স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার সনদ পায়নি ভোলার শহীদ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার !

ভোলা সংবাদদাতা : স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি, গেজেটভুক্ত এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সনদ মিলেনি শহীদ যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য স্বর্গীয় রজনী কান্ত দাস, তার ছেলে প্রিয় লাল দাস এবং প্রিয় লাল দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস এবং প্রিয় লাল দাসের ভাই হর লাল দাস, জহর লাল দাসের কপালে। এরই মধ্যে রজনী দাস, প্রিয় লাল দাস এবং কল্পনা রানী দাস প্রয়াত হয়েছেন। প্রিয় লাল দাসের ভাই জহর লাল দাস এবং ছেলে প্রতুল চন্দ্র দাস তাদের শহীদ পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় ৪৬ বছর ঘুরেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার ঠাকুরদাদা, বাবা প্রিয় লাল দাস, মা কল্পনা রানী দাস এবং জীবিত কাকা জহর লাল দাসের নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেনি। আজও প্রিয় লাল দাসের ছেলেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের যারা ৭১-এ সক্রীয় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে গর্জে উঠেছিল তাদের নাম মুক্তিযুদ্ধের তালিকাভুক্ত ও সনদের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এ ব্যাপারে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রিয় লাল দাসের ছেলে প্রতুল চন্দ্র দাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেছেন। আবেদনের বিষয়বস্ততে বলা হয়েছে, ‘ভোলা জেলাধীন লালমোহন উপজেলার ৯ নং লর্ডহার্ডিন্ঞ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বর্গীয় রজনী কান্ত দাস,প্রিয় লাল দাস- এর পরিবারকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে অন্তভ’ুক্ত করার জন্য আকুল আবেদন।’
জানা যায়, ৭১ সালের জুন মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রজনী কান্ত দাস, প্রিয় লাল দাস, হর লাল দাস, জহর লাল দাস উভয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সহযোগিতা করেছেন প্রিয় লাল দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস। গ্রামটি হিন্দ্র অধ্যুষিত হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে পাক বাহিনীর দোসর রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় আগস্ট মাসর দিকে রজনী কান্ত দাস, প্রিয় লাল দাসকে পাক বাহিনী ধরে ভোলা লন্ঞ ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে নৃশংসভাবে রজনী কান্ত দাসকে বেয়নেট দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রিয় লাল দাসকে গুলি করে। কিন্ত গুলি তার বুকের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। ভাগ্যক্রমে প্রিয় লাল দাস বেচে যান। তৎকালিন সময়ের সংসদ্য সদস্য মরহুম মোতাহার উদ্দিন মাস্টার স্বাধীনতা-উত্তর প্রিয় লাল দাসের বাড়িতে এসে সমবেদনা জানান এবং এ পরিবারটিকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আশ^াস দেন। পরবর্তী সংসদ সদস্যদের কাছে ধরনা দিয়েও আজও প্রিয় লাল দাস পরিবারটির ভাগ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি পায়নি।
প্রিয় লাল দাসের ছেলে প্রতুল চন্দ্র দাস জানান, আমাদের পুরো পরিবার ‘৭১ সালে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে আমার ঠাকুর দাদা শহীদ হন এবং আমার বাবা পাক সেনাদের গুলি খেয়ে ভাগ্যক্রমে বেচে গেলেও আজও আমরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি পাইনি। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। তাই আমরা আশা করছি, এ সরকার আমাদের পরিবারকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি দেবেন।