স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ( বেবিচক) পতিত সরকারের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন পরিচয়ধারি, সরকারী চাকরির বয়স অতিবাহিত হবার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩২ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশে চাকরি পাওয়া উপপরিচালক রাশিদা সুলতানা এখনও বহাল, তাকে রুখবে কে? তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো তাকে বেবিচকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান পরিচালক এফসেক পদে পদোন্নতি দিয়ে যাবার পায়তারা করেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত ষোলকলা পূর্ণ হয়নি। রাশিদা সুলতানার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানে সংশ্লিষ্টতা, জন্মসনদ জালিয়াতি, শিক্ষা সনদ জালিয়াতির তদন্ত হয়নি। তার পাসপোর্ট ও এনআইডিতে একেক রকম জন্ম তারিখ , টাংগাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের কথা বললেও তার অস্তিত্ব মিলেনি। তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। বরং যার কাছে ঘুষ চেয়েছেন সেই কর্মকর্তাকেই উল্টো বদলি করা হয়েছে। তাকে মানসিক রোগী প্রমাণের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে বেবিচকের পক্ষ থেকে দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হলেও তা আলোরমুখ দেখেনি। রাশিদা সুলতানা একাই বেবিচকের কাওলায় স্টাফ কোয়ার্টারে ২টি কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছেন, কিন্ত তাকে একটি রেখে আরেকটি কোয়ার্টার থেকে সরানো হচ্ছে না। রাশিদার একবার ফরিদপুর এলাকায় বিয়ে হয়েছিল, সে ঘরে নাকি একটি সন্তানও রয়েছে, জামাইকে তালাক দিয়ে কয়েক লাখ টাকা আদায় করেছেন বলে এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়।
রাশিদা সুলতানা তার ইচ্ছামত অফিসে আসেন-যান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ মানেন না। এ জন্য তাকে তার বস সদস্য নিরাপত্তা শোকজ করলেও তিনি তার জবাব দেননি। তিনি অফিসের প্রটোকল মানেন না, সংস্থার চেয়ারম্যানকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে এসিআর কেলেংকারির অভিযোগও রয়েছে। রাশিদার এসিআর লিখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। রাশিদার বিরুদ্ধে প্রথম আলো, যুগান্তর, দেশ রূপান্তর, রূপালী বংলাদেশ, একুশে বার্তায় একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও বেবিচক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা যায়। উল্টো তাকে আগলে রাখা হয়েছে। রাশিদা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য বেবিচক থেকে সাবেক সদস্য নিরাপত্তা মান্নাফি ( আওয়ামী লীগের দক্ষিণের সভাপতি, যিনি ইতিমধ্যেই বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ পাড়ি জমানোর সময় গত ৭ জুলাই রাতে গ্রেফতার হয়েছেন) দাপ্তরিক চিঠি দিলেও তা মুখথুবড়ে পড়ে আছে।
রাশিদা সুলতানা পতিত সরকারের দুইবার করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বিমান সচিব মোকাম্মেল হোসেন,সচিবের স্ত্রী আছিয়া বেগম দুদক কমিশনার, সচিবের বোন( বংগবন্ধু পরিষদের শীর্ষস্থানীয় কর্ণধার ফানু আপা বলে খ্যাত) ফানু আপার মাধ্যমে পরিচালক এফসেক পদে পদোন্নতির জন্য তদবির করেছেন বলেও শোনা যায়।তবে তার আশা পূরণ হয়নি।
রাশিদার বিরুদ্ধে কোটা আন্দোলন চলাকালে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
