বিমানের কুয়েত স্টেশনে এই প্রথম স্বামী শাজাহান-স্ত্রী শামীমা পারভীন  সিন্ডিকেড :অতিরিক্ত ব্যাগেজের আড়ালে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি: দেখার কেউ নেই!

নিউজ ডেক্স : বিমানের কুয়েত স্টেশনে এই প্রথম স্বামী শাজাহান-স্ত্রী শামীমা পারভীন সিন্ডিকেড সক্রিয়। অতিরিক্ত ব্যাগেজের আড়ালে সরকারের কোটি টাকার লোকশানের নায়ক। অথচ দেখার কেউ নেই। এই স্বামী-স্ত্রী সিন্ডিকেডের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগও ওঠেছে। এ নিয়ে ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করণে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্ত দুর্নীতির পুরস্কার শামীমা পারভীনকে পদোন্নতি প্রদান করে কুয়েত স্টেশনে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। এরা দুজনই আওয়ামী দোসর। এখন আবার বিএনপি সেজেছে। বংগবন্ধুর জন্মদিনে শাজাহান কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছে, মৃত্যুবার্ষিকিীতে শোকদিবস পালন করেছে। শামীমা পারভীন শ্রমিকলীগ নেতা মসিকুরকে নির্বাচনের সময় কানে কানে বুদ্ধি পারমর্শ দিচ্ছেন- এমন ফটোসেশন রয়েছে। এতোকিছুর পরও শাজাহান-শামীমা পারভী এখনও প্রাইজ পোস্টিংয়ে কুয়েতে স্টেশনে  বহাল। এদের টিকিটিও বিমান কর্তৃপক্ষ স্পর্শ করতে পারছে না।

এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর ১৪ এপ্রিল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যাগেজের আড়ালে রাজস্ব লুটের মহোৎসব চলছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। কুয়েতের স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে কিছু কিছু যাত্রীকে শত শত কেজি অতিরিক্ত মালামাল বহনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এর ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। লাভবান হচ্ছেন ওই অসাধু কর্মকর্তারা। আবার ওজন কম দেখিয়ে লোড শিট বিকৃতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ছে ফ্লাইটের নিরাপত্তা। সম্প্রতি কুয়েত থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটে নিরাপত্তা বিভাগের ঝটিকা তদন্তে এমন অভিনব দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তদন্তে ১৪ জন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজ পাওয়া গেছে ১২ জনের। যাদের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি ফি আদায় হয়নি বা রসিদও ইস্যু হয়নি। বিমানের কুয়েত স্টেশনে সিন্ডিকেট করে এমন দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়।

২৩ জানুয়ারি কুয়েত থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৪৪ ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১৭৩ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৪ জন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশিতে যে তথ্য বেরিয়ে আসে, তা রীতিমতো হইচই ফেলে দেয়। নড়েচড়ে বসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় অধিকতর তদন্ত।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিদেশি স্টেশনগুলোয় ব্যাগেজ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। চেক-ইন কাউন্টারে সরাসরি অর্থ গ্রহণ করা হলেও এর বিপরীতে কোনো সরকারি রসিদ না দেওয়া দুর্নীতি। ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে স্টেশন ম্যানেজার থেকে শুরু করে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ভাগবাঁটোয়ারা করে নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, লোড শিটে প্রকৃত ওজন কম দেখানো হলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় উড়োজাহাজ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ঢাকাগামী কুয়েতের ফ্লাইটের যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের ডিজিএম মেজর ফারহান তানভীর ২৩ জানুয়ারি ঝটিকা তদন্ত করেন। এর দুদিন পর তিনি বিমানের এমডির কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুয়েত থেকে আসা বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর নিরাপত্তা বিভাগ বেল্টে থাকা ১৪ জন যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে। এতে দেখা যায়, ১২ জন যাত্রী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য বহন করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যাগেজের জন্য তাদের কাছে প্রযোজ্য ফি আদায় দেখানো হয়নি। কোনো যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ওজন বহনের জন্য সরকারি ফি পরিশোধের রসিদও পাওয়া যায়নি।

ওই ফ্লাইটের ইকোনমি ক্লাসের একজন যাত্রী মো. সোহাগ। তার ব্যাগেজে ৫০ কেজি এবং হ্যান্ড ক্যারিতে ৭ কেজিসহ ৫৭ কেজি মালামাল বহনের জন্য অনুমোদিত ছিলেন। কিন্তু তিনি ৯৫ কেজির ব্যাগেজ বহন করেন। অতিরিক্ত ৩৮ কেজি মালামাল ছিল তার কাছে। কুয়েত-ঢাকা ফ্লাইটে অতিরিক্ত ব্যাগেজ বহনের জন্য প্রতি কেজিতে যাত্রীকে ৫ কুয়েতি দিনার চার্জ করা হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ হাজার টাকা। সে হিসাবে এই যাত্রীর ৩৮ কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজের জন্য ৮০ হাজার টাকা বিমানের কোষাগারে জমা হওয়ার কথা ছিল। এই যাত্রীর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চার্জ আদায় করা হয়নি। কোনো মানি রিসিটও দেওয়া হয়নি।

অপর যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক ৫৭ কেজির স্থলে ৮৪ কেজি ব্যাগেজ বহন করেন। ২৭ কেজি অতিরিক্ত মালামাল বহনের জন্য তার কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করেনি বিমানের কুয়েত স্টেশন। এছাড়া আরও কয়েকজন যাত্রীর ক্ষেত্রে ২০-৩০ কেজি অতিরিক্ত মালামাল বিনা ফিতে পার করে দেওয়া হয় স্টেশন থেকে। কোথাও আবার ৩১ কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজের ক্ষেত্রে ২১ কেজির টাকা আদায় করে বাকি ১০ কেজি ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে।

শুধু একটি ফ্লাইট থেকেই কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বিমান। এভাবে শত শত কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজের বিপরীতে রাজস্ব আদায় না হওয়ার ঘটনায় স্টেশনের কর্মকর্তারা ছাড়া আরও কারা জড়িত, অধিকতর তদন্তের কথা বলেছে কমিটি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বিমানের কুয়েত স্টেশন ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাজাহান (পি-৩৬৪৮৯)। তিনি একা নন। তার স্ত্রী শামিমা পারভিনও ওই স্টেশনে কর্মরত আছেন। তাকে গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসাবে পদোন্নতি দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে কুয়েত স্টেশনেই ম্যানেজার পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীকে পদোন্নতি দিয়ে একই স্টেশনে পদায়নের পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। একই স্টেশনে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ দায়িত্ব পালনের ঘটনা বিমানে নজিরবিহীন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাজাহান যুগান্তরকে বলেন, আমি এখন নামাজে যাচ্ছি, পরে কথা বলব। পরে ফোনে কল করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনার কিছু জানার থাকলে অফিসে কথা বলুন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, কুয়েতের স্টেশন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যাগেজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মাধ্যমে সেখানে অবৈধ লেনদেনের ঘটনা ঘটছে।

বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বিদেশি স্টেশনগুলোয় কর্মরত কিছু কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অতিরিক্ত ব্যাগেজের বিপরীতে আদায়কৃত অর্থ বিমানের কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। চেক-ইন কাউন্টারে গোপনে লেনদেনের মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ যাত্রীদের ১-২ কেজি বেশি ওজনের জন্য জরিমানা গুনতে হয়। অথচ একটি ফ্লাইটে শত শত কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজ আনা হয়েছে কোনো ফি পরিশোধ ছাড়াই। এটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। এসব অসাধু কর্মকর্তার কারণেই বিমান লোকসানে থাকে। এর পেছনে আর কারা জড়িত, খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ না হলে সংস্থাটির আর্থিক ঘাটতি কখনোই পূরণ হবে না।

বিমানের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত কী পাওয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি। বলেন, দুই দিন পর বিস্তারিত জেনে জানাব। কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী একই স্টেশনে কর্মরত থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী একজনকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরবর্তী সময়ে শামিমা পারভিন সেখানে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশ বিমান : ফরেন  স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে অনিয়মের নায়করা এখনও বহাল, অসন্তোষ চরমে:  আওয়ামী দোসর শামীমা পারভীনের এখনও কুয়েত পোস্টিং বহাল: স্বামী শাজাহানের উত্তরসুরি : অননুমোদিতভাবে ঢাকার অফিসে অনুপস্থিত: ৭২ ঘন্টার  শোকজের জবাব কতদূর : শেখ হাসিনার ভিভিআইপি ফ্লাইটে একাধিকবার সফর সংগি ইযারত এখন দিল্লীর স্টোশন ম্যানেজার! : বাংলালাদেশ বিমানে ফরেন স্টেশন ম্যানেজার পদে পদায়নে চরম অনিয়ম, একডজন আওয়ামী দোসরদের ফরেন  পোস্টিং বহাল, এতে বিমানে ভয়াবহ অসন্তোষ বিরাজ করছে। আওয়ামী দোসর শামীমা পারভীনের জেদ্দা স্টেশনের পোস্টিং এখনও বাতিল করা হয়নি। এ দিকে শামীমার  ঢাকায় অননুমোদিতভাবে অফিসে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় ৭২ ঘন্টার শোকজের জবাব কতদূর- তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

বিমানে  নিয়োগ-পদোন্নতিতে অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখির পর বিমান কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছিল। সংস্থাটির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রিভিউ (পর্যালোচনা) করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই পর্যালোচনা না হওয়ায় অনিয়মে জড়িত ও সুবিধাভোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বামী শাজাহানের  বদলির স্থানে স্ত্রী শামীমা পারভীন , আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বা তার সহযোগীদের বিদেশে ভালো মিশনে পদায়ন, নিয়ম ভেঙ্গে স্টেশন ম্যানেজার নিয়োগসহ সব অনিয়মের হোতারা এখনো শাস্তির বাইরে। অনিয়মেরও কোনো সমাধান বা সুরাহা হয়নি। পুরো নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ছিল একটি শক্তিশালী চক্র। এই চক্রের একাধিক সদস্য মানব পাচারে জড়িত থাকলেও তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধা পেয়েছেন, তেমনি পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আশীর্বাদও। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তাদেরকে কৃতকর্মের জবাব দিতে হয়নি এখনো, শাস্তিতো দূরে থাকুক। এসব কারণে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানে বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশে স্টেশনগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এতে কোনোই নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। উল্টো নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও পদায়ন করা হয়েছে। নীতিমালার অপরিহার্য শর্তে বলা আছে, বিদেশে পদায়নের জন্য যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে কখনোই পদায়নে ছিলেন না, এমন কর্মকর্তাকেও বিদেশে স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামীর বিদেশে পদায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই কর্মস্থলে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে স্ত্রীকে, যার নজির অতীতে নেই। এই পদায়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্তও লঙ্ঘন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরও বিদেশে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ বছর হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে স্টেশনে চাকরির অভিজ্ঞতাও নেই এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদেরও বিদেশে পদায়নের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এরসঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনেরও সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদের পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনি বিমান-এর চেয়ারম্যান পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ সংস্থাটিতে অতীতে বরবরাই কমবেশি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম ছিল। তবে শেখ বশিরউদ্দীনের আমলে দুর্নীতির মাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এর অন্যতম প্রমাণ হলো, সর্বশেষ বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদে এসব পদায়ন।

বাংলাদেশ বিমানের বিদেশি স্টেশনগুলোতে স্টেশন ম্যানেজার নিয়োগের নামে সম্প্রতি যে ইন্টারভিউ আয়োজন করা হয়েছিল, তা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই ইন্টারভিউ মূলত একটি লোক দেখানো আয়োজন ছিল বলে অভিযোগ করেন একাধিক কর্মকর্তা। কিন্তু একের পর এক অজুহাতে তিন থেকে চারবার তারিখ পরিবর্তন করে অবশেষে এমন এক সময়ে তা আয়োজন করা হয়, যখন নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব বিলম্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মাঠ পরিষ্কার করা। অর্থাৎ, কাকে কোথায় বসানো হবে, সেই তালিকা আগেই তৈরি ছিল। ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে কেবল নিয়ম রক্ষার জন্য, যাতে পরবর্তীতে কেউ প্রশ্ন তুললে দেখানো যায়, সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে।

বিমানের ভেতরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এই পুরো নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ছিল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে রয়েছেন- প্রাক্তন সিবিএ নেতা, চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমান (গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বর্তমানে যিনি কারাগারে), ফ্যাসিবাদ আমলে সুবিধাভোগী একজন প্রভাবশালী জিএম এবং সিএফও নওশাদ হোসেন। নওশাদ হোসেনের দুর্নীতির ফিরিস্তি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অনেক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের কারণে সম্প্রতি নওশাদ হোসেনকে ইতিমধ্যে বিমান থেকে প্রত্যাহার করে আনা হয়েছে।

জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার বদলালেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও, এই গোষ্ঠীটি কৌশলে নিজেদের অবস্থান অটুট রেখেছে। বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বশিরউদ্দীনের আমলে এই চক্রটির দৌরাত্ম ছিল অনেক বেশি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স- যে প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে দেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী যাত্রীদের আস্থা এবং বৈদেশিক রাজস্ব, সেই প্রতিষ্ঠানটিই পরিণত হয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মীয়করণের এক ভয়াবহ অভয়ারণ্যে।

সবচেয়ে আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে কুয়েত স্টেশনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুয়েত স্টেশনে নতুন করে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে পদায়িত হয়েছেন শামিমা পারভীন। অথচ তার আগ পর্যন্ত ওই স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন তারই স্বামী মো. শাহজাহান। অর্থাৎ, স্বামীর তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই স্টেশনে স্ত্রীকে বসানো হয়েছে- যা বিমানের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন কর্মকর্তারা।

বিমানের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একজন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর তার জীবনসঙ্গীকে সেই একই পদে, একই স্টেশনে বসানো- এটা শুধু অনৈতিক নয়, সরাসরি স্বার্থের সংঘাত। আমরা বিমানের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত আগে দেখিনি।” তাছাড়া, যোগ্যতার বিচারে শামীমা পারভীন এ ধরনের পদায়নের জন্য অযোগ্য। Ground Service Manual (ICAO/ IOSA) অনুযায়ী বিদেশে একজন স্টেশন ম্যানেজার নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে অন্তত একবার Domestic অর্থাৎ Base Station ঢাকার বাইরে যেকোন একটি Station-এ ১ বার অন্তত ৩ বছরের জন্য পোস্টিংয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ শামীমা পারভীন ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কখনো কাজ করেননি। দেশের অভ্যন্তরে স্টেশন পরিচালনার যার অভিজ্ঞতা নেই, তাকেই দেওয়া হয়েছে বিদেশে স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব, তাও স্বামীর বদলির কর্মস্থলে।

শুধু শামীমা পারভীনই নয়, এই বিতর্কিত পদায়নে ইব্রাহিম, মো. মিজানুর এবং তন্ময় কান্তি বিশ্বাসের বিদেশে পদায়নের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। এদেরও কারোই ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। যাদের এ রকমের কাজের অভিজ্ঞতা নেই তারা কোনো ক্রমেই বিদেশে স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইতিপূর্বে ইব্রাহিমের লন্ডনে পোস্টিং হয়েছিল। কিন্তু কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ওই পদায়ন বাতিল করা হয়েছিল। বিমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশ্ন হলো, কীভাবে ইব্রাহিম দুবাইয়ে পদায়ন পেলেন, তাও নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘অভিজ্ঞতা’ ছাড়াই?

জানা গেছে, ইব্রাহিম, মো. মিজানুর এবং তন্ময় কান্তি বিশ্বাস- এরা তিনজনই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। চাকরিতে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের নিয়োগেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির বয়স এখন সবেমাত্র ৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে যে নীতিমালা কার্যকর ছিল, তাতে বিদেশে স্টেশন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তির জন্য ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির বয়স লাগতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলের শেষের দিকে ২০২৩ সালের প্রশাসনিক আদেশে তা পরিবর্তন করে ৫ বছর করা হয়েছে এই নতুন চাকরিপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। এই আদেশটি বাতিলের জন্য দাবি উঠে, আন্দোলনও হয়। সংস্থাটির সভায় সিদ্ধান্তও হয়েছে ওই প্রশাসনিক আদেশ পূনর্মূলায়নের। কিন্তু তা না করে ছাত্রলীগের এই নেতাদের অবৈধভাবে বিদেশে স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ‘Base Station’ ঢাকার বাইরে যেকোন একটি Station- এ ১ বার অন্তত ৩ বছরের জন্য পোস্টিংয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা’র অভিজ্ঞতা নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর এসব পদায়নে সিনিয়রিটি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ডেপুটি ম্যানেজারদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র যিনি মো. ফারুক তালুকদার, তাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হলেও বিদেশে পদায়ন দেওয়া হয়নি। দেশে ঢাকার বাইরে স্টেশন পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার আছে। ডেপুটি ম্যানেজার শাহীনা আক্তারেরও দেশে ঢাকা বাইরে স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। তাকেও বিদেশে পদায়ন দেওয়া হয়নি। যেহেতু ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম, মিজানুর ও তন্ময় উচ্চপদে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন এবং শাহীনা আক্তার পরবর্তীতে পদোন্নতির মাধ্যমে ডেপুটি ম্যানেজার হয়েছেন তাই সিনিয়রিটি তালিকায় শাহীনা আক্তারের নাম এই তিন জনের পরে। কিন্তু স্টেশন পরিচালনার কাজে অভিজ্ঞতার কারণে তারও এক্ষেত্রে বিদেশে পদায়ন প্রাপ্য ছিল।

বঞ্চিত হয়েছেন সবচেয়ে যোগ্য কর্মকর্তারা : অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজারদের মধ্য থেকে সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন, যার নাম এক নম্বরে ছিল মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন। সবচেয়ে সিনিয়র এই কর্মকর্তা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সততাও এক নম্বরে, বিমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা-ই বলে থাকেন। অথচ তাকে পদায়ন না করে তালিকার ২ নং কর্মকর্তা শামীমা পারভীনকে তার স্বামীর জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে, যারা স্টেশন পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজারদের মধ্য থেকে মোট ৮ জনকে বিদেশে পদায়ন করা হয়েছে। সিনিয়রিটি তালিকার ২১ নম্বর কর্মকর্তা পর্যন্ত পদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন সালেহউদ্দিনসহ মোট ১৩ জন অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার। অন্যরা হলেন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মো. হুমায়ুন কবীর, রফিকুজ্জামান আকন্দ, নিয়াজ মাহমুদ, এটিএম সাজ্জাদুর আলম, মোহাম্মদ মারুফ, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ জায়েদ হোসেন ও মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা।

বিদেশে পোস্টিং এর ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষাতকারের নিয়ম হলো, Admin Order৩৬/২০২৩ অনুযায়ী ১ম একটি শূন্য পদের জন্য ৫ জন এবং পরবর্তী প্রতিটি শুন্য পদের জন্য ৩ জন করে প্রার্থী অর্থাৎ (৫+৬)=১১ জনকে ভাইবা বোর্ডে ডাকার কথা। কিন্তু তা না করে গ্রুপ ৭ম গ্রেডের ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে বিদেশে পদায়িত করা হয়েছে, যেহেতু ৭ম গ্রেডের কর্মকর্তা যথেষ্ট ছিল না এবং যেহেতু শূন্য পদগুলো ৬ষ্ঠ/৭ম গ্রেডের ছিল; তাই ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৬ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জনকে নিয়ে প্রশাসনিক আদেশ এর শর্ত পূরণ করা যেতো। নিয়ম অনুযায়ী শূন্য পদগুলো ৬ষ্ঠ/৭ম গ্রেডের অর্থাৎ যে কোন গ্রেডের অপ্রতুলতা থাকলে অন্য গ্রেড থেকে পূরণ করার সুযোগ আছে। কিন্তু এখানে প্রশাসনিক আদেশ অনুসরণ করা হয়নি।

অনিয়মের আরেকটি বড় উদাহরণ ম্যানচেস্টার স্টেশন। সেখানে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনিরুল ইসলাম প্রধানকে, যিনি যোগ্যতার বিচারে মোটেই উপযুক্ত নন। মনিরুল ইসলাম প্রধান শুধু অযোগ্যই নন, মানব পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে কর্মরত অবস্থায় মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হন। বিকাশ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও তার এই অতীত রেকর্ড থাকার পরও তাকে এখন ম্যানচেস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বসানো হলো।

গুয়াংজু স্টেশনে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আশরাফুল হক। তার বড় ভাই বর্তমানে বিএফসিসিতে জিএম হিসেবে কর্মরত। আশরাফুল হকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যাগেজের টাকা নেওয়ার অভিযোগে একসময় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। তা সত্ত্বেও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে।

পলাতক শেখ হাসিনার ভিভিআইপি ফ্লাইটগুলোতে একাধিকবারের সফরসঙ্গী ইয়ারত হোসেনকে শেখ হাসিনার নিকট দিল্লিতে কি কারণে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে পদায়িত করা হলো, এ নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট  সূত্র জানিয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে গিয়ে দুর্নীতিবাজ চক্রটি ভুয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু তাদের এই যুক্তি বা অজুহাতও ধোপে টিকছে না দুটি কারণে- প্রথমতঃ প্রশাসনিক আদেশ নং ৩৬/২০২৩ অনুযায়ী যদি কোন কর্মকর্তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার-এর কোন এজেন্সি যেমন এসবি, এনএসআই, ডিবি ইত্যাদি কর্তৃক কোন আপত্তি/অভিযোগ থাকে সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে পোস্টিং/প্রমোশন এর ভাইভা দেওয়ার জন্য তিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন না। অর্থাৎ তাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে না। যখন নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, তখন থেকে ভাইভা দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। মৌখিক সাক্ষাতকারের জন্য ডাকার অর্থই হলো, উক্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য যোগ্য। তার ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট খারাপ নয়। দ্বিতীয়তঃ এখানে দেখা যাচ্ছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে চিহ্নিত, এমনকি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতিও বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদে পদায়ন পেয়েছেন।