বেবিচক : ২৮ সেক্টরে কেনাকাটায় অনিয়ম : চেয়ারম্যানের ১ ডজন নির্দেশনা জারি : থার্ড টার্নালের অনিয়মে তদন্ত কমিটি

একুশে রিপোর্ট: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচকে বছরজুড়েই হাজার হাজার কোটি টাকার কেনাকাটার যজ্ঞ চলে। এসব কেনাকাটায় পিপিএ, ২০০৬ এবং পিপিআর, ২০০৮সহ ক্রয়সংক্রান্ত অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কতিপয় ঠিকাদার ও বেবিচক কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট করে কেনাকাটায় নয়ছয়ের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্ীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। যা উঠে এসেছে বেবিচকের অডিট বিভাগের সর্বশেষ নিরীক্ষায়। এদিকে কেনাকাটায় অসঙ্গতি ঠেকিয়ে ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গত ১৯ নভেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়ার জারি করা ওই অফিস আদেশে বলা হয়, বেবিচকের প্রতিটি বিভাগের ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র অডিট করা হচ্ছে। অডিটে কেনাকাটার নথিপত্রে নানা ধরনের ভুল, অসঙ্গতি ও কাগজপত্র মিসিং পাওয়া গেছে। এগুলো যেন না হয়, সে জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যারা ভুল করেছেন, তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেবিচকের ২৮টি ইউনিটে বিভিন্ন ধরনের ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিএ, ২০০৬ এবং পিপিআর, ২০০৮সহ ক্রয়সংক্রান্ত প্রচলিত অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের অডিট বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্রয়কারী ইউনিট
নিরীক্ষাকালে ক্রয়সংক্রান্ত বিধিবিধানের ব্যত্যয়সহ নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।
ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ বিধিবিধান যথাযথ অনুসরণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- রাজস্ব ব্যয় এবং মূলধন ব্যয়সহ সব খরচের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করা; ব্যয়বহুল বিশেষায়িত সরঞ্জামাদি ক্রয়ের পূর্বে সেগুলো পরিচালনায় দক্ষ জনবল রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা; নিত্যনৈমিত্তিক কাজে ব্যবহার্য যেমন- ওয়াকি-টকিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রয়োগ করা; পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর, ২০০৮-এর তফসিল-১ বর্ণিত প্রযোজ্য আদর্শ দলিলসমূহ ব্যবহার করা; পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা; কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দরপত্র দলিলের পিসিসি অংশে প্রসেসিং ইনটিটি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার যথাযথভাবে নির্ধারণ করা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজারের পেমেন্ট সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে কার্য সম্পাদনকারীকে বিল পরিশোধ করা; বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের শর্তাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা; পরিশোধ ভাউচারে যথাযথ রেফারেন্সসহ প্রতিটি ক্রয়সংক্রান্ত আলাদা পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করা; সকল আয়-ব্যয়, সম্পদ এবং দায়ের যথাযথ হিসাবভুক্তি নিশ্চিত করা; ক্রয়কৃত পণ্যসামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ ও গুণগতমান যাচাইসহ বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যয়ন সংরক্ষণ করা; নির্ধারিত স্থানে গুণগতমানের প্রত্যয়নকারীর স্বাক্ষর নিশ্চিতসহ যথাযথভাবে ম্যাটেরিয়ালস রিসিভিং রিপোর্ট প্রস্তুত করা; সরঞ্জামাদি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে পুরাতনগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার প্রমাণক সংরক্ষণ করা এবং যথাযথভাবে ডেড স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ করার কথাও উল্লেখ করা হয় ওই অফিস আদেশে।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, মেগা প্রকল্পের আওতাধীন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালসহ বেবিচকের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে এগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রশাসন এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। থার্ড টার্মিনালের কেনাকাটা ও ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিটি বিল যাচাই-বাছাই করছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, , কেনাকাটার কাগজপত্র অডিট বিভাগ নিরীক্ষা করছে। দুর্নীতি বা অনিয়ম কিছু হয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে, এ রকম কিছু হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থার্ড টার্মিনালে কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয় তিনি বলেন, এর সাথে বিদেশি কোম্পানি জড়িত, বড় ধরনের দুর্নীতি এখনও পাওয়া যায়নি। প্রয়াত উপদেষ্টা থার্ড টার্মিনালের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। আমরা প্রতিটা জিনিস দেখছি। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।