স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, দেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে, গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে ভোটারবিহীন সংসদে বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এ কালো আইন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অথবা যেকোনো মাধ্যমেই যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয় সে জন্যই এ ন্যাক্কারজনক কালো আইন তৈরি করা হলো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, এই কালো আইনে মানুষের সকল বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবধিকার লঙ্ঘনের মত অপরাধের বিস্তার লাভ করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এটি সংবিধান বিরোধী একটি আইন। মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন বিনা ওয়ারেন্টে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অফিস ঢুকে তল্লাশি, কম্পিউটারসহ সকল কিছু জব্দ এবং যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাধারণ মানুষও এ কালো আইনের থাবা থেকে রেহাই পাবে না। আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সংবিধান পরিপন্হী।
বিএনপির এ নেতা বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ধ্বংস করার সকল ষড়যন্ত্র সম্পন্ন করেছে সরকার। বন্দুকের নলের মুখে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য হওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বইতে উল্লেখ করেছেন। কিভাবে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, কিভাবে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
রিজভী বলেন, এসকে সিনহার বক্তব্যে আরও পরিষ্কার হলো বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েই সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবন্দি করেছে। সরকারের এক নম্বর মিশন কার্যকর করার পর এখন দুই নম্বর মিশন কার্যকর করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় রায় দেয়া হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ন্যায়বিচার নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশব্যাপী সংসদীয় এলাকায় বিএনপির নামে ভুয়া প্রার্থী তালিকা ছাপানো হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি চক্রান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিরাই মিথ্যা তালিকা প্রকাশে কাজ করছে। আমি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের বানোয়াট সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
