১০০০ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত সেই স্বঘোষিত নেতা ফরিদের নেতৃত্বে সিএএবির চেয়ারম্যানকে বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বরন করে বদলিকৃত সদস্য ( প্রশাসন)কে বহাল রাখার তদবির : মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিরীহ কর্মচারিরা : ৪ অক্টোবর সদস্য (প্রশাসন) বদলি হলেও এখনও বহাল তবিয়তে

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন বিভাগের কি-পয়েন্টে বসে থাকা সরকারের অতিরিক্ত সচিব, সদস্য (প্রশাসন) মো. হেমায়েত হোসেন এবং সরকারের আরেক উপসচিব, পরিচালক ( প্রশাসন)কে গত ৪ অক্টোবর বদলি করা হলেও অদ্যাবধি তারা সিএএবি থেকে বিদায় নেননি, বহাল তবিয়তেই আছেন।
এ দিকে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান ‘আইকাও’ সনদ নিয়ে গত ১২ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরনের পর ১০০০ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত স্বঘোষিত নেতা ফরিদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে বরন করে সদ্য বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসন)কে বহাল রাখার তদবির করেছেন। এটা নাকি স্বঘোষিত নেতা ফরিদের প্রাণের দাবি। সিএএবির চেয়ারম্যান কি স্বঘোষিত নেতা- যিনি ১০০০ হাজার ইউএস ডলার ও ৫টি সিংগাপুর এয়ার লাইসেন্সের টিকিটসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন, যার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, দোষী সাব্যস্ত করে, যার বিরুদ্ধে মামলা হয়- সেই নেতার তদবির আমলে নিবেন- নাকি বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসনের ) সিএএবি থেকে রিলিজ দেবেন- এ প্রশ্ন নিরীহ কর্মচারিদের।
এ দিকে সিএএবি কর্তৃপক্ষ বদলিকৃত দুই পদস্থ কর্মকর্তাকে সিএএবি থেকে রিলিজ করেননি। ফলে বদলিকৃত সদস্য( প্রশাসন)ই সিএএবির গুরুত্বপূর্ন মিটিংয়ে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর মিটিংয়ে বলছেন যে, আরো কিছুদিন থাকলে তিনি আরো ভাল করতে পারতেন কর্মচারিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। কিন্ত অধিকাংশ কর্মচারি তার প্রশাসনিক কার্যকলাপে মনোক্ষুন্ন। অনেক কর্মচারির পেনশন আটকে গেছে বদলিকৃত এই সদস্য (প্রশাসন)-এর কলমের ছোয়ায়। এই কর্মচারিরা মানবেতর দিনযাপন করছেন। তাই নীরিহ কর্মচারিরা এই সদস্য প্রশাসনের বদলিতে খুশি হয়েছেন। কিন্ত ফরিদ নামের একজন স্বঘোষিত কর্মচারি নেতা সদস্য (প্রশাসন)কে সিএএবিতে বহাল রাখার তদবির করছেন। তার অনুসারি কয়েকজনকে নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তার অফিস কক্ষে দেখা করার প্রক্রিয়া করছেন। কিন্ত এ যাত্রায় নাকি পিএস টু চেয়ারম্যান এডি কামরুজ্জামান তার গতিরোধ করছেন। সিএএবির কর্মচারিদের কেনাকাটার কমিটিতে এই স্বঘোষিত নেতা ফরিদের নাম রাখা হয়েছে। আর এ সুবাধে কর্মচারিদের জুতা কেনার টেন্ডার এ্ই স্বঘোষিত নেতা বাগিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন। সহকারি পরিচালক প্রশাসন-২ এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ক্রয় কমিটির সদস্য থাকার কারনে ফরিদ আমার কক্ষে বার বার আসছেন।
গত জুনে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়েও কথা ওঠেছে। প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বলির পাঠা বানিয়ে পরিচালক (প্রশাসনের) পিএ হানিফকে চট্রগ্রাম বদলি করা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা করা হয়নি।
বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসন)-এর আমলে গত জুনে বিশেষ মহিলা কোটায় ও পংগু কোটায় হিসাবরক্ষক পদে ২ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিএএবির ডিভিশন-৩-এ হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ফারজানার দাপটে সবাই আতংকিত। ইতিমধ্যেই তার সাথে এক প্রকৌশলীর বাকবিতন্ডা হয়েছে। চাকরির বয়স ৩ মাস অতিবাহিত হতে না হতেই ফারজানার চাকরি নাকি স্থায়ীকরন করা হয়েছে, তাকে কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারে অফিসারদের মতো ডরমেটরি-১ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
একটি সরকারি আদেশ বাতিল করে আরেকটি সরকারি আদেশে টিএ/ডিএ দিয়ে জাতির জনকের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও ফাতেহা পাঠের ভ্রমণের নামে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করে ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সহকারি পরিচালক প্রশাসন-২ রফিকুল ইলাম ওই মন্ঞুরি আদেশে সই করেছেন। ফরিদ নামের একজন প্রযুক্তি সহকারি ভ্রমণ সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ভ্রমণের প্রতিবাদও করেছেন। ভ্রমণে অংশ নেয়া ২৯ সদস্য টিম দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করে সচিত্র ভ্রমণ কাহিনী তাদের ফেইজবুকে ধারন করেছেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তারা আবার ফেইজবুক আইডি পরিবর্তনও করেছেন।
সামনে একটি বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগে বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসন) সিভিল এভিয়েশনে থেকে যেতে চান না। আর এ জন্যই বদলির প্রায় পক্ষকাল পরও তিনি সিভিল এভিয়েশন থেকে বিদায় নিচ্ছেন না । আর সিএএবি কর্তৃপক্ষও সদস্য ( প্রশাসন)কে সিএএবি থেকে রিলিজ দিচ্ছে না। প্রশ্ন ওঠেছে সিএএবির সদস্য (প্রশাসন) পদটি খালি নাকি বদলিকৃত সদস্যই থেকে যাচ্ছেন।
কিন্ত সিএএবিতে কর্মরত নীরিহ কর্মচারিরা বলছেন সদস্য (প্রশাসন) সিএএবি থেকে যত তাড়াতাড়ি যাবেন ততই মংগল। এ ব্যাপারে তারা বিমানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।