স্টাফ রিপোটার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যশোহর বিমানবন্দরে অনিয়ম-দুর্নীতি যেন থামছেই না। টেন্ডার অনিয়ম-দুর্নীতি, কার পার্কংয়ে নিজেরা স্টাীকার ছাপিয়ে তা ব্যবহার করে পার্কিংয়ে গাড়ী প্রবেশ করানো, তেল চুরি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, বা ঠিকাদারি কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা, কর্মরত প্রকৌশলীদের কয়েকজন নিজেরাই ঠিকাদারি কাজ করা, কোয়ার্টার বরাদ্দে অনিয়ম, কেরানি সামাদের দৌরাত্ম, বার বার বদলির পরও যশোহরেই বহালসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত যশোহর বিমান বন্দর। দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান, ২ ম্যানেজারকে ঢাকায় বদলি, নয়া ম্যানেজার নিয়োগ। কিন্ত দুর্নীতি চলমান, এখানে গোপালগনজ সিন্ডিকেড সক্রিয়। বদলিকৃত ২ ম্যানেজারের বাড়ি গোপালগনজ বলে জানা যায়।
এ নিয়ে ইতিপূর্বে একুশে বার্তার অনলাইন সংস্করণে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। সাবেক ম্যানেজারের হাসিনা সম্পর্ক নিয়ে এখানে চাউড় হয়েছিল। ওই ম্যানেজারের স্ত্রীও তা আচ করে ফেলে ঘটনা ধরে ফেলেন। সদ্য বদলিকৃত ম্যানেজার এডি এটিএম সায়েদুর রহমানও দুর্নীতিমুক্ত যশোহর বিমানবন্দর গড়ে তুলতে পারেননি। তার গায়েও দুর্নীতির তকমা লেগেছে, বদলি করা হয়েছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
গত ০৩ সেপ্টেম্বর ডিডি এটিএম যোগেশ চন্দ্র কর্মকারকে যশোহর বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। তার মূল পোস্টিং কক্সবাার বিমানবন্দর হলেও তাকে যশোহরে সংযুক্তি করে আয়ন-ব্যয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে এডি প্রশাসন তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রঙাপন জারি করা হয়েছে।
এ দিকে অকেজো মালামাল নিলামে বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩ সদস্য বিশিষ্ট ওই টিমের মধ্যে দুইজন ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক। তারা হলেন, উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী ও উপ-সহকারী পরিচালক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস।
সূত্র জানায়, দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন রোড থেকে উত্তোলিত অকেজো মালামাল (ইট, পাথরসহ ইত্যাদি) নিলামে বিক্রিতে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে মালামাল বিক্রি না করে চতুর্থ দরদাতার কাছে অকোজো মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ অর্থাৎ প্রথম হওয়া ঠিকাদারের দেওয়া দর ছিলো ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু তার কাছে এমনকি পরের আরো দুই দরদাতাকে ডিঙিয়ে চতুর্থ দরদাতার কাছে অকেজো মালামাল বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চতুর্থ দরদাতার দেওয়া দর ছিল ১০ লাখ টাকা।
সোমবার অভিযানকালে ওই কার্যালয়ে ব্যবস্থাপকের দেখা পাননি দুদক কর্মকর্তারা। তিনি ঢাকায় রয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (সহকারী পরিচালক) দুদক কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
দুদকের ওই টিমের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী জানান, যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দরদাতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি ছিলো। এ কারণে যথাযথ কাগজপত্র থাকায় চতুর্থ দরদাতার কাছে মালামাল বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে কর্মরতরা দুদক কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বাতিল হওয়া প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হওয়া দরদাতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
তাদেরকে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপক যশোরে ফিরলে ওই ৩ জন ঠিকাদারের কাগজপত্র দুদককে সরবরাহ করা হবে। দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিলামে ওঠা মালামাল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হয়েছে মালামাল নিলামে বিক্রিতে অনিয়ম ছিলো। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দরদাতার দেওয়া কাগজপত্র হাতে পেলে তারা বিস্তরিত তথ্য জানতে পারবেন।
এ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে।
