বিশেষ সংবাদদাতা : পক্ষকাল আমেরিকা সরকারি সফর শেষে ১৩ মে মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুল হক। সচিবের প্রটোকল করলেন দুর্নীতির দায়ে অভিযোগের তদন্তাধীন- যার বিরুদ্ধে অেিযাগের তদন্ত করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়েরই উপসচিব (উন্নয়ন) সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৫ দিনের মধ্যে হজ¦ ক্যাম্প থেকে বদলির আদেশ থাকার পর বদলি না হওয়া, পরিচারক হজ¦ ক্যাম্পকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে তদবির করা, বহাল তবিয়তে হজ¦ক্যাম্পে বীবদর্পে বহাল থাকা- সেই কেরানি সোহিল মুহাম্মদ ফেরদৌস ও তার শ্যালক দীন মোহাম্মদ। শাহজালাল বিমানবন্দরে সচিবের প্রটোকল শেষে সচিবকে সোহিল নিয়ে আসেন আশকোনা হজ¦ক্যাম্পে। হজ¦ ক্যাম্পে আগে থেকে আয়োজন করে রাখা সেহরি খান ধর্ম সচিব। পরে তিনি তার বাসায় চলে যান। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কেরানি সোহিলের আয়োজনে ধর্ম সচিব হজ¦ ক্যাম্পে সেহরি গ্রহণ করায় বিষয়টি হজ¦ক্যাম্পে চাউড় হয়ে গেছে। এ নিয়ে কানাঘুষ চলছে হজ¦ক্যাম্পে- দুর্নীতিবাজদেও প্রটোকল নিলেন ধর্ম সচিব, এতে দুর্নীতি আরো উৎসাহিত হবে, সচিবের টেবিলে দুর্নীতিবাজদের তদন্ত রিপোর্ট জমা ধামাচাপা পড়বে!
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হজ¦ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধর্ম সচিব ১৫ দিনের সরকারি সফর শেষে গতরাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন। তার প্রটোকল করেন কেরানি সোহিল। আগেই বলে রাখা সেহরির আয়োজন করা হয় ধর্ম সচিবের সৌজন্যে। সচিব রাতে সেহরি সেরে পরে বাসায় চলে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩ কোটি ১১ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের টেবিলে জমা হওয়ার আগেই দুর্নীতিবাজদের প্রটোকল নিলেন ধর্ম সচিব। কেরানি সোহিলের দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) সাখাওয়াত হোসেন। গত ১ জানুয়ারী দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও তদন্ত কর্মকর্তা উপসচিব উন্নয়ন। উপসচিব তদন্ত করে দুর্নীতির সত্যতা পান এবং তদন্ত প্রতিবেদন সচিব দেশের বাইরে থাকায় সচিব বরাবর উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রী ১৩ মে রাতে দেশে আসলেন। ২/১ দিনের মধ্যেই দুর্নীতিবাজদের আমলনামা সচিবের টেবিলে উপস্থাপন হওয়ার জন্য প্রস্তুত, ঠিক তার আগেই দুর্নীতিবাজরা ধর্ম সচিবের প্রটোকল সেরে সচিবের নজর কাড়লেন।
এখানেই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হজ¦ ক্যাম্পের কেরানি সোহিল থেমে নেই । দুর্নীতি যেন ওদের আস্টেপৃস্টে বাধা। আবার দুর্নীতির আশ্রয় নিলেন। পরিচালক হজ¦কে ম্যানেজ করে কেরানি সোহিলের ভাতিজ মঈন, ভাগিনা আসাদুজ্জামানকে হজ¦ ক্যাম্পের ২০১৯ সালের জন্য হজ¦যাত্রীদের সেবা প্রকল্পকে ৩ মাসের জন্য চাকরি দিলেন। জনপ্রশাসন, ধর্ম ও পিএসপির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সদস্য সচিবকে এ ব্যাপারে রাখলেন অন্ধকারে। কাগজে-কলমে হজ¦ কাম্পে কর্মরত কমিটির সদস্য সচিব সহকারি হজ¦ অফিসারের পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সই নেয়া হয়েছে। গতবার হজ¦ মওসুমে শারীরিকভাবে আনফিট দুর্নীতিবাজ কেরানি সোহিলকে হাজীদের প্রটোকলের জন্য সৌদি আরব পাঠালেন। এবার হজ¦ মওসুমে সেই দুর্নীতিবাজ কেরানি সোহিলের আপন ভাগিনা-ভাতিজাকে চাকরি দিলেন পরিচালক হজ¦ ক্যাম্প। আশকোনা হজ¦ ক্যাম্পে এখন দুর্নীতিবাজদেরই পোয়াবারো। কেরানি সোহিল তার শ্যালক দীন মোহাম্মদ. ভাগিনা আসাদুজ্জামান, ভাতিজা মঈন এখন হজ¦ ক্যাম্পের হর্তা-কর্তা। তাদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন পরিচালক হজ¦ ক্যাম্প। দুর্নীতিবাজদের শেল্টার দিয়ে পরিচালক দুর্নীতিকেই উৎসাহিত করছেন বলে অনেকে মনে করেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের বদলির আদেশ দিলেও তা ঠেকানোর জন্য গত ১২ মে পরিচালক হজ¦ ক্যাম্প কেরানি সোহিলকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যান তদবিরের জন্য। ক্রমশ-
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
