স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি কর্মচারি-কর্মকর্তারা অবসরোত্তর পিআরএল-এ যাবার পর আবার নিয়মিত অফিস করা, চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া সরকারি চাকুরির পরিপন্থী বলে অনেকে মনে করেন। অথচ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটতে যাচ্ছে। আর এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে বেবিচকের নারী উপপরিচালক -যিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ বছর একটানা চাকরি করার পর গত ২৯ অক্টোবর পিআরএল-এ গিয়েও আবার নিয়মিত শাহজালালে অফিস করছেন।
এ ব্যাপারে বেবিচক কর্তৃপক্ষ নীরব। শাহজালাল বিমানবন্দরে নির্বাহী পরিচালক কর্তৃক তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনে সুপারিশ এবং উর্ধতন কর্মকর্তার নেকনজর তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিরই ঈংগিত দেয়। যা ষোলকলা পূর্ণ হতে এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর যিনি পিআরএল-এ যাবার পর আবার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির জোরালো তদবির করছেন—সেই ডিডি শাহজালাল এভসেক নাছিমা শাহীন স্বপ্না বলে বেড়াতেন আর মাত্র ২০-২১ দিন, তার পরই চলে যাব। কিন্ত তিনি চলে গিয়েও চলে যেতে চাচ্ছেন না, তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনই এর বড় প্রমাণ। এখন বেবিচকে স্বপ্নার আগে/পরে যারা পিআরএল-এ চলে গেছেন তারাও স্বপ্নার অনুসরণে তাদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করছেন বা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এতে করে বেবিচক প্রশাসনে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। কিন্ত বেবিচক প্রশাসন সে দিকটি বিবেচনায় না নিলে তাদেরকে ভাবিয়ে তুলতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হলে চাকরিরত কর্মকর্তাগণ পদ বন্ঞিত হন এবং তাদের কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং হতাশাগ্রস্ত হন।
ডিডি নাছিমা শাহীন চাকরি শেষ করার পর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করার কারণে সম্প্রতি ও নিকট অতীতে বেবিচকের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি যারা পিআরএল-এ গমন করেছেন তারা আবার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যায়। এতে করে বেবিচকে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
ডিডি নাছিমা শাহীন স্বপ্না আওয়ামী সরকারের পুরো ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরে দাপটের সাথে চাকরি করার সুবাধে আওয়ামী লীগের একজন দোসর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং আওয়ামী প্রিয়পাত্র হিসেবে গণ্য। ২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী তিনি আওয়ামী নেতাদের সেইফ এক্সজিটে সহায়তা করেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। যা একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারও হয়।
স্বপ্না ১৯৮৭ সালে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি হিসেবে বেবিচকে যোগদান করেন, সেখান থেকে টানা প্রায় ৪০ বছরে শাহজালালে চাকরি করার সময়ে তিনি ডিডি পর্যন্ত প্রমোশন পেয়েছেন। এখন তিনি পিআরএল-এ, চলে গেছেন, রেস্ট নিবেন, কিন্ত বয়সের ভারে নূব্হ হয়েও তিনি পিআরএলএ-এ যাবার পরও আবার শাহজালালেই নিয়মিত অফিস করছেন, বেবিচকের একজন ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে তাকে তার বাসা থেকে নিয়ে আসছে আবার অফিস শেষে তার বাসায় তাকে পৌছে দিচ্ছেন, এতে করে বেবিচকে একজন ড্রাইভার খাটছে ,জ্বালানি তেল খরচ হচ্ছে, এর দায়ভার কার?
স্বপ্নার স্বামী বেবিচকে ফায়ারের একজন কর্মচারি হিসেবে অবসর নেবার পর অসুস্থ, তার সেবা-যত্ন করার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে তিনি আবার নতুন করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনে ষোলকলা পূর্ণ হলে আবার চাকরি করবেন, আর তার অসুস্থ স্বামী অসুস্থতায় বিছানায় কাতরাবেন- এটা কাম্য হতে পারে না।
৪০ বছরের চাকরি জীবনে স্বপ্না কোনদিন ঢাকার বাইরে চাকরি করেননি। সব সময় তদবির করে ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে থেকেছেন। একবার সিলেট বিমানবন্দরে স্ট্যান্ডরিলিজ করার পর আওয়ামী দোসর এ কর্মকর্তা আওয়ামী প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মাধ্যমে তদবিরে তা বাতিল করিয়েছেন। ফলে তাকে আর সিলেটে যেতে হয়নি।
পারিবারিক জীবনে স্বপ্না অসুখি বলে জানা যায়, স্বামী অসুস্থ, এক ছেলেকে একাধিক বিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের নাকি বিয়েই হয়নি। অথচ তিনি পিআরএল-এ যাবার পরও চাকরি করছেন, আর কর্তৃপক্ষও তাকে আগলে রেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিডি স্বপ্না দীর্ঘদিন শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত থাকার সুবাধে দেশের একাকি কোম্পানির প্রটোকলের জন্য ‘পি পাস’ ( প্রটোকল পাস) বরাদ্দ করে মাসোহারা হাতিয়ে নিচ্ছেন , তার সহযোগি হিসেবে তার সেকশনের কয়েক কর্মচারি তাকে সহায়তা করে থাকেন।
পিআরএল-এ যাবার আগে ডিডি নাছিমা শাহীন স্বপ্না জানান, আর মাত্র ২১ দিন আছে চাকরি, এরপর অবসরে চলে যাব।
