বেবিচক : গেট কেলেংকারির পর এবার বাসা বরাদ্দে অনিয়ম: সেই সুব্রত এখনও বহাল : এমটির ফোরম্যান ভুইয়া যখন পরিচালক প্রশাসনের গাড়ি চালক : মাসুদ-লিসা আউট: সাবেক প্রিন্সিপালের আবার ফিরে আসার তদবির

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর-পূর্ব পাশে বাউন্ডারী ওয়াল ভাংগার নেপথ্য নায়ক সম্পত্তি শাখার সুব্রত এখনও সম্পত্তি শাখায় বহাল। তাকে এখান থেকে সরায় এমন সাধ্য কার? বেবিচকের দুই জায়গায় বাউন্ডারি ওয়াল ভেংগে বিশাালকার রঙচঙ গেট নির্মাণ করার পর এখনও বহাল। বেবিচক কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থ্য়াই নেয়নি। সিডি-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এই গেট বন্ধ করার কথা স্বীকার করলেও বাস্তবে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। গেট ২টি এখনও দৃশ্যমান বলে এলাকাবাসি ও একজন সিএএবি মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার জানান।
সেই সুব্রত এখন কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা-বাড়ি বরাদ্দে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। মুখ দেখে দেখে চিনে চিনে খাতিরের-পেয়ারের লোকদের থেকে ঘুষ হাতিয়ে বাসা-বাড়ি বরাদ্দ দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। নিয়মানুযায়ী চাকরির বয়স ৩ বছর পূর্ণ হলে বাসা-বাড়ি বরাদ্দ দেয়া বারণ থাকলেও ৬ মাস বয়সের চাকরিজীবীদেরও বাসা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
আবার কারো কারো নামে দুটি বাসাও একত্রে বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সুব্রত’র সাথে কর্মচারি জসিমও যুক্ত হয়েছে। এদের সাথে এমটির ফোরম্যান, পরিচালক প্রশাসনের গাড়ি চালক শাহ আলম ভুইয়া যুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়। এরা মিলে তালিকা করে ঘুষ নিয়ে বাসা-বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
শাহ আলম ভুইয়া ফোরম্যান হয়েও ড্রাইভারগিরি করছেন। তাও আবার পরিচালক প্রশাসনের গাড়ি চালক বলে কথা।
সিভিল এভিয়েশন স্কুলের প্রিন্সিপালের গাড়ির ড্রাইভারের চাকরির বয়স ৬ মাস হলেও তার নামে বাসা বরাদ্দ দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে, আবার কোন কোন ড্রাইভারের নামে নি¤œমানের টাইপের বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, একটু বৃষ্টি হলেই বাসার সামনে পানিতে সয়লাব।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, কোন এক কর্মচারীকে অফিসারের ন্যায় ‘ডি’ টাইপ বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাসা-বাড়ি বরাদ্দ, সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়া- এ সবে সম্পত্তিতে জেকে বসা সংখ্যালঘু সুব্রত’র হাত রয়েছে বলে বেবিচকের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ তাকে রহস্যজনক কারণে সম্পত্তি শাখা থেকে বদলি করছে না। একজন ডিডিকে বদলি করা হলেও সুব্রত, মিজান গংরা এখনও সম্পত্তি শাখায় বহাল। একজন মেম্বারকে এরা ম্যানেজ করে চলেন বলেও শোনা যায়।
এই সুব্রত আবার হিন্দুদের পুরোহিত, কাওলা মন্দিরে বসে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে থাকেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সুব্রত’র সেল ফোনে একাধিকবার কলা করলেও সাড়া দেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়্, হাবীব ক্যান্টিনের পাশে ১০-১৫টি দোকান টেন্ডার হয়েছে, কিন্ত ১৫=-১৮ লাখ টাকা বছরে ভাড়া দিয়ে কেউ নিতে আগ্রহী হচ্ছে না। টেন্ডার রেটের চেয়ে কম রেটে এ দোকানগুলো সুব্রত ভাড়া দেয়ার পায়তারা করছে।
সুব্রত’র ফুটপাত ব্যবসা: শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপির ফুটপাত, হজ্ ক্যাম্পোর ফুটপাত কাস্টমস কার পাকিংয়ের ফুটপাতসহ কাওলার ফুটপাতে শত শত হকারি দোকান বসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও শোনা যায়-যা তদন্ত করলেই এর সত্যতা বের হয়ে আসতে পারে। হজ ক্যাম্পের অপজিটে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের আশপাশে বিশালকার ফুটপাতে হকার বসিয়ে , কাচা বাজার, মাছ বাজার বসিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য করার করার কথাও শোনা যায়। দুজন ম্যাজিস্টেটের হস্তক্ষেপে অভিযান চালিয়ে এ সব ফুট হকার উচ্ছেদ করা হলেও আবার জেকে বসেছে।
ফিরে আসার তদবির: কাওলার সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজের বদলিকৃত প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামান আবার এই কলেজে ফিরে আসার তদবির করছেন বলে শোনা যায়। কয়েকজন শিক্ষক- অভিভাবক, গর্ভনিং বডির কয়েকজন সদস্য এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। এদের মধ্যে গর্ভনিং বডি থেকে বাদ পড়া ডিবি হারুনের কথিত বোন জামাই, যশোহর এয়ারপোর্টের সাবেক ম্যানেজার মাসুদ, লিসার কথা শোনা যায়।