সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ঢাকা কাস্টমস হাউজ : ডিএম কি সোনা গায়েবের হাতিয়ার : ৩ জন ধরা খেলেও উর্ধতন কাস্টমস কর্মকর্তারা কি ধরাছোয়ার বাইরে?

স্টাফ রিপোর্টার : স্বর্ন জব্দ করার পর ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ জব্দকৃত সোনা কোন কোন চালানে মামলা করে না, গত ১৭ ও ১৯ এমন ঘটনা ঘটেছে। ফৌজধারি ধারায় মামলা না করে ডিএম করে সোনা মূল্য্যবান গুদামে রেখে দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে জব্দকৃত সোনার দাবিদার থাকে না, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আবার বিমান থেকে পরিত্যক্ত সোনা উদ্ধারের পর কাস্টমস মামলা করে না। কাস্টমসের যুক্তি মামলা করলে সংশ্লিষ্ট বিমান জব্দ করতে হবে, বিমান জব্দ করলে ফ্লাই করবে কিভাবে? আর এ ভাবেই জব্দকৃত সোনা ডিএম করে গুদামে রেখে দেয়া হয়, অনেক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনা জমা দেয়া হয় না। আর এ সুযোগে অপরাধীরা স্বর্ন হাওয়া বা গায়েব করে দেয়।


কাস্টমস হাউজে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর ্আগেও ১০ কেজি সোনা গায়েবের দায়ে এসি সালা উদ্দিন রিপন এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবর রহমান সরকার মামলার রায়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। আবার কোন কোন গুদাম কর্মকর্তা সোনা হাওয়া করে দিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তার আর্শিবাদে পার পেয়ে গেছেন। এবারও এমন ঘটনা ঘটতে চলেছিল, এক উর্ধতন কর্মকর্তার আর্শিবাদে গুদাম কর্মকর্তা সাহেদ প্রায় পার পেয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্ত বিধি বাম! ওই কর্মকর্তার নির্দেশে দেড় কোটি টাকার স্বর্ন কিনে গুদামে রাখার পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। এবার ৫৫ কেজি সোনা বায়তুল মোকাররম , তাতিবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। ডিবি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আরবেন কিনা- তা অনেকের প্রশ্ন।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন মিডিয়া তোলপাড় হয়েছে। আমাদের সময়, আজকের পত্রিকা, কালবেলায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

লুটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে বায়তুল মোকাররমে:

­হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমসের গুদামে সুরক্ষিত লকার থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ লুটের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের স্বর্ণ মার্কেটে সেগুলো বিক্রি করেছে লুটেরার দল। বায়তুল মোকাররমের চোরাই স্বর্ণ বেচাকেনায় জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে লুটেরাদের মধ্যে দুজনের। মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি চক্রের দুই সদস্য একাধিকবার বায়তুল মোকাররমে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিংও করেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, এ কা-ে কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম শাহেদ ও সিপাহি নিয়ামত হাওলাদার। এ তিনজনকে আজ বুধবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৫৫ কেজি স্বর্ণ লুটের কা-ে অভিযান চালানো হয়েছে সন্দেহভাজনদের বাসায়। তবে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত লুট হওয়া কোনো স্বর্ণ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। থানাপুলিশ থেকে গতকাল মামলার তদন্ত হস্তান্তর করা হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় এমন সুরক্ষিত এলাকা থেকে স্বর্ণ লুট করা হয়েছে। ঊর্ধবতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া দীর্ঘসময় ধরে এভাবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ লুটপাট করা সম্ভব নয়। লুটের নেপথ্যে কাস্টমসের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে রাঘববোয়ালদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো তথ্য বের করতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম শাহেদ এবং সহযোগী হিসেবে সিপাহি নিয়ামত হাওলাদারই স্বর্ণ উধাও হওয়ার কা-ে পুলিশের প্রধান টার্গেট। সন্দেহভাজন এ তিনজন ঘটনার আগে-পরে এবং ঘটনার দিন বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়েছেন; যেটা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদকালেও বিভিন্ন রকম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। এসব বিবেচনায় শহিদুল ও শাহেদ এ ঘটনায় জড়িত বলে আমরা ধারণা করছি। এর সঙ্গে ছিলেন সিপাহি নিয়ামত হাওলাদারও। ডিউটির সময় ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাদের এয়ারপোর্ট চত্বর ও বাইরে একসঙ্গে অবস্থান করার বিষয়টি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বর্ণ কোথায় বিক্রি করেছে?- এমন প্রশ্নে ডিএমপির ডিসি বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। আমরা স্বর্ণের গন্তব্য প্রযুক্তিসহ সোর্সের মাধ্যমে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। যেসব জায়গায় স্বর্ণ বেচাকেনা হয়, সেসব জায়গায় খোঁজ নিচ্ছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টমস গুদামের স্বর্ণের ভল্টে প্রবেশ করতে হলে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ও গেটকিপিং পার হতে হয়। শুরুতে পাঞ্চ কার্ড। এর পর কলাপসিবল গেট। সেই গেটে দেহতল্লাশি হয়। স্বর্ণ বা বুলিয়ন ভল্ট পর্যন্ত ৩টি ভল্টের দরজা রয়েছে। আর সেই ভল্টে প্রতিটি আলমারির পৃথক চাবি। এসব চাবি থাকে সিন্দুকে। আর এর দায়িত্বে থাকেন মাত্র দুজন। রাতে ভল্ট বন্ধ করার পর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমতাবস্থায় ঊর্ধŸতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া স্বর্ণ চুরি এক কথায় অসম্ভব!

পুলিশের ডিসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, গোডাউন ছিল অবহেলিত অবস্থায়। অস্থায়ী গোডাউনে তারা স্বর্ণ রেখেছে। পাশেই মূল্যবান পণ্য রাখার ব্যবস্থা থাকলেও রাখা হয়নি। উপরন্তু তিন মাসের মধ্যে স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও জমা দেওয়া হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণ লুটের ঘটনায় সন্দেহভাজনরা ডিউটি টাইমের বাইরেও দীর্ঘসময় বিমানবন্দরে অবস্থান করতেন। বিমানবন্দরের বাইরে তারা একত্রে মিটিং করেছেন। তাদের মিটিংয়ে চোরাই স্বর্ণের ক্রেতারা ছিলেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সন্দেহভাজন দুই কাস্টমস কর্মকর্তা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। তারা স্বর্ণ লুটের সুযোগ দিতে ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে রেখেছিলেন। এসব ঘটনায় এখন কাস্টমস কর্মকর্তারা মুখ খুলছেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও নীরব।

ঢাকা কাস্টমসের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে স্বর্ণ লুটের বিষয়টি জানাজানি হয় গত রবিবার। এ ঘটনায় চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও চার সিপাহিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। শুল্ক বিভাগ একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঢাকা কাস্টম হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি ৫০১ গ্রাম সোনা খোয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি। সাধারণত বিমানবন্দরে যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা সোনার বার, অলংকারসহ মূল্যবান জিনিস এই গুদামে রাখা হয়। গুদামে রক্ষিত স্বর্ণের হিসাব মেলাতে গিয়েই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চক্র সুকৌশলে কাস্টম হাউস থেকে জব্দ স্বর্ণ সরিয়ে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে সরানো হয়েছে, নাকি একবারেই গায়েব করা হয়েছে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সঙ্গে একটি বড় এবং শক্তিশালী চক্র জড়িত এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মামলা ডিবিতে হস্তান্তর : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমস থেকে স্বর্ণ চুরির মামলা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের এক নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব থানাপুলিশ থেকে ডিবিকে দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব কমিশনারের নির্দেশে ডিবিকে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ডিবি এটি তদন্ত করবে।

সোনা চোরাচালানিদের রক্ষায় কৌশলী কাস্টমস:

মামলা না করায় আড়ালেই থেকে গেলেন দুই চালানে সাড়ে ৪৮ কেজি সোনা আনা ব্যক্তিরা। গত মে ও জুলাই মাসে ওই সোনা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি উড়োজাহাজ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আড়ালে রাখতেই মামলা, এমনকি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়নি। ওই দুটি চালানের সঙ্গে প্রভাবশালী কয়েকজন বৈধ সোনা ব্যবসায়ীর যোগসূত্র থাকার কথা শোনা যায়।

অবশ্য কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই দুটি উড়োজাহাজের একটি বিদেশি এয়ারলাইনসের এবং অন্যটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। মামলা করলে উড়োজাহাজ আটক করতে হয়। বিদেশি উড়োজাহাজ আটক করলে জটিলতা তৈরি হয় বলেই হয়তো ঢাকা কাস্টম হাউস মামলা করেনি।

কাস্টমসের সূত্র বলেছে, বিমান-বন্দরে ঢাকা কাস্টম হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি ৫১ গ্রাম সোনা চুরির মামলার এজাহারে ১৯ মে গুদামে রাখা সোনারও উল্লেখ রয়েছে। ১৭ মে বিমান বাংলাদেশের একটি উড়োজাহাজ থেকে জব্দ করা ২৩ কেজি ৬৬০ গ্রাম সোনাও জমা দেওয়া হয়েছিল ওই তারিখে। সোনা আটকের ঘটনায় মামলা হলে ওই সোনা দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু মামলা না হলে শুধু আটক রসিদের (ডিএম) ভিত্তিতে গুদামে রাখায় তা গায়েব হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ১৭ জুলাই দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে কয়েকটি সিটের নিচ থেকে ২৫ কেজির কিছু বেশি কাঁচা সোনা জব্দ করে কাস্টমস। নীল স্কচ টেপে মোড়ানো ৯৮টি ডিম্বাকৃতির বস্তুর ভেতরে তরল আকারে থাকা এই সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এর আগে ১৭ মে মাসকট থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডে ২৩ কেজি ৬৬০ গ্রাম সোনার ২০৪টি বার কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ দুই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে সোনার চালান আটকের কথা গণমাধ্যমকে জানালেও মামলা বা জিডি করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মামলা না করার কারণ জানতে গত মঙ্গল এবং গতকাল বুধবার ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা আজাদকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তবে ২৮ আগস্ট কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন আলাপকালে আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, মামলার বিষয়টি তিনি দেখেন না। সোনাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় মামলা করলে উড়োজাহাজ দুটি আটক রাখতে হতো। বিদেশি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ আটক করলে নানা জটিলতা দেখা দেয়। হয়তো এ জন্যই মামলা করা হয়নি।

দুটি চালানের সাড়ে ৪৮ কেজি সোনা জব্দের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর থানার পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার তৌহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলা না হলে বিমানবন্দরের ভেতরের এসব বিষয়ে পুলিশের তদন্ত করার সুযোগ নেই।

সূত্র বলেছে, ১৭ জুলাই এমিরেটসের একই ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রীর কাছ থেকে তিন কেজির মতো সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় পরদিন মামলা করেছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজের ভেতরে একাধিক আসনের নিচে এভাবে সোনা রাখা যাত্রীদের পক্ষ সম্ভব নয়। উড়োজাহাজের লোকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ওই ফ্লাইটের সন্দেহভাজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে সোনাগুলোর মালিকের কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

সোনা আটক হলে ঢাকার বাইরের বিমানবন্দরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, জানতে চাইলে চট্টগ্রামের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বশির আহমেদ মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত সোনা আনলে ফৌজদারি মামলা করা হয় না। কাস্টমস আইন অনুযায়ী কমিশনার বরাবর মামলা করা হয়। তদন্ত হয়। তবে সোনার পরিমাণ ২০০-৩০০ গ্রামের বেশি হলে অবশ্যই ফৌজদারি মামলা করা হয়। আর পরিত্যক্ত অবস্থায় সোনা পেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হলেও মামলা দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের নিম্ন পদের একাধিক ব্যক্তি বলেন, কমিশনার বরাবর করা মামলার তদন্ত কখনো শেষ হয় না। আর হলেও সেই তদন্ত ধরে ফৌজদারি মামলা হয় না। বিমানবন্দর থানার কর্মকর্তারাও বলেছেন, কাস্টমসের করা তদন্তের পর কখনো থানায় মামলা করতে আসে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই দুটি উড়োজাহাজের ফ্লাইটসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দুটি চালানের ক্ষেত্রেই নেপথ্যের ব্যক্তিদের আড়াল করা হয়েছে। শুল্ক কর্মকর্তাদের অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অল্প সোনার বাহককে ধরে মামলা দিলেও নেপথ্যের ব্যক্তিরা আড়ালেই থাকে। আবার বড় বড় চালান ধরেও মামলা দেওয়া হয় না।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।