কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীদের মালামাল চুরির বিষয়টি উদ্বেগজনক।
গত মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ২০টির বেশি লাগেজ কাটার ঘটনা ঘটেছে।
এসব লাগেজ থেকে দুর্বৃত্তরা মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখায় চুরি যাওয়া মালামাল ফিরে পাওয়ার আশায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বস্তুত এ বিমানবন্দরে লাগেজ উধাও হয়ে যাওয়া এবং লাগেজ কেটে মালামাল চুরি দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে।
কর্তৃপক্ষ এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার ফলে এসব ঘটনা কিছুটা কমে এসেছিল। তবে কিছুদিন ধরে বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার ঘটনা আবারও বেড়ে গেছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। এতেই বোঝা যায়, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা কতটা বেপরোয়া।
বিমানবন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তা না পেলে চুরির ঘটনার পর অপরাধীরা সহজে পার পেত না। কাজেই এসব অপরাধীকে কারা সহায়তা করছে তা চিহ্নিত করা জরুরি। এ অসাধু চক্রের কারণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ নিলে এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করা কঠিন কোনো কাজ নয়।
বিমানের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি বহুল আলোচিত। কাজেই দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া না হলে এরা নানা কৌশলে পার পেয়ে যাবে। যে উদ্দেশ্যেই বিদেশিরা আসুক, এ দেশের বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার চিত্র দেখে তারা নেতিবাচক ধারণা নিয়ে যাবে।
দুঃখের বিষয় হল, অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ত্রুটি, যাত্রী হয়রানি, লাগেজ পেতে দেরি হওয়া ইত্যাদি অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দর। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া না হলে একদিকে যেমন দেশে পর্যটকের সংখ্যা কমবে, অন্যদিকে বিভিন্নরকম নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার ঝুঁকিও বাড়বে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ মহলেরও উচিত এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া।
জানা গেছে, কেবল সাধারণ যাত্রীরাই নন, ভিআইপি যাত্রীরাও লাগেজ চক্রের কবলে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটি দূর করা সম্ভব হলে শাহজালাল বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হবে।
এতে বাংলাদেশে ভ্রমণের বিষয়ে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সার্বিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিরসন করা না হলে বিচ্ছিন্নভাবে বিমানবন্দরের সমস্যা দূর করা কঠিন হবে।
উল্লেখ্য, ল্যাগেজ চুরিরোধে গত ১১ নভেম্বর শাহজালালে সিএএবির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গণশুনানির অনুষ্ঠানের কয়েকদিন পরেই একরাতে গণহারে ল্যাগেজ কেটে চুরির ঘটনা ঘটলো।
