বিশেষ সংবাদদাতা :দুর্নীতির মামলায় সিভিল এভিয়েশনের ঠিকাদার শাহাবুদ্দিন, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পিএন্ডডিকিউএস শহিদুল আফরোজ, নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাদ দে, অবসরে যাওয়া সহকারি প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র রায়সহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য জেনারেটর ক্রয়ে দুর্নীতির দায়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে কক্সবাজারের একটি আদালত।
দুপুর একটার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে বিচারক খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ জামিন তাদের নামঞ্জুর করে অভিযুক্তদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলেন- মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং প্রকল্পের ঠিকাদার শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমান বন্দরের সাবেক ব্যবস্থাপক হাসান জহির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ।
মামলার আরেক অভিয্ক্তু কক্সবাজার বিমান বন্দরের সাবেক সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডল আদালতে হাজির হননি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য একটি ৩০০ কেভিএ জেনারেটর ক্রয়ের নিমিত্তে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার যোগসাজস করে জেনারেটরটি ক্রয় না করেই ক্রয় দেখিয়ে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৬ জানুয়ারি দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চল-২ এর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় প্রকল্পের ঠিকাদার মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক ব্যবস্থাপক হাসান জহির, নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ এবং কক্সবাজার বিমান বন্দরের সাবেক সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডলকে অভিযুক্ত করা হয়।
দুদকের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম জানান, দুর্নীতির এ মামলায় উচ্চ আদালত অভিযু্ক্তদের চার সপ্তাহের অন্তবর্তীালীন জামিন দেন। এ সময় তাদেরকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। উচ্চ আদালতের অ্র্ন্তবতীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাদের পাঁচজন কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নূরল মোস্তফা মানিকের নেতৃত্বে ২০ জনের অধিক আইনজীবিী শুনানি করে এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন দুদকের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম। তাকে সহযোগিতা করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এদিকে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর পর সিভিল এভিয়েশানের পরবর্তী করনীয় কি- এ নিয়ে মঙ্গলবার বিশেষ বৈঠক হয়।
উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত একশ শতকের কাগজ ‘একুশে বাতা’য় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সিএএবি কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে দুইদফা তদন্ত কমিটি গঠন করে।
দুর্নীতির আরেক মামলায় সিএএবির নির্বাহী প্রকৌশলী আছির উদ্দিন জেল খেটে বর্তমানে জামিনে আছেন।
