ডেক্স রিপোর্ট : এবার এডিনবার্গ কর্তৃপক্ষের দেওয়া খেতাব হারাতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও এককালের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। জানা গেছে, রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তার ‘ফ্রিডম অব সিটি’ খেতাব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড, গ-াসগোম নিউক্যাসেল-এর ধারাবাহিকতায় এবার এডিনবার্গ কর্তৃপক্ষ তার এই সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সু চির ক্ষেত্রে তা হবে ৭ম সম্মাননা হারানোর ঘটনা। খবর দি গার্ডিয়ান।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর সুরে ডি-ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় আর তাদের ওপর নিপীড়নের ভয়াবহতা অস্বীকার করে আসছেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারেও তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে বাংলাদেশের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে আসছেন। গত বছরেই নোবেলজয়ী বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু মিয়ানমারের সামরিক ক্ষমতার সঙ্গে সু চির আঁতাতের ইঙ্গিত দেন। প্রশ্ন তোলেন উচ্চ পদে আসীন হওয়ার কারণেই সু চি নীরব কিনা। বলেন, যদি তাই হয়, তবে এই নীরবতা অনেক চড়া দামে কেনা।
জাতিগত নিধন শুরুর পরপরই একের পর এক সম্মাননা হারাতে শুরু করেন সু চি। এবার সেই ধারাবাহিকতায় এডিনবার্গের দেওয়া সম্মাননা হারাতে যাচ্ছেন তিনি। ২০০৫ সালে সু চিকে এই সম্মাননা দেয় এডিনবার্গ কর্তৃপক্ষ।
গত বছর নভেম্বরে এডিনবার্গ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সু চিকে চিঠি লেখা হয়। চিঠিতে তার অভাবনীয় নৈতিক শক্তি আর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে তার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সু চির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়ার পর তার সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
