সিভিল এভিয়েশন : পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে না পারায় দুই পদে নিয়োগ বাতিল : ভুয়া সনদের অভিযোগে আটককৃত সেই ৬ জনকে নিয়োগ! ছিটকে পড়েছে হত্যা মামলার আসামি আতাউর

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের নিয়োগ কেলেংকারি যেন পিছু ছাড়ছে না। গত মে মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুটি পদে পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে না পারায় দুটি পদে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। আর গত নভেম্বরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিএএবি কর্তৃপক্ষ ভুয়া সনদে ভাইভাবোর্ডে হাজির এবং লিখিত পরিক্ষায় প্রক্সির অভিযোগে ৬ জনকে আটক করে, মুচলেকা দিয়ে ছাড়ার পর আবার সেই ৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছে সিএএবি কর্তৃপক্ষ। কিন্ত ছিটকে পড়েছে হত্যা মামলার আসামি আতাউর। হত্যা মামলার এফআইআরভুক্ত আসামি আতাউরকে নিরাপত্তা ‘অপারেটর’ পদে চাকরি দিতে পারেনি। খবর সিভিল এভিয়েশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে, গত মে মাসের কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোটা অংকের লেনদেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বাধ সাধে দুটি পদে দুজনকে নিয়োগ নিয়ে। পছন্দের দুজনকে নিয়োগ দিতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ওই পদে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়। পদ দুটি হলো : হিসাব সহকারি এবং ইনজিন চালক। এই দুটি পদে সব একাডেমিক পরিক্ষায় প্রথম বিভাগ, চাকরির লিখিত পরিক্ষায় ভাল করা- ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সনদধারি রওশন আরা রুমি( পিতা- মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকার), ক্রমিকনং ২৫০২৯ নিয়োগ না দিয়ে ভুয়া আনসার জান্নাতুল ফেরদৌস জিয়া, পিতা- জালাল আহমদ, ক্রমিকনং ২৫০৪ কে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া করে, শেষ পর্যন্ত নিয়োগ দিতে না পেরে ওই পদে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়।
একই প্রক্রিয়ায় ইনজিন চালক পদে মো. আবুল কালাম,পিতা-মো. বাচ্চু শেখ, ক্রমিকনং-২৫৪০৪ ট্রিপল ‘ইেিত’ পারদর্শি- যাকে ইস্টওয়েস্ট বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মেধার জন্য ফ্রি ট্রিপল ইেিত বিএসসি করাচ্ছে – তাকে ওই পদে নিয়োগ না করে অদক্ষ, অভিঙঘতার সনদ না থাক এবং শর্ত দেয়ার পরও অভিঞ্ঘতার সনদ ছাড়া ভাইভাবোর্ডে হাজির হওয়া কাজী ফাহাদ, পিতা-কাজী আজমল হোসেন, ক্রমিকনং-২৫৪০৩কে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পেরে ওই পদে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়। অদ্যাবধি তা বহাল আছে। এ ব্যাপারে মূখ্য ভুমিকা পালন করেন সদ্য বিদায় হওয়া সদস্য প্রশাসন। এ নিয়ে পরিচালক প্রশাসনের সাথে সদস্য’র দ্বন্ধ দেখা দেয়। বলির পাঠা হয় পরিচালকের পিএ হানিফ। তাকে বলিরপাঠা বানিয়ে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে- সব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, অথচ দুটি পদে কেন তা হলো না? কেন ওই দুই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াই বন্ধ করা হলো? যদিও সিএএবির কর্তৃপক্ষের নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তিতে এমন শর্ত হয়তো জুড়ে দেয়া আছে যে, কোন কারণ ছাড়াই নিয়োগ বাতিল করা যাবে। কিন্ত এ ক্ষেত্রেও এ শর্তের লংঘন হয় যখন দুটি পদে নিয়োগ বন্ধ করা হলো। তাহলে ওই দুই পদের জন্য আবার নিয়োগ বিঙ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে সিএএবির অর্থ খরচ করে? এ ক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
সূত্রমতে, গত নভেম্বরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার একজন হত্যা মামলার এফআইআরভুক্ত আসামিকে লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে ভাইভা বোর্ডে ডাকার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। শেষাবধি এ ব্যপারে প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা ভেস্তে যায়। এ প্রক্রিয়ায় ভাইভাবোর্ডে ভুূয়া সনদধারি ৬ জনকে আটক করে সিএএবির নিরাপত্তা বিভাগ। ঘটনার দিন ওই ৬ জনকে সিএএবির সদর দপ্তরের নিরাপত্তা বিভাগে দিনভর আটকে রাখার পর রাতে মুচরেকা দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে সদস্য নিরাপত্তা এবং সদস্য প্রশাসনের (বিদায়ী) সাথে হটটক পর্যন্ত হয়- যা সিএএবিতে চাউড় হয়ে যায়। বিষয়টি সংস্থার চেয়ারম্যান পর্যন্ত গড়ায়। কিন্ত আশ্চযের বিষয় হলো, এতোকিছুর পরও ওই ৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছে সিএএবি কর্তৃপক্ষ বলে সিএএবিতে কানাঘুষ চলছে। বলাবলি চলছে যাদেরকে ভুয়া সনদের জন্য আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হলো সেই তাদেরকেই আবার নিয়োগ দেয়া হলো।
এ ব্যাপারে জানতে সদস্য নিরাপত্তার সেলফোনে কথা হলে তিনি তার অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।