একুশে বার্তা ডেক্স : তিতাস বলছে দৈনিক চাহিদা দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, পাচ্ছে এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে সমস্যা কেটে যাওয়ার প্রত্যাশা করছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ গ্যাস গেল কই? প্রথম রমজানের ইফতার আয়োজন করতে ইসরার সুলতানা রোজির এই অভিব্যক্তি। রাতে সেহরি তৈরির সময়ও গ্যাসের চাপের একই দশা। উত্তর ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তিনি। গত কয়েকদিন থেকে দিনের সঙ্গে রাতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাকে। এই যখন উত্তরের দশা তখন ঢাকার মধ্যভাগ আর দক্ষিণের অবস্থা কী? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আগে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস থাকত না। এখন তার সঙ্গে সন্ধ্যাও যোগ হয়েছে।
বনশ্রী সি ব্লকের বাসিন্দা দিলরুবা সুলতানা বলছিলেন, আগে সকাল আটটা থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকত না। এখন সন্ধ্যার পর সাতটা থেকে ৯-১০টা পর্যন্ত আবার গ্যাস থাকে না। আবার ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি তিতাস গ্যাসের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন কেন তার বাসায় সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। লালমাটিয়া অফিস থেকে এসে ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় অফিস থেকে এসে দেখে শুনে জানিয়ে গেছেন তাদের কিছুই করার নেই।
এই অবস্থা তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির। রমজানে সঙ্কট সামলাতে কি করতে পারে তিতাস এমন প্রশ্নে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান জানালেন, চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে দূরত্ব না ঘুচলে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, আমরা সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সমস্যা ছিল তা দূর করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হলে এই সঙ্কট কমবে।
তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্র বলছে, তাদের এখন দৈনিক চাহিদা রয়েছে দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে তিতাস পাচ্ছে এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে করে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সঙ্কট থেকে যাচ্ছে। এর ওপর বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য গ্যাসের বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হলে সঙ্কটের পুরোটা ভোগ করতে হচ্ছে আবাসিক গ্রাহককে।
তিতাস সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার পিডিবি একটি বিদ্যুত কেন্দ্র চালালে ঢাকায় গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হয়। এরপর তাদের দ্রুত বিদ্যুত কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বলা হয়। শুক্রবার আর ওই কেন্দ্রটি চালায়নি পিডিবি। সঙ্কট এতটাই মারাত্মক যে রাজধানীতে সিএনজিতে রেশনিং-এর পরিমাণ বাড়িয়েও সঙ্কট সামাল দেয়া যাচ্ছে না। এখন প্রতিদিন ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজিতে রেশনিং করে ওই গ্যাস শিল্প ও বিদ্যুতে দেয়া হচ্ছে। সন্ধ্যায় স্টিল মিলগুলোও বন্ধ রাখা হচ্ছে। তারপর গ্যাসের সঙ্কট থেকে মুক্তি মিলছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগে শীতের সময় ডিসেম্বর থেকে গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হতো। শীতের জন্য এই সঙ্কট তৈরি হতো। ফেব্রুয়ারি থেকে আবার স্বাভাবিক চাপ পাওয়া যেত। এখন চলতি বছর গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি বলছে এখন এই সঙ্কট বছর ব্যাপীই রয়েছে।
সরকার প্রত্যাশা করছে এলএনজি আসলেই গ্যাসের সঙ্কট কমে যাবে। কিন্তু আদৌও কমবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সরকারের হিসেবে এখন দেশে গ্যাসের সঙ্কট ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ওপরে। তবে বেসরকারী হিসেবে বলছে এই সঙ্কট প্রতিদিন অন্তত ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এখন পেট্রোবাংলা দৈনিক দুই হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। এর বিপরীতে প্রকৃত চাহিদা রয়েছে তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকার বিপুল এই ঘাটতি মেটাতে শুরুতে সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটতির অর্ধেক মোকাবেলা করতে পারে এমন গ্যাস সরবরাহ করেই সরকার সকল আবেদিত শিল্পে গ্যাস দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বাসা বাড়িতেও সংযোগ দেয়ার পক্ষে একটি পক্ষ। এতে করে নতুন যে চাহিদা তৈরি হবে তা পূরণ করতে সম্ভব হবেই না। আরও নতুন সঙ্কট তৈরি হবে।
মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল উপকূলে ভিড়লেও পাইপ লাইন রেডি না হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার বলছে, ২৫ বা ২৬ মে এলএনজির সরবরাহ শুরু করতে পারবে তারা।
