বিশেষ সংবাদদাতা : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মানব পাচার সিন্ডিকেড সক্রিয়। এদের রোধ করবে কে ? সরষে ভুত। বিভিন্ন সময়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, গোয়েন্দা নজরদারি- কোন কিছুই আমলে নেয়া হয়নি। সিভিল এভিয়েশন- বিমান- বিভিন্ন এয়ার লাইসেন্সের কতিপয় অসাধু কর্মচারি- কর্মকর্তা, এদের সাথে যুক্ত হওয়া পুলিশ- ম্যানপাওয়ার ডেক্স সহায়তায় বিমানবন্দর দিয়ে মানব পাচার অব্যাহতগতিতে চলছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। সিভিল এভিয়েশনের অর্ধশত নিরাপত্তারক্ষী এই মানব পাচারে জড়িত বলে বিভিন্ন সময় গোয়েন্দা রিপোর্ট এেেসছে। এরা প্রত্যেকেই কোটিপতি, রাজধানী ঢাকায় ফ্লাট/প্লট, দামি গাড়িতে চলাফেরা- তাদের লাইফস্টাইল বদলে দিয়েছে। এদের মধ্যে কেরানি জাহাংগীর হোসেন মিয়া ( ২১ নারি ও শিশু পাচার মামলার আসামি ছিল, যদিও মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে), জাফর ইকবাল মিঠু ( রাজধানির সেগুন বাগিচায় বিলাসবহুল ফ্লাট), তালুকদার মহসিন ভুইয়া, ‘বি’ পালার আমিনুল ইসলাম, মাসুদ, গনি, মিজানুর রহমান খান নয়নের নাম সবার মুখে মুখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , এই সিন্ডিকেড সদস্য ‘বি’ পালায় ডমেস্টিকে সংযোগ গেটে ডিউটি আমিনুল ইসলাম ওরফে পাতলা আমিনুলের নেতৃত্বে পুলিশের সহায়তায় গত ৩০ এপ্রিল জাল ভিজিট পাসপোর্টে রিজেন্ট এয়ারে কানাডার উদ্দেশ্যে ৩ মানবকে পাচার করা হয়। সিংগাপুর যাবার পর সেখানকার আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হাতে জাল ভিজিট পাসপোর্টে এই পাচারকৃত ৩ মানব ধরা পড়ে। পরে তাদেরকে গত ১ মে গভীর রাতে অর্থাৎ ২ মে রিজেন্ট এয়ারে করে সিংগাপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফেরত পাঠানো হয়।
পাচারকৃত এই ৩ মানবের নাম হলো : আ. কুদ্দুস(৩২),রাসেল ঢালি (৩৭) এবং মকবুল (৩৯)। এদেরেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর ঢাকার বিমানবন্দর থানায় গত ৩ মে মামলা হয়েছে, মামলা নম্বর-০৫।
সূত্রে জানা গেছে, পাচারকৃত এই ৩ মানবকে জালভিজিট পাসপোর্টে কানাডার উদ্দেশ্যে পাচার করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশের ‘সি’ পালায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ নিরাপত্তা চেক বা ‘আইনেস’ করেন ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই বাতেন।
ঘটনার নায়ক সিএএবির নিরাপত্তারক্ষী- যিনি দীর্ঘদিন যাবত শাহজালালে কর্মরত থেকে মানব পাচার জড়িয়ে বহু বিত্ত-বৈভবের মালিক, রাজধানিতে তার বহুতল বাড়ি রয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। এই আমিনুলকে চলতি ডিউটি রোস্টারে ‘ডি’ পালা থেকে ‘বি’ পালায় ডমেস্টিক সংযোগ গেটে ডিউটি দেয়া হয়েছে। কিন্ত ডিউটি আওয়ারে এই গার্ড আমিনুল হাজিরা দিয়েই তার ডিউটিপোস্টে একজন আনসার বাহিনীর সদস্যকে বসিয়ে ইন্টারন্যাশনালে মানব পাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গোপনে তার ডিউপি পোস্ট তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ওসি ইমিগ্রেশন ‘সি’ পালা সাখাওয়াত হোসেনের সেল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
