বিমানের নীতিমালা ও আইএলও শর্ত লংঘন : শাহজালাল বিমানবন্দরে একজন ক্লিনারের মাসিক বেতন ৬৬৬ টাকা! : সিপিসি-৩ কমিটিতে অনুমোদন

এইচএম দেলোয়ার : বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ বিমানের বিদ্যমান নীতিমালা লংঘন করে ও আইএলও আইনকে বৃদ্বাংগুলি দেখিয়ে মাত্র ৬৬৬ টাকার মাসিক বেতনে ক্লিনার নিয়োগের পায়তারা করছে। সিপিসি-৩ কমিটি তা অনুমোদনও দিয়েছে। গত ৯ এপ্রিল কমিটি প্রধানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধারা অতীতেও হয়েছে এবং তা হযরত (র.) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহাল রয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম বা ব্যত্যয় ঘটছে না। স্মাগলিংয়ে অভিযোগে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্নধারের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘুষের বিনিময়ে বিমানের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ( আইএলও)কে আমলে না নিয়ে সিপিসি-৩ কমিটি শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজের জন্য অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিতে যাচ্ছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনমাস আগে বিমান কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজের জন্য ম্যানুয়েল পদ্বতিতে দরপত্র আহবান করে। ১০টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে তাদের দর দেয়। সর্বোচ্চ দর দেয় ক্রাউন এন্টারপ্রাইজ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর সর্ব নি¤œ দর দেয় ‘এএ ট্রেডিং’ মাত্র ২৭ হাজার টাকা। বিমান কর্তৃপক্ষ ১২০ দিন পর সর্ব নি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘এএ ট্রেডিং’কে বিমানের বিদ্যমান নীতিমালা লংঘন করে এবং আইএলও আইনকে বৃদ্বাংগুলি দেখিয়ে সিপিসি-৩ কমিটির কমিটির অনুমোদনক্রমে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এএ ট্রেডিং’-এর কর্নধার ঠিকাদার আকরামের বিরুদ্বে শাহজালাল বিমানবন্দরে স্মাগলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।। তার অন্যতম সিপাহশালার হচ্ছে দুলাল নামের এক ব্যক্তি। এই দুলালের সাথে বিমানের সংশ্লিষ্ট জিএম-এর দহরম-মহরম ম্পর্ক থাকার কারণে বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর একই কায়দায় ক্লিনিং ইজারাদার মমতাজ কন্সট্রাকশনের সাথেও এই দুলাল জড়িত। অথচ দুলাল তৃতীয় ব্যক্তি, তার নিজের কোন লাইসেন্স নেই, অন্যের লাইসেন্সকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শাহজালালে ১৭ জন ক্লিনারের গডফাদার হিসেবে রীতিমতো স্মাগলিং কাজের সাথে জড়িত বলে গোয়েন্দা সংস্থা তা খতিয়ে দেখছে।
সূত্র জানায়, বিমান কর্তৃপক্ষ ১৭ জন ক্লিনার, এরমধ্যে ১জন সুপারভাইজার ও ১ জন মালি সম্বলিত ১৭ জনবলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এএ ট্রেডিং’কে মাত্র ২৭ হাজার টাকার মাসিক চুক্তিতে বিমানের শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজের কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে। ভ্যাট-ট্যাক্স ও ক্লিনিং কাজের পণ্য ক্রয় বাবদ খরচ বাদে ঠিকাদার প্রতিমাসে বিমান কর্র্তপক্ষ থেকে নিট পাবে ২২ হাজার টাকার মতো। এই ২২ হাজার টাকায় ১৭ জন ক্লিনারের বেতন দিতে হবে। এতে করে একজন ক্লিনারের মাসিক বেতন ৬৬৬ টাকার মতো আসবে। এই টাকায় কি একজন ক্লিনার তার সংসার চালাতে পারবে? তাহলে সে কি বিমানের নিরাপত্তা পাস ব্যবহার করে স্মাগলিংয়ে জড়িয়ে পড়বে না- এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।
‘বিমানের মহাব্যবস্থাপক এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস এর অফিস সমূহ ও অপারেশন ভবনের পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা কাজের দরপত্রের সিডিউলে ক্লিনিং পণ্যের নাম ও পরিমাণ এবং ক্লিনারের সংখ্যা ১৭ জন উল্লেখ করা হলেও মাসিক বেতনের ঘর ‘ফাকা’ রাখা হয়েছে, বেতনের ঘরে বেতন নির্ধারন করা হয়নি এবং দরপত্র সিডিউলে মহাব্যবস্থাপকের মন্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে’।
বর্তমানেও বিমানের শাহজালাল বিমানবন্দর ক্লিনিং ইজারার ক্ষেত্রে এ ধারা অব্যাহত আছে বলে সূত্র জানায়। মমতাজ কন্সট্রাকশনের ইজারার অন্তরালে বিমানের ১৭ ক্লিনার ও পরিচালনাকারি দুলাল শাহজালালের স্মাগলিং কাজে জড়িয়ে পড়েছে বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। আর এর ভাগ বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা পর্যন্তও নাকি চলে যায়। এ সুবাধে এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, বিমানের নীতিমালায় একজন ক্লিনারের সর্বনি¤œ বেতন সাড়ে ৫ হাজার টাকা। চট্রগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানের নীতিমালায় টার্মিনাল ভবনের ক্লিনিং কাজ ইজারা চলছে। কিন্ত ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের নীতিমালা লংঘন করে টার্মিনাল ভবনের ক্লিনিং ইজারা চলছে এবং আবারও এ পদ্বতিতে শাহজালাল টার্মিনাল ক্লিনিং কাজ ইজারা দেয়ার পায়তারা করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।