সংবাদ বিশ্লেষণ : ঢাকা-১৭ কেন ছেড়ে দিচ্ছেন এরশাদ?

ডেক্স রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন। মহাজোট থেকে তিনি এখানে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ তাকে কোনো ছাড় দেয়নি। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। এ আসনে এরশাদ এর আগে এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। এছাড়া জাপা চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয় এ আসনের মধ্যে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরই এরশাদ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান।

এ আসনে এরশাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান পার্টির নেতাকর্মীরা। কিন্তু ভোটের মাঠে ভোটারদের সাড়ায় তারা চিন্তিত। এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এছাড়া বিএনএ’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনের ভোটাররা বলছেন, ভোটের হিসেবে এ আসনে চলছে জটিল সমীকরণ। এ হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পিছিয়ে রয়েছেন।

এছাড়া তার কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও চাপে আছেন। এদিক থেকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে পার্থ। ভোটের সমীকরণ থেকেই জাপা চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আসনটি নিজেদের করতে চেষ্টা করছে। শুক্রবার এ আসনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রার্থিতাকে ভালোভাবে দেখছে না আওয়ামী লীগ। সব বিষয় চিন্তা করে এরশাদ এ আসনে ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকছেন না এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপা নেতাকর্মীরা। যদিও পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য তা নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন। যিনি এরশাদের অনপুস্থিতিতে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, এরশাদের ১৭ আসন থেকে সরে দাড়ানো নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তবে তিনিও চাইছেন এখানে নির্বাচনে এরশাদ যাতে না লড়েন।

তার যুক্তি নির্বাচনে প্রচারণায় নামলে এরশাদ অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে গত ৯ই ডিসেম্বর। এরপরে আর কোন প্রার্থীর সড়ে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। তবে নির্বাচনী মাঠে এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সড়ে দাঁড়ানোর রেওয়াজ চালু আছে দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে। এর আগে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ময়মনসিং-৭ আসনে আওয়ামী লীগের হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীকে সমর্থন দিয়ে  সরে দাঁড়ান। এ নিয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দিলে তা নাকচ করে দেয়া হয়। যদিও তিনি এখন আর ওই আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন না।

এরশাদ ঢাকা-১৭ তে ভোটের মাঠে থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করছেন তার হারের সম্ভবনা। এখানে এরশাদ এককভাবে জিততে পারবেন না। এজন্য পার্টির অনেকের পরামর্শ অসুস্থ এরশাদ যাতে এখান থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আওয়ামী লীগও মাহাজোটের স্বার্থে এখান থেকে এরশাদকে সরে দাঁড়াতে চাপ দিচ্ছেন বলে জানান পার্টির নেতাকর্মীরা। কেননা এখানে এরশাদের নিজস্ব কিছু ভোট রয়েছে। সেগুলো কাটা পড়লে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে। এছাড়া বিএনপির এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। এরশাদের সরে দাঁড়ানোর আরেকটি কারণ হিসেবে চাউর হচ্ছে এরশাদের ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’। এরশাদের এককভাবে এখানে জয়ী হওয়া কঠিন। তাই সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এ আসনের এমপি এরশাদ যদি আগেভাগে নির্বাচন থেকে সরে পড়েন তাহলে অন্তত লজ্জা থেকে বাঁচবেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার থেকে আগেই বিদায় নেয়া ভালো।

জাপা প্রধান ঢাকা-১৭ আসন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কি না তা জানতে চাইলে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচনী সেলের প্রধান অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, স্যার সরে দাঁড়াবেন এমন নয়। তিনি অসুস্থ। দেশে শিগগিরই ফিরবেন। তিনি নির্বাচনে না থাকলে তার প্রচারণা চলত না। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারও স্যারের নির্বাচনী গণসংযোগ হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের একান্ত সচিব মেজর অব. খালিদ আখতার বলেন, ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দিচ্ছেন এমন কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। তবে এরশাদ এ আসন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করুক- এটা তিনি চান। তার এখন যে শারীরিক অবস্থা তাতে কোনোভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া ঠিক হবে না। এ কারণে এ আসনটিতে না থাকাই ভালো।

খালিদ আখতার আরও বলেন, জাপা চেয়ারম্যানের ২৪ অথবা ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফেরার সম্ভবনা রয়েছে। তিনি নির্বাচনের আগে দেশের বাইরে থাকতে চাচ্ছেন না। এর আগে তার ২২শে ডিসেম্বর আসার কথা ছিল। কিন্তু এরশাদের প্রধান ডাক্তার আমেরিকাতে থাকায় তিনি ওদিন ফিরতে পারবেন না।

ঢাকা-১৭ আসনে এরশাদের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে থাকা এসএম ফয়সল চিশতী বলেন, এরশাদের এ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বরং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এরশাদের সমর্থনে সরে যাওয়ার কথা শুনছেন তারা। তিনি বলেন, এরশাদের রাজনীতির সঙ্গে একজন অভিনেতার তুলনা হয় না। এদিকে ভোটের মাঠে এরশাদ কেন সরে দাঁড়াচ্ছেন এ নিয়ে ক্ষোভ জাপার নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের সন্দেহ এ আসনে শেষ পর্যন্ত এরশাদ থাকছেন না। এ আসনে এরশাদ না থাকলেও রংপুর-৩ আসনে তিনি মহাজোটের একক প্রার্থী। তাকে এই একটি আসনেই আওয়ামী লীগ ছাড় দিছে। তারা এখানে নিজেদের কোনো প্রার্থী দেয়নি।