একুশে বার্তা রিপোর্ট : শাহজালাল বিমানবন্দরে শতভাগ নিরাপত্তার মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই অক্ষত বিমানের স্ট্রংরুম যেখানে সোনা-দানা, হীরা, অস্ত্র রাখা হয়-তা খুলে ২৪ অক্টোবর ইনভেন্ট্রি করা হলো, পণ্যের তালিকা করা হলো। ৫ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তা সীলগালা করে আবার স্ট্রংরুম তালাবদ্ধ করা হলো। পরের দিন ২৫ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনারকে দাপ্তরিক চিঠি দিল ইনভেন্ট্রিকৃত সকল পণ্য স্ট্রংরুম থেকে সরিয়ে কাস্টমস হেফাজতে নেয়ার জন্য।
২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মালামাল স্ট্রংরুমে অক্ষত ছিল। ২৮ অক্টোবর স্ট্রংরুমের তালা ভেংগে পণ্য খোয়া গেল। থানায় জিডি হলো, তদন্ত কমিটি হলো, তদন্ত চলছে।
২৯ অক্টোবর পণ্য খোয়া যাবার পর আবার পুন: ইনভেন্ট্রি হলো। এ ইনভেন্ট্রির তালিকায় ৮০টি অত্যাধুনিক অস্ত্র পাওয়া গেল-যা পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে প্রথম ইনভেন্ট্রির সূত্র ধরে একটি জাতীয় দৈনিকে ২১টি অস্ত্রের মধ্যে পাওয়া গেছে ১৪টি, ০৭ টি অস্ত্র খোয়া যাবার কথা প্রচার করা হয়েছে।
আসলে অস্ত্র ছিল কি পরিমাণ- গত ২৪-১০-২০২৫ তারিখের প্রথম ইনভেন্ট্রি এবং চুরির যাবার পর গত ২৯-১০-২০২৫ তারিখের দ্বিতীয় ইভেন্ট্রির পরিসংখ্যান মিলিয়ে নিলেই প্রকৃত অস্ত্র কি পরিমাণ ছিল তা বের হয়ে আসবে।
ডেটলাইন ২৪-২৯ অক্টোবর : ডেটলাইন ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর ৫দিনে এমন ঘটনা ঘটলো যে, আগুনের ঘটনার রেশ শেষ হতে না হতেই নিশ্চ্রিদ্র শতভাগ নিরাপত্তার মধ্যে ভয়াবহ আগুনের মধ্যে যা অক্ষত ছিল –সেই স্ট্রংরুমের সীলগালা তালা ভেংগে চুরি হলো। এ দায় কার? বিমান-কাস্টমস-পুলিশ-বেবিচক। আগুনের মতো কেউ এর দায় নিচ্ছে না। তদন্ত চলছে-এ সব কথা বলছে সব সংস্থা।
প্রথম ইনভেন্ট্রি করে কেন স্ট্রংরুমের সকল পণ্য পোড়াস্থানে রেখে আবার কেন সীলগালা করা হলো? কেন সকল পণ্য কাস্টমস হেফাজতে নেয়া হলো না? কেন পুলিশ হেফাজতে দেয়া হলো না? কেন যে সংস্থা অস্ত্রগুলো আমদানি করেছিল তাদের খালাস দেয়া হলো না?
বিমান পাহাড়ায় বিমানের বাড়িতে চুরি হলো, কে চুরি করলো, তাহলে শত ভাগ নিরাপত্তা কি ভেস্তে গেল? এ সব প্রশ্ন ঘিরে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা এগুলেই আসল ক্লু পেয়ে যাবে বলে অনেকে মনে করেন।বিমানের নিরাপত্তা বিভাগ কি দায় এড়াতে পারে?
বিমানবন্দরে আগুন, চুরি- এটা কি সাবোটাজ না নাশকতা? যে ঘটনার সাথে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। যদিও আগুনের ঘটনাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাবোটাজ বলতে নারাজ, তারা নাশকতার সন্দেহ পোষণ করছে।
একই জায়গায় একযুগ পরে আগুন লাগলো! তাহলে এখানকার নজরদারি কি উবে গেছিল? তবে এবার কোন রাজনৈতিক দলকে নয়–এবার আগুনের ঘটনায় এক সংস্থা আরেক সংস্থাকে দোষারূপ করছে, কেউ দায় স্বীকার করছে না।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
