সংসদীয় কমিটি ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমলে নেয়নি সিভিল এভিয়েশন : বিমান মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ভেস্তে গেছে : বিএনপি-জামায়াতপন্থী ঘুষ- দুর্নীতির গডফাদার সিএএবির কর্মকর্তা ওমর শরীফসহ তিন কর্মককর্তার লাগাম টেনে ধরছে না প্রশাসন!

বিশেষ সংবাদদাতা : ঘুষ-দুর্নীতির গডফাদার বলে খ্যাত – যাদের বিরুদ্ধে একাদিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, বেসামরিক বিমানরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গঠিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ এবং সর্বশেষ বিমান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ভেস্তে যাওয়াসহ দুর্নীতির গডফাদার খ্যাত কর্মকর্তা চট্রগ্রামের বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপক ওমর শরীফসহ তিন কর্মকর্তার লাগাম টেনে ধরছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ফলে সিএএবির এই তিন কর্মকর্তা সরকারি চাকরির বিধিমালা লংঘন করে একই পোস্টিংয়ে বছরের পর বছর অবস্থান করে কোটি টাকার দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে থেকে প্রশাসনকে বৃদাংগুলি দেখাচ্ছে। তাদের চাকরি ফায়ার স্টেশনে হলেও তারা কখনো কোন বিমানবন্দরের ফায়ার স্টেশনে চাকরি না করে বিভিন্ন লোভনীয় পদে বছরের পর বছর চাকরি করছেন। ভয়াবহ ঘুষ-দুর্নীতির পরও এই তিন কর্মকর্তাকে সিএএবির প্রশাসন বদলি করছে না। এরা মন্ত্রণালয়সহ ঘাটে ঘাটে নগদ নারায়ন খরচ করায় এদেরকে বদলি করা হচ্ছে না বলে সশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। এই দুর্নীতিবাজ তিন কর্মকর্তার মধ্যে অন্য দুইজনের একজন আব্দুল লতিফ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবৈধ পদে (ড্যাপো) বছরের পর বছর দিব্যি চাকরি করছেন। আরেকজন দীর্ঘদিন সিএএবির চেয়ারম্যানের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর আবার শাহজালাল বিমানবন্দরের সহকারি পরিচালক পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতপন্থী , হাওয়াভবনের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং বিএনপি সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সিএএবির এই তিন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতসহ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ আমলে না নেয়া রহস্যজনক। এদের নিয়ে দেশের প্রথমসারির জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও আমলে নেয়া হচ্ছে না। কেউ মন্ত্রণালয়ে তদবির করছে, কেউ সিএএবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে দিয়ে তদবির করছে আবার কেউ মন্ত্রী-সচিবের ‘খয়েরখা’ হয়ে গেছে। কারন চট্রগ্রাম কার্গো ব্যবস্থাপাক ওমর শরিফের সাপ্তাহিক অবৈধ আয় প্রায় ৫ লাখ টাকা , সে হিসাবে মাসে ২০ লাখ টাকা। একমাসের অবৈধ ইনকাম খরচ করলেল আর কি লাগে ? এ ভাবেই প্রশাসনকে কব্জা করে ওমর শরিফ বছরের পর বছর চট্রগ্রাম বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত থেকে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। দুদকও তার লাগাম টেনে ধরছে না।
সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের অবৈধ ড্যাপো পদে বছরের পর বছর আসীন ড্যাপো আব্দুল লতিফ চোরাচালানে সহায়তা করে আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। তার একটি সিন্ডিকেট বাহিনীর মাধ্যমে তিনি তার চোরাচালানি রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। সোনা পাচারের দায়ে গ্রেফতারকৃত জামাল পাটোয়ারিকে তিনি দীর্ঘদিন আগলে রেখেছেন বলে শোনা যায়। বিলুপ্ত যাত্রী সেবার কামালকে তিনি পাচারে সহায়তা করে থাকেন বলেও শোনা যায়। সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে ডেপো লতিফের অবৈধ ইনকাম সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্ত সিএএবির প্রশাসন ডেপো লতিফকে শাহজালাল বিমানবন্দরের এই অবৈধ পদ থেকে না সরিয়ে তাকে দুর্নীতি করার সহায়তা করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তার অবৈধ ইনকামে রাজধানির কলাবাগান,ধানমন্ডি এলাকায় একাধিক ফ্লাট রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে চট্রগ্রাম বিমানবন্দর কার্গো ব্যবস্থাপক ওমর শরিফ জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
বিষয়টি জানতে সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক প্রশাসন মো. সাইফুল ইসলামের সেল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ক্রমশ