। তারাই মূলত সবচেয়ে বড় চেতনা ভঙ্গকারী। দুর্নীতি কোনো সমস্যা না, সমস্যার আলামত। যে দেশে সুশাসন নাই, সেদেশে দুর্নীতি হবে না তো কী হবে? বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল এককেন্দ্রিক সরকারের দেশ। নেপালের মতো অপেক্ষাকৃত কম জনসংখ্যার দেশেও প্রাদেশিক সরকার আছে। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য একটি সরকার। এক ব্যক্তির কাছেই সব ক্ষমতা।

গবেষক গওহর নাঈম ওয়ারা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হওয়ার কারণেই রাস্তায় আন্দোলন দেখতে পাই। আমাদের কর্মকর্তারা প্রজেক্টের কাজ খুব ভালোবাসেন। কারণ, সেখানে অনেক দুর্নীতি করা যায়। প্রজেক্টে ট্রান্সফার করা হলে একজন কর্মকর্তা খুব খুশি হন। কিন্তু তাকে যদি কুতুবদিয়ায় পাঠানো হয়, তার খুব মেজাজ খারাপ হয়।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সরকার বলেছে, ‘এগুলো যারা করে তারা বিপদগামী। এটা করে বেহেশতে যাওয়া যায় না।’ খুন জখম করে বেহেশতে যাওয়া যায় না ঠিকই, তাহলে ক্রসফায়ার করে কিভাবে বেহেশতে যাওয়া যায়? মানুষ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান, মাসের পর মাস খোঁজ থাকে না। ছয় মাস পরে এক বছর পরে তার লাশ পাওয়া যায়। ওরা বেহেশতে যাবে কিভাবে?