বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসির তোপের মুখে শালিসের টাকা ফেরত দিলো ইউপি সদস্য ও মাতাব্বররা : ঘাটাইলে ৪ ব্যক্তির হাতে ৩ গ্রামের মানুষ জিম্মি

প্রতিনিধি ঘাটাইল, টাঙ্গাইল : এক নারীকে গুটি বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে শালিসের নামে নেয়া ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিলো ইউপি সদস্য ও কথিত মাতাব্বররা। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি মহল মিথ্যা অভিযোগে শালিসের নামে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে থানা পুলিশের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত ২৯ আগষ্ট রাতে রতনবরিষ গ্রামের বিদেশ ফেরত লিপি নামে এক যুবতীকে দেউলাবাড়ি গ্রামের শুকুর আলী ওরফে বেগুর বাড়িতে তুলে দেয় রতনবরিষের মাসুদ, মুক্ষগাংগাইরের রফিক ও সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার আলী আকবর বাবুল। পরে ঐ যুবতীকে ব্যবহার করে রাতেই গ্রামে শালিশী বৈঠক বসায়। শালিসে থানা পুলিশের ভয়ভীতি ছাড়াও নানাভাবে চাপ প্রয়োগে ঐ পরিবারকে জিম্মি করে ৯১ হাজার টাকা আদায় করে।
এভাবে একের পর এক দেউলাবাড়ি, রতনবরিষ, মুক্ষগাংগাইর এ ৩ গ্রামকে জিম্মি করে নিরীহ মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা আদায় করতে থাকায় এলাকাবাসি বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। ইউপি সদস্য হায়দর আলী, লেবু বেগম ও কথিত ঐ মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসি প্রকাশ্যে মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। এক পর্যায়ে তোপের মুখে পরে এ মাতাব্বররা শালিসে নেয়া ঐ টাকা ফেরতদেয়।
অতি সম্প্রতি গোপালপুর সরওয়ার্দি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিমের রতনবরিষ গ্রামে তার প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে পাশের বাড়ির ৬ বছরের এক শিশুকে জড়িয়ে মিথ্যা রটনা ঘটিয়ে শালিসের নামে ৮০ হাজার টাকা নেয় ঐ কথিত মাতাব্বররা।
গত ২৪ আগষ্ট দেউলাবাড়ি উত্তরপাড়া শাহজাহান আলীর জমি সংক্রান্ত শালিসি দরবার করে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। রতনবরিষ গ্রামের শহিদুলকে গাজা খাওয়ার ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৬ হাজার টাকা নেয় এ কথিত মহলটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেউলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
অপরদিকে ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুল হক বলেন শালিসী দরবারে কেউ যদি থানা পুলিশের ভয় দেখায় সেখানে আমার কি করার আছে?