টাঙ্গাইলে বিধ্বস্ত যুদ্ধ বিমানটি ৩ হাজার পাউন্ড বোমা বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন : ২২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম : নিহত পাইলট দীপুর ঈশ্বরদীর বাড়িতে শোকের মাতম : বিমান বাহিনীর তদন্ত কমিটি গঠন

একুশে বার্তা ডেক্স : টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বিমান বাহিনীর টেলকি ফায়ারিং জোনে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দিপু (৪৭) নিহত হয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর  শুক্রবার বিকাল ২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ দুঘর্টনা ঘটে। নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঢাকায় নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতসহ উর্ধ্বতন কর্তপক্ষ। এ ঘটনায় বিমান বাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমেন্দ নাথ বিশ্বাস বলেন, গত ২২-২৭ নভেম্বর পর্যন্ত অরণখোলা ইউনিয়নে বিমান বাহিনীর মহড়া ছিল। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ বিমানের এফ-৭ পিজি নামক বিমানটি হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই পাইলট আরিফের মৃত্যু হয়।
আইএসপিআর সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম শাম্মী বলেন, বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজি মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি বেলা আড়াইটার দিকে উড্ডয়ন করে। এর কিছু সময় পর বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট একাই ছিলেন। বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি থেকে বের হলেও তিনি বাঁচতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই আরিফ আহমেদ প্রাণ হারান।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেলওয়ার হোসেন জানান, বিকেল ৩টার দিকে রসুলপুর ফায়ারিং রেঞ্জে বিমান বাহিনীর মহড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পাইলট বোমা নিক্ষেপ করে চলে যাওয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে কি কারনে দুঘর্টনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে থাকা অবস্থায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্তের পর বিমানটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। যার অংশ বিশেষ বনের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দীপু বিমান বাহিনীতে কমিশন পান ১৯৯৭ সালে। তার বাড়ি ঈশ্বরদীতে। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন তিনি।
সূত্র জানায়, চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তৈরি জে সেভেন যুদ্ধবিমানের বাংলাদেশি ভার্সন হলো এফ সেভেন বিজি। তৃতীয় প্রজন্মের থেকে আপগ্রেড করে এই বিমানকে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষমতাসম্পন্ন বানানো হয়েছে যা শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উড়ে। এটি চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে যা ২২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়াও তিন হাজার পাউন্ড বোমা বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিমান যে কোনো আবহাওয়ায় উড়তেও সক্ষম।
দিপুর গ্রামে শোক
পাইলট উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দিপুর নিহত হবার খবরে তার গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের জগনাথপুর গোরস্তানপাড়ায় শোক নেমে আসে। দিপু ওই এলাকার মৃত আফজাল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে।
জানা গেছে, পুরো গ্রামজুড়ে শোক মানুষের মধ্যে শোক চলছে। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা দিপুর মেধা ও দক্ষতার প্রশংসা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে তার পরিবারের লোকজন ঢাকায় রওনা দেন। ফলে পুরো বাড়ি ফাঁকা। এছাড়া চাকরির সুবাদে দিপু প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। দিপুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঈশ্বরদীতে। তাঁর আরো দুই বোন রয়েছে। দিপু বিয়ে করেছেন পাবনা জেলায়। তার এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।