বেবিচক : শাহজালাল বিমানবন্দর : ট্রলিসহ নানা সমস্যা, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া: মন্ত্রীর বয়ান : আওয়ামী দোসর প্রশাসন : সেলিম-জিন্নাহ-সুব্রতরা এখনও বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ -বেবিচকের শাহজালাল বিমানবন্দরের নানা সমস্যা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে রিপোর্ট বের হচ্ছে, প্রশাসনিক এ্যাকশন নেই বললেই চলে। এ নিয়ে প্রবাসী যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা ফেইজবুকে নানা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এ দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিমানমন্ত্রীর নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে।
থার্ড টার্মিণাল সফট ওপেনিংয়ের পর এবার এ সরকারের আমলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ডেটলাইন সামনে রেখে তোরজোর শুরু হয়েছে। যদিও থার্ড টামিনালকে ঘিরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কথা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হবার পর বেবিচক তা অস্বীকার করেছে।
এ দিকে বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল বিমানবন্দরে আওয়ামী প্রশাসন, ঢেলে সাজানো হয়নি, সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস , বর্তমান সরকারের ৫ মাসে কি-পয়েন্ট থেকে শুরু করে নি¤œ পর্যায়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে বদলি করা হয়নি। বরং বিএনপি মাইন্ডেড কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে।
১২ বছর থেকে ২৮ বছর যাবত এক পোস্টিংয়ে কর্মরত থাকলেও এদেরকে বদলি করা হচ্ছে না।
এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর বের হলেও কর্তৃপক্ষ কাউকেই বদলি করছে না।
সম্পত্তি বিভাগে কর্মরত সুব্রত একযুগেরও বেশি সময় সম্পত্তি বিভাগে কর্মরত থাকলেও তাকে বদলি করা হয় না। তার বদৌলতে বেবিচকের অনেক জায়গা-জমি বেদখল হয়ে গেলেও ফায়দা লুটছে সুব্রত।
হজ ক্যাম্পের অপজিটে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পাশে কাচা বাজার, মাছ গড়ে তোলা হয়েছে। মাসে অর্ধলক্ষ ভাড়া ওঠিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।
শাহজালাল বিমানব›ন্দর: অবিশ^াস্য হলেও সত্য যে, শাহজালাল বিমানবন্দর, বর্তমানে সংলগ্ন ডমেস্টিক ম্যানেজার সেলিম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকলেও তাকে বদলি করা হয় না। তাকে নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ নীরব।
চাকরির শুরু থেকে গত ২৮ বছর ধরে নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ, বর্তমানে কিউএ- ডিউটি করে তাকে বদলি করা হয় না। মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এতো দীর্ঘ সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত থাকার সুবাধে নান অনৈতিক কাজে জড়িত বলে শোনা যায়। মানব পাচারে সিদ্ধহস্ত। তার সহযোগি নিরাপত্তা সুপার,আলফা-৩৩ মিজানুর রহমান চট্রগ্রাম।
পুরো শাহজালাল বিমানবন্দরে মানব পাচারসহ নানা পাচারে শতাধিক সিন্ডিকেড গড়ে ওঠেছে। গোয়েন্দা সংস্থা এদেরকে শাহজালাল থেকে বদলির সুপারিশ করলেও তারা এখনও শাহজালালেই বহাল। এরা মানব পাচার, মুদ্রা পাচার, সোনা পাচার, কর্মাশিয়াল ব্যবসায়ীদের ল্যাগেজ পাচারে জড়িয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে বিমানসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স-এর জনবল, ম্যানপাওয়ার ডেক্স, ইমিগ্রেশন পুলিশ জড়িয়ে পড়েছে। এদের সহায়তায় মানব পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কিছু দিন আগে পাচার হবার প্রাক্কালে ৭৬ জন বিমানবন্দর থেকে সটকে পড়েছে। কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে।
শাহজালালে মানব পাচারসহ অন্যান্য পাচারে যারা জড়িয়ে পড়েছে এই সিন্ডিকেড সদস্যদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যায় , গাজি তোফায়েল, গাজি আজাদ, মিজানুর রহমান নোয়াখাীল, মনির, সাঈদ, মহসিন ভুইয়া, আরিফ, আশরাফ, এ’ পালার এএজি আক্রাম উদ্দিন সুমেল,অপারেটর বেলাল, এএসজি আবুল বাশার, এএসজি রশিদ, জাহাংগীর আলম বাদশা, বিমানের সুমন, আমির, ম্যান পাওয়ারের মহিদুল। এরা দীর্ঘদিন শাহজালালে কর্মরত।
এদের মধ্যে গাজি তোফায়েল তার কেয়ারটেকারের কয়েক লাখ টাকা বেতন না দিয়ে হুমুকি দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। গাজি তোফায়েলের রাজধানি ঢাকার উত্তরখানে একাধিক বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
‘এ’ পালার নিরাপত্তা সুপার মিনহাজ জানান, আমার পালায় কর্মরত বাদশা, আক্রাম, বেলাল , বাশার, রশিদ মানব পাচার, কর্মাশিয়াল ল্যাগেজ পাচারে জড়িত কিনা- তদন্ত করে দেখা হবে।
জাল ভিসা, জাল ম্যানপাওয়ার সনদে ৭৬ জনকে বিদেশে পাঠানোর সময় গোয়েন্দা অভিযানে তা ভেস্তে গেছে। ৫ জন ধরা খেয়েছে মাত্র। তবে মানব পাচার থেমে নেই বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।