বেবিচক : এয়ারফোর্সের দুই মেম্বার পর পর বদলি হলেও প্রশাসন ক্যাডারের দুই মেম্বার এখনও বহাল : দুই প্রকৌশলীর বদলি ঠেকাতে তদবির

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকে এয়ারফোর্সের দুই মেম্বার–মেম্বার অপস ( প্লানিং এন্ড অপারেশনস) এবং মেম্বার এফএসআর ( ফ্লাইট স্যাটান্ডার্স এন্ড রেগুলেশনস) পর পর বদলি করা হলেও জেকে বসেছে প্রশাসন ক্যাডারের দুই আওয়ামী দোসর মেম্বার এডমিন এবং মেম্বার অর্থ। এই দুই মেম্বারকে গত ৪ মাসেও বদলি না করে উল্টো প্রাইজ হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এরা দুজই এখন বেবিচকে প্রশাসন চালাচ্ছেন। নিয়োগ, বদলি, রিেেপ্লসমেন্ট, দুদকের অভিযুক্তকে তদন্ত শেষ না হওয়া অবদি ইনজিনিয়ারিং বিভাগের সর্বশেষ পদে বসানো হয়েছে। কলকাঠি নেড়েছেন দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা। খরচ করা হয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা।
খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর বেবিচকের মেম্বার সিকিউরিটি নাঈমুজ্জামানকে বদলি করে বিমান বাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্ত গত প্রায় পক্ষকাল হলেও তিনি বেবিচকে বহাল।
এর আগে মেম্বার অপস (অপারেশনস এন্ড প্লানিং) এএফএম আতিকুজ্জামানকে বেবিচক থেকে বদলি করা হয়। এরা দুজই এয়ারফোর্সে চলে গেছেন।
এ দিকে বদলিকৃত দুই প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান ও এনামুল কবীর বদলি ঠেকাতে তদবির করছেন বলে জানা যায়। আলীমুজ্জামান চট্রগ্রাম ছেড়ে ঢাকা আসতে চান না আর এনামুল কবীর ঢাকা ছেড়ে যশোহর যেতে চান না।
প্রশাসন ক্যাডারের মেম্বার এডমিন এবং মেম্বার অর্থ এখনও বেবিচকে বহাল, এদেরকে বদলি করা হচ্ছে না। বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিরা এই দুজনের অপসারণে বেবিচকে ব্যানার টাংগিয়ে প্রতিবাদ করলেও এখন তারা বেবিচক ছেড়ে যাননি। বরং মেম্বার অর্থ থার্ড টার্মিনালে ঠিকাদারি কোম্পানির পক্ষে অর্থ ছাড় করানোর জন্য ওকালতি করছেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে পিডির সাথে হাতাহাতি নাকি হয়েছে শোনা যায়। মি. ৫% খ্যাত এই কর্মকর্তাকে বেবিচক থেকে বদলি না করে তাকে উল্টো পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। বেবিচক ঠিকাদাররা তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ঠিকাদাররা তার বদলি দাবি করছেন।
৫ বছর পর প্রকৌশলী শাহিনুর বদলি! নতুন প্রধান প্রকৌশলী দায়িত্ব নেবার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৌশল বিভাগে কিছুটা রদবদল করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন। আবার শাহিনুর নামে ইএম বিভাগের এক সহকারি প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে বদলি করা হয়েছে। আরেক সহকারি প্রকৌশলী ইএম এনমুল কবীরকে যশোহর বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। যশোহর না যাবার জন্য এনামুল তদবির করে বেড়াচ্ছেন বলে জানা যায়।
ঠিকাদারি কাজের ওয়ার্কার্স প্লান ভেস্তে যাচ্ছে : অর্থ বছরের প্রায় ৬ মাস অতিক্রান্ত হলে চললেও সরকারি কাজে অসহযোগিতার কারণে নাকি বেবিচকে ওয়ার্কার্স প্লান ভেস্তে যাচ্ছে। দুদক / অডিট বিভাগ যেমন করে ফাইলে ওটা চাই-ওটা চাই এ রকম তদন্দ’র স্বার্থে চেয়ে থাকে ঠিক তেমনি পরিচালক পরিকল্পনা ও মনিটরিং মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ঠিকাদারি কাজের প্রি প্রাক্কলনে কাজের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, নকশা, কত টাকা খরচ হয়েছে, আবার কত টাকা খরচ হবে- এমন তথ্য -উপাত্ত চেয়ে ওয়ার্কার্স প্লানে পাসে গড়িমসি করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। গত ২ মাস যাবত পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকৌশল বিভাগে পাঠানো দাপ্তরিক চিঠিও মুখথুবড়ে পড়ে আছে।