শাহজালালে আবারও দুই পুলিশের অবৈধ অনুপ্রবেশ : গ্রেফতারের পর পুলিশ জিম্মায় ছাড়

বিশেষ সংবাদদাতা : হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক পুলিশ কর্মকর্তা, এক কাস্টমস কর্মকর্তার অবৈধ অনুপ্রবেশেরপর আবার গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দুই পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা ঘটার পর বিমানবন্দরে বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির কল সাইন বেজে ওঠে। পরিচালক তাদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পরিচারকের নির্দেশে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিমানবন্দরের উপপিরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ডমেস্টিক এয়ারভাল দিয়ে শাহজালালে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে নিরাপত্তা পাস ছাড়া অবৈধভাবে প্রবেশের অপরাধে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে নিরাপত্তা সেকশনে লুজনোট করে তাদেরকে ইমিগ্রেশন পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়।
নিরাপত্তা সুপার হাসিব আনান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কোন রকম নিরাপত্তা পাস ছাড়াই ডমেস্টিক এরাইভ্যাল গেট দিয়ে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে চলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিচালকের নির্দেশে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে সিএএবির নিরাপত্তা সেকশনে লুজনোট হয়েছে।
বিষয়টি জানতে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজি ইকবাল করিমের সেল ফোনে বার বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, শাহজালালে নিরাপত্তার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আগমনি ও বহির্গমন হল দুটি বন্ধ করে দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সমস্ত দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই সিএএবির বৈধ কোন নিরাপত্তা পাস ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারছে না শাহজালালে। আর এই সুযোগে মানব পাচার সংশ্লিষ্ট দালাল, পুলিশের এসবির কতিপয় সদস্য- যারা মানব পাচারে সংশ্লিষ্ট তারাই ইমিগ্রেশন পুলিশের নাম করে, টার্মিনাল ভবনের ৬ নং গেটে ওসি ইমিগ্রেশনের একটি কমন পাসে পলিশ সদস্যরা প্রবেশ করে থাকে। প্রবেশে বাধা আসলে তারা ভিন্ন পথ অবলম্বন করে থাকে। আর গত রোববারও এসবি পুলিশের দুই সদস্য টার্মিনাল ভবনের ৬ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে তারা কৌশলে আভ্যন্তরীন টার্মিনালের এরাইভ্যাল গেট দিয়ে প্রবেশ করে টার্মিনাল ভবনের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে চলে যায়। ঠিক তখনই বিমানবন্দর প্রশাসনের কানখাড়া হয়। ওয়াকিটকিতে কল দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর গরম করে ফেলেন। শুরু হয় ধরপাকড়। অবশেষে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে সিএএবির নিরাপত্তা সেকশনে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের জিঙ্ঘাসাবাদ করে মুচলেকা ও ইমিগ্রেশন পুলিশের জিম্মায় ছাড় দেয়া হয় বলে বিমানবন্দরের উপপরিচালক জানান।