সিএএবি : এক শেরজান আলি মুক্তিযোদ্ধা সনদে জামায়াত-বিএনপি সিন্ডিকেড সদস্যদের নিয়ে লিজের বাইরে শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে সিএএবির সম্পত্তি জবরদখল করে হোটেল গড়ে তুলে কয়েকশত কোটি টাকার বাণিজ্য : সওজ-রেলওয়ে-সিএএবি প্রশাসন ‘কম্ভুকনর্’ : দুদকের নজরদারি প্রয়োজন

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনের অবসরপ্রাপ্ত ফোরম্যান শেরজান মুক্তিযোদ্ধা সনদকে পুজি করে বিএনপি- জামায়াতের সিন্ডিকেড সদস্যদের নিয়ে সম্পত্তি ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা অফিসের নামে ১ বিঘা সম্পত্তি দখলে নিয়ে হোটেল বাণিজ্য আর আশকোনা স্থায়ী হজ¦ ক্যাম্পের সামনে কয়েকবিঘা সম্পত্তির ওপর গড়ে তুলেছেন বহুতল অট্রালিকা ও কাচাবাজার। এ সব স্থাপনা থেকে এককালিন কয়েকশ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।্ আর এ মাকের্টের পাশে কাচাবাজার বসিয়ে চাদাবাজি করছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। শুধু তাই নয় সিএএবির কাওলা স্টাফ কোয়ার্টারের মন্দিরের পাশে মেলা বসিয়ে মেলার নামে জুয়ার আসর বসাচ্ছে আর মেলাকে কেন্দ্র করে দোকান বসিয়ে চাদাবাজি করছেন বলেও অভিযোগ। সিএএবির অবসরপ্রাপ্ত এই ফোরম্যান কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি সেজেও তিনি চাদাবাজি করছেন বলে সিএএবির কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মচারীরা জানান। তার ব্যবসাই হলো মার্কেটের বিভিন্ন দোকান., বিমানবন্দর গোরচত্বর হোটেল ওয়ান্ডার-ইন থেকে চাদা আদায় আর হোটেলের পাশে ফুটে হকার বসিয়ে , ফলের মার্কেট বসিয়ে চাদাবাজি করা। তার সাথে স্থানীয় রাজনেতিক শেল্টার জুটেছে, তারা তাকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ওঠেছে শাহজালাল বিমানবন্দরের কি পয়েন্টে, সড়ক ও জনপথের সড়কের কোল ঘেষে গড়ে তোলা হোটেল ওয়ান্ডার-ইনের কারণে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি করে সিএএবি ও রেলওয়ের জায়গা দখল করে হোটেল ও অফিস গড়ে তুললো কিভাবে ? প্রশাসন কয়েকবার ভেংগে-গুড়িয়ে দেয়ায় উদ্যোগ নিলেও তা বার বার ভেস্তে গেছে। শেরজান আীলর সাথে সিএএবির সাবেক সহকারি পরিচালক প্রশাসন ইসমাইল হোসেন তালুকদার জড়িত আছেন- যা তদন্তে বের হয়ে আসবে। আরো আছেন জিনের বাদশা বলে জনশ্রুতি হাজি আব্দুর রউফ- যিনি ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। হাল ধরেছেন ওনার ছেল্ ে। শেরজান আলির সাথে আরো আছেন বিএনপির বৃহত্তর উত্তরা থানা বিএনপির নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক , সাহাবুদ্দিন সাগর, জামায়াত-জাপা কানেকটেট জামিলুল হক ওরফে বকুল। এরা একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেড। শেরজান আলি মুক্তিযোদ্ধা নামে সিএএবির জমি নাকওয়াস্তে লিজ নিবে আর সিন্ডিকেড সদস্যরা টাকাপয়সা খরচ করে সেখানে ব্যবসায়িক প্রত্ঠিান গড়ে তুলবে। বর্তমানে এভাবেই চলছে। মুক্তিযোদ্ধা শেরজান আলির নামে সম্পত্তি লিজ যতটুকু তার ১০ গুন দখল করে হোটেল, মাকেট, গার্মেন্স ফ্যাক্টরি গড়ে তুলে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন। যদিও পরে এ জবর-দখল সমন্ধয়ের প্রক্রিয়া হয়। সিএএবির সম্পত্তি বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগের বড় কর্তারা এখান থেকে সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও শোনা যায়।এ ক্ষেত্রে দুদকের নজরদারি প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন।
আরো প্রশ্ন ওঠেছে সিএএবির কর্মচারি শেরজান আলিকে কেন সিএএবি কর্তৃপক্ষ দুই দুই দুটি স্থাপনায় কয়েকশত কোটি টাকার সম্পত্তি লিজ দিলো ? একটি যদি অফিসের জন্য দিয়ে থাকে তাহলে সেখানে হোটেল ওয়ান্ডার-ইন গড়ে উঠল কিভাবে ? আর লিজ শর্ত ভংগ করার পরও কেন তা ফেরত নিচ্ছে না সিএএবি ? তাহলে সিএএবির স্বার্থ কোথায় ? সওজ-ই বা কেন চোখ বুঝে আছে ? রেলওয়ে কর্তৃপক্ষই বা ‘কম্ভুকনর্’ কেন ?
বকুল কথা : এটা ভারতের ধারাবাহিক নাটকের নাম না। বকুল এক রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক ব্যক্তির নাম। এক সময় চুনুপুটি ছিলেন , বর্তমানে বিত্তবৈভবের মালিক। ৯০’র দশকে বকুল-মাইনুদ্দি- খোকন জিয়া বিমানবন্দরের (বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর) আগমনি কনকোর্স হলে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ল্যাগেজ রেখে ভাড়া নিতো। বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস, বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। পাশে ছিল ডলির দোকান।্ এভাবেই চলছিল বকুলের লাইফস্টাইল। ্এর আগে বকুলের নবাবপুরে একটি দোকান ছিল। ভাই বিমানে চাকরির সুবাধে বিমানবন্দরের আশকোনায় চলে আসেন। বন্ধু জুটে খোকন- ,মাইনুদ্দি। খোকন-মাইনুদ্দি ব্যবসায় মার খেলেও বকুলকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। শেরজান আীল আর জিনের বাদশা তাকে ‘বাদশা’ বানিয়ে দিয়েছে। তার স্ত্রী জামায়াতের ‘মহিলা রোকন’ বলে এলাকাবাসিরা জানান। ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতি নিয়ে এক সময় বকুল খোকনকে দোষারূপ করতো। বলতো যে কোল বালিশ থেকে ডলার বের হয়। এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও হয়েছে।