বেবিচক : প্রধান প্রকৌশলী পদে জুনিয়রকে পদায়ন : উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে পদায়নরত ব্যক্তি প্রধান প্রকৌশলী ও বেবিচকের আপিল শুনানির অপেক্ষায়: আওয়ামী দোসররা এখনও বেবিচকে বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী পদে সিনিয়রকে ডিংগিয়ে জুনিয়রকে প্রধান প্রকৌশলী পদে ৬ মাসের প্রঙাপনে গত মার্চে পদায়ন করা হয় ইএম বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকারিয়াকে। এতে অধিকার ক্ষুন্ন প্রশ্নে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন সিনিয়র প্রকৌশলী ইএম শুভাশিষ বড়–য়া।
আদালতে রিট মামলা শুনানিতে ৬ মাসের প্রঙাপনের প্রধান প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেনকে সরিয়ে তার সময়কালকে অবৈধ ঘোষণা করে শুভাশিষ বড়–য়াকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়নের জন্য আদেশ জারি করেন।
কিন্ত বেবিচক কর্তৃপক্ষ আদালতের ওই আদেশ আমলে না নিয়ে আপিলের পদক্ষেপ নেয়। প্রথমে আপিল করেন ওই পদে পদায়নরত প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেন এবং পরে আপিল করে বেবিচক কর্তৃপক্ষ।
দুটি আপিলই শুনানির অপেক্ষায়।
আওয়ামী দোসররা এখনও বেবিচকে বহাল : আওয়ামী দোসর কর্তা-ব্যক্তিরা এখনও বেবিচকের কি-পয়েন্টে বসে আছেন। আয়ামী আমল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমল গুজরান হলেও এদের বদলি করা হচ্ছে না। নতুন বিমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সাথে এদের পরিচয়পর্ব শেষ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এদের বিরুদ্ধে ব্যানার টানিয়ে প্রত্যাহারের দাবি ওঠলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। বরং এদের পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এদের সিন্ডিকেড নিয়ে গত ৮ আগস্ট/২০২৫ রূপালী বাংলাদেশে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
উন্নয়ন কাজ থমকে আছে: বেবিচকের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়নমুলক ও মেরামত কাজ থমকে আছে। চলতি অর্থ বছরের ৬ মাস পার হবার পর ঠিকাদারি কাজের প্রাক্কলন পাস হয়। সংস্থার চেয়ারম্যানের দপ্তরে ঠিকাদারি কাজের ফাইল গেলে ‘আলোচনা আর পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে প্রকৌশলীরা জানান। কোন কোন প্রকৌশলীকে নাকি গালমন্দ করা হয়। মনের গোস্সায় প্রকৌশলীরা আর অগ্রসর হতে চান না। ইএম বিভাগের এক প্রকৌশলী জানান, চেয়ারম্যান স্যারের দপ্তরে ফাইল গেলেই তা স্পিক-এর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, স্পিক আর ডিসকাস করতে করতেই সময় পার হয়ে যায়, উন্নয়ন ও মেরামত কাজের ফাইল আর প্রশাসনিক মনজুর হয় না। আবার কোন কাজ করার দরকার নেই বলে বাদ দেয়া হয়।

 ৩ কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবিতে কর্মচারীদের স্মারকলিপি ভেস্তে গেছে : আওয়ামী দোসর আরো ২১ জন : ৩ কর্মকর্তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের  প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান- বেবিচক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ প্রয়াস ভেস্তে গেছে। ১ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও ২ জন এখনও বেবিচকে বহাল। পদত্যাগ দাবি করা কর্মকর্তারা হচ্ছেন- বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁ (যুগ্ম সচিব), তার ছোট ভাই আইন ও বিচার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ (উপসচিব-রেজিস্ট্রেশন) এবং উপ পরিচালক (এভসেক ট্রেনিং) রাশিদা সুলতানা।

এ দাবির ৬ মাস পর সদস্য প্রশাসন মহি উদ্দিন খাকে বদলি করা হয়্। পদায়ন করা সদস্য অর্থকে।

রাশিদা সুলতানাকে পাবনার ঈশ্বরদীতে বদলি করা হয়েছে, কিন্ত  যোগদান করেননি বলে জানা যায়।

৩ কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টানানো হয়েছিল। অপসারণ দাবি করা আরেক  কর্মকর্তা হচ্ছেন :  বেবিচক সদস্য , অর্থ, সরকারের অতিরিক্ত সচিব( এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) অর্থ এস এম লাবলু রহমান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, নাটোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আত্মীয় সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁ (যুগ্ম সচিব)। তিনি বিসিএস ২০তম ব্যাচে একজন সরকারের আমলা। জুনাইদ আহমেদ পলক ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি এয়ারপোর্টে তাকে সহযোগিতা করেন। বিষয়টি এয়ারপোর্টে দায়িত্বরত বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নজরে এলে জুনাইদ আহমেদ পলককে আটক করা হয়। তখন বিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনি চাকরি খাওয়ার হুমকি দেন। তাছাড়া সদস্য (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁর ছোট ভাই আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি-ধমকি দেন।

এ ছাড়া সিভিল এভিয়েশনের উপপরিচালক (এভসেক ট্রেনিং) রাশিদা সুলতানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের হাজারো অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলি আমলে না নিয়ে রাশিদা সুলতানাকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন সদস্য (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁ। রাশিদা সুলতানাকে পাবনা বিমানবন্দর ঈশ্বরদীতে বদলি করা হয়েছে। রাশিদা সুলতানার বদলি ঠেকানোর জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। রাশিদা সুলতানার পদত্যাগ দাবি জানান তারা।

  • এতে উল্লেখ করা হয়, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দোসর ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ট এবং সাবেক দুর্নীতিবাজ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আত্মীয় ও আশ্রয়দাতা সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (প্রশাসন) আবু সালেহ মহিউদ্দিন খাঁ (যুগ্মসচিব) এবং তার ছোট ভাই আবু সালেহ সালাউদ্দিন খাঁকে অনতিবিলম্বে চাকরি হতে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

যুগ্ম সচিব মহি উদ্দিন খা পুলিশ ক্যাডারে ছিলেন। সদ্য বদলি করা আইজিপির অধীনে তিনি চাকরি করতেন। তিনি নাকি আইজিপির প্রভাব দেখাতেন-বেবিচকে এমন কথা শোনা যায়। পুলিশ ক্যাডার থেকে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে আসেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় বেবিচক সদস্য অর্থ এস এম লাবলু রহমান সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহচর। এরা সবাই বিগত সরকারের মদদপুষ্ট, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এবং দুর্নীতিবাজ। বেবিচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জায়গা থেকে অবিলম্বে তাদের অপসারণ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

এ দিকে প্রশ্ন ওঠেছে, বেবিচক চেয়ারম্যান কি আওয়ামী দোসর বেস্টিত। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনও আওয়ামী দোসররা বেবিচকে বহাল, এদেরকে বদলি করা হচ্ছে না। আওয়ামী দোসর ২১ জনের একটি তালিকা করেছেন কর্মচারীরা।তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন : মো. আনোয়ার হোসেন, উপপরিচালক, অর্থ, মো. নজরুল ইসলাম, এ্যারোড্রাম কর্মকর্তা, আনিসুর রহমান, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কাপাসিয়া, মাহমুদ হাসান সেলিম, সহকারি প্রকৌশলী ইএম, মো, মাহফুজুল হক, সিএনএস ইনজিনিয়ার, মাসুম হাওলাদার ইএম হেল্পার, মো. টিপু সরকার ভান্ডার রক্ষক, মো. ফরিদ উদ্দিন, প্রযুক্তি সহকারি, আওয়ামী কর্মী, মো. কামরুজ্জামান, ফোরম্যান, হাওলাদার, ফোরম্যান,  মো. আনোয়ার হোসেন, এরোড্রাম সহকারি, রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা, রফিকুল ইসলাম সুজন, নাসির উদ্দিন খান, আল আমিন, ক্যাশিয়ার, হাসান, এলডিএ, মাকসুদ তালুকদার, নুপুর রানি মজুমদার, ভান্ডার রক্ষক, রাশিদা সুলতানা ডিডি।