ডেক্স রিপোর্ট : অস্ত্রোপচার ছাড়া এক সাথে সাত সন্তানের জন্ম দিলেন এক মা। গত সপ্তাহে ঘটনাটি ঘটেছে ইরাকের পূর্বাঞ্চলের দিয়ালি প্রদেশে। জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্য ছয়টি মেয়ে ও একটি ছেলে। সব সন্তান ও ২৫ বছর বয়সী ওই মা সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
একসাথে সাত সন্তানের জন্ম দেয়ার ঘটনা ইরাকের ইতিহাসে এই প্রথম এবং তারা সবাই সুস্থভাবে বেঁচে রয়েছে। কিছু দিন আগে লেবাননের সেইন্ট জর্জেস হাসপাতালে এক মা একইসাথে তিন মেয়ে ও তিন ছেলে জন্ম দেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয় মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সদ্য সন্তান জন্মদানকারী মা ভালোই আছেন।
শিশুগুলোর বাবা ইউসুফ ফজল বলেন, আমরা আসলে কল্পনাও করিনি। আল্লাহতায়ালার এ উপহার আমরা সানন্দে গ্রহণ করেছি। এখন থেকে ১০ শিশু সন্তানের দেখভাল করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেস মোইনসে কেনি ও ববি ম্যাককাফি দম্পতির ঘরে একইসাথে সাত সন্তান আসে এবং তারা সবাই সুস্থই ছিলেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ওই পরিবারকে অভিনন্দন জানাতে হোয়াইট হাউজে ডেকেছিলেন।
ইয়েমেনের ৫২ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে;
এএফপি ও বিবিসি : ইয়েমেনে ৫২ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটিতে চলমান যুদ্ধের কারণে খাবার ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন গতকাল বুধবার এক রিপোর্টে একথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ইয়েমেনে খাবারের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে অতিরিক্ত ১০ লাখ শিশু এখন দুর্ভিরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে দুর্ভিরে ঝুঁকিতে থাকা মোট শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫২ লাখে দাঁড়াল।
সেভ দ্য চিলড্রেন আরো জানায়, বন্দরে যেকোনো ধরনের অবরোধ লাখো শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিবে। এছাড়া আরো কয়েক লাখ শিশুকে দুর্ভিরে দিকে ঠেলে দিবে। ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে ইরান সমর্থিত শিয়া হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বিহ মানসুর হাদির অনুগত সৈন্যদের সংঘর্ষ চলছে। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ অঞ্চল দখল করে নেয়। এতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বিহ মনসুর হাদি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত আরেকটি শিয়া গোষ্ঠীর উত্থানের আশঙ্কায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো সাতটি আরব দেশ হাদিকে ফের মতায় বসাতে তৎপর হয়। সেই ল্য সামনে রেখে হাউছিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এতে ইয়েমেনজুড়ে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় পাঠানো ত্রাণের বেশির ভাগই প্রধান সমুদ্র বন্দর হোদাইদার মধ্য দিয়ে ওই এলাকাগুলোতে যায়। কিন্তু হোদাইদার চার পাশে চলা লড়াইয়ের কারণে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় ত্রাণ সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে বিদ্যমান পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, লোহিতসাগরের হোদাইদা বন্দর থেকে রসদ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে খাদ্যাভাব নজিরবিহীন পর্যায়ে চলে যেতে পারে। চলতি মাসের প্রথম দিকে সেইভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছিল, চলতি বছর এ পর্যন্ত তারা তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় চার লাখ শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই ৩৬ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বেসরকারি এই সংস্থাটি। নতুন ১০ লাখ শিশুকে নিয়ে এখন মোট ৫২ লাখ শিশু দুর্ভিরে সম্মুখীন জানিয়ে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হেল থর্নিং-শ্মিট জানিয়েছেন, ‘লাখ লাখ শিশু জানে না, এরপর তারা কখন খাবার পাবে অথবা আদতেও খাবার পাবে কি না। উত্তর ইয়েমেনের (বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত) একটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, সেখানে শিশুদের কান্না করারও শক্তি নেই, ুধায় তাদের দেহ অবসন্ন হয়ে গেছে।’
