শাহজালালে কার্গো ব্যবস্থাপনায় সাফল্য খেতাব এলেও চোরাচালানি বন্ধ হয়নি : ভেস্তে গেছে গোয়েন্দা অভিযান

একুশে বার্তা  ডেক্স :  যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর, কেমন চলছে কার্গো ব্যবস্থাপনা-অব এসেসমেন্টে বিষয়ক  ঢাকায় গত দু’দিন ধরে যুক্তরাজ্যের ডিএফটি ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে এ মূল্যায়ন (এসেসমেন্ট) করে। মূলত আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বাংলাদেশের কার্গো ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে এগোচ্ছে কিনা সেটাই দেখা হয় এ দু’দিনের পর্যবেক্ষণে। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসের অটোমেশন সিস্টেমে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ডিএফটি। যুক্তরাজ্য আশা করে বাংলাদেশের কার্গো ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য হবে।

কিন্ত কার্গোভিলেজে শতভাগ চোরাচালান বন্ধ হয়নি।  সবজির কাটনে মাদক, হুন্ডি এমনকি ফার্নিচারের  মিথ্যা ঘোষণায় চন্দন কাঠ পাচার হয়ে যাচ্ছে। সিএএবির একটিচক্র- যারা কার্গোভিলেজে ২৪ ঘন্টা ডিউটিরত, কাস্টসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, বিমানসহ বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং ফ্রেইটফরওয়ার্ডের জনবল এই পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরে তা খতিয়ে দেখছে। গোপন তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। ইতিপূর্বে কাস্টম গোয়েন্দারা মাঝেমধ্যেই কার্গোভিলেজ অভিযান চালিয়ে হুন্ডির কারেন্সি, অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কাকড়া, মাদক জব্দ করলেও সে অভিয্ন এখন ভেস্তে গেছে। ম্যানেজে সব অভিযান মাঠে মারা গেছে।

জানা যায় , ২০১৬ সাল থেকে বেবিচক- দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভিয়েশন সিকিউরিটি মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অনেক অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যথা ডুয়েল ভিউ এক্সরে মেশিন, এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য এভিয়েশন সিকিউরিটি ক্ষেত্রে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করে। এ চুক্তির আওতায় গত নবেম্বর একটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এই এসেসমেন্ট সন্তোষজনক হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গো নিষেধাজ্ঞা গত ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাহার করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হয়। ইতোমধ্যে গত এপ্রিলে আরেকটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এতেও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় শর্তাদি মানার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ও বুধবার শুধু এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লায়েন্সের ওপর আরেকটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান ও ডিএফটি দলের এভিয়েশন সিকিউরিটির লিয়াজোঁ অফিসার নকিব আকবর। প্রথম দিনে সব ধরনের ট্রেনিং রেকর্ড, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সকলের পারদর্শিতা ও যোগ্যতা সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়।