বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ কাজে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) সিদ্ধান্তহীনতা, অদূরদর্শিতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক গাইডলাইন না দিতে পারার কারনে ১২৪ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেয়ার পর ৩০ মাসের বদলে ৬২ মাস অতিক্রান্ত হয়ে ৬৩ মাস রানিং হলেও এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এ দিকে ঠিকাদারকে শতকরা ১৫ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে সরকারের আরো ১৮ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে। অন্য দিকে সময়মত নির্মাণ কাজ শেষ না করার কারনে পিডি প্রকৌশলী মো. মোকাব্বর আলি কর্তৃক দাপ্তরিক চিঠিতে ঠিকাদারকে শতকরা ১০ ভাগ হারে ফাইনের টাকাও আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ হিসাবে ফাইনের ১৫ কোটি টাকাসহ সরকারকে আরো ৩২ কোটি টাকা লোকসান দিতে হবে। ফাইনের ব্যাপারে ঠিকাদার কর্তৃক উল্টো চিঠিতে পিডির সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করেছেন। সব মিলে ঠিকাদারকে আগামি ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে অর্থবছর শেষে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর কালচার অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ডেটলাইন ২৬ থেকে ২৮ জুন প্রায় ১শ’ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে সিএএবির সূত্রে জানা গেছে। এরমধ্যে ঢাকার বাইরের বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ অফিস সিভিল এভিয়েশনের সিভিল ডিভিশন-৩-এ এক কার্যদিবসে অর্থাৎ গত ২৮ জুন প্রায় ১শ’ ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২৬, ২৭ জুনও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাকডেটে কার্যাদেশ দেয়া অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, এক কার্যদিবসে শতাধিক ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার হয় গত অর্থবছরে । কাজগুলোর মুল্যায়ন করা ছিল। কিন্ত সিএএবির চেয়ারম্যান ঠিকাদারি কাজের ফাইলগুলোতে অনুমোদন না দেয়ার কাজের ফাইলগুলো দীর্ঘদিন মুখথুবড়ে পড়ে ছিল। এই কাজগুলোই একত্রে ব্যাকডেটে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাকডেটে কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে প্রকৌশলীদের পছন্দের ঠিকাদারদের- এমন অভিযোগ করেছেন কার্যাদেশ না পাওয়া ঠিকাদাররা। এ সব ঠিকাদাররা অভিযোগ করছেন শতকরা ১০ ভাগ ঘুষ দেয়ার পরও আমাদের কাজগুলোর কার্যাদেশ দেয়া হলো না। এর জের হিসেবে সিএএবির একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঠিকাদাররা গত ১ জুন লান্ঞিতও করেছেন।
সূত্র জানায়, ব্যাকডেটে ফাইল স্বাক্ষর করে শত শত কাজের কার্যাদেশ দেয়ার নামে সরকারি টাকা লুটপাটের মহড়া চলছে সিএএবিতে। দুদক এ দিকে নজরদারি করছে। দুদকের অনুসন্ধানি টিম সিএএবির দিকে কড়া নজর রাখছে। ব্যাকডেটে সই করা অনিয়ম। কিন্ত সিএএবি কর্তৃপক্ষ প্রায় ১শ’ কোটি টাকার ঠিকাদার কাজের কার্যাদেশ দিয়ে বড় অনিয়ম করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
