শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ-বেল্ট সংকট : যাত্রী হয়রানি চরমে : বাড়ছে ল্যাগেজ চুরির ঘটনা: কর্তৃপক্ষ ‘কম্ভুকর্ন’

একুশে বার্তা রিপোর্ট :  শাহজালাল বিমানবন্দরে  যাত্রী ল্যাগেজ বেল্ট সংকট চরম আকার ধারন করেছে। গত সপ্তাহ যাবত এ সংকটের কোন সমাধানে সিএএবি কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসছে ন।ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আর হয়রানির শেষ নেই, বাড়ছে ল্যাগেজ চুরির ঘটনা। সিএএবি কর্তৃপক্ষ ‘কম্ভকর্ন’।

জানা যায়, যাত্রীর সংখ্যা বিমানবন্দরে প্রতিনিয়তই  বাড়ছে, কিন্তু বাড়েনি লাগেজ-বেল্ট এবং সে গুলির ধারণক্ষমতা। বিশ্বের কোনো দেশের এয়ারপোর্টে বেল্ট চলমান অবস্থায় যাত্রীদের লাগেজ অন্য কারো নামাবার রীতি না থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এদিকে সময়মতো বেল্টে লাগেজ না পেয়ে যাত্রীরা হইচই করছেন। অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কারণ , শাহজালালের তিনটি বেল্টের একটি নষ্ট। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে  বেল্টটি নষ্ট  মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
আর, বেল্ট নষ্ট থাকায় কখনো কখনো একাধিক বিমানের লাগেজ তুলে দিতে হয় একই বেল্টে। ফলে লাগেজ-জট সৃষ্টি হয়। সে কারণেই নাকি তারা যাত্রীদের লাগেজ বেল্ট হতে নামাইয়া রাখে! প্রয়োজনীয় লাগেজ-বেল্ট নাই, সেইগুলির ধারণক্ষমতাও সীমিত। ফলে বাড়ছে চুরির ঘটনা।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ  হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এয়ারক্রাফট হতে যাত্রী  ইমিগ্রেশন শেষে লাগেজ-বেল্টে পৌঁছে দেতে পায়, লাগেজ তখনো পৌঁছায়নি। ফ্লাইটের লাগেজ ডেলিভারির কাজ কখনই ৪০ মিনিট আগে শুরু হয় না। ভাগ্যবানরা প্রথমেই পাইয়া যান। অন্যরা কখনো কখনো পান দুই ঘণ্টা পর। একই অবস্থা উড়োজাহাজ টেক অফের বেলায়ও। দেখা যায়, লাগেজ ঢুকানো শেষ হচ্ছে না, তাই বিমান  উড়তে পারছে না। আর লাগেজ কাটা, ছেঁড়া, হারাবার অভিযোগ তো আছেই। অথচ বিশ্বের বিখ্যাত সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যায়, যাত্রী ইমিগ্রেশন করে লাগেজ বেল্টে পৌঁছাইবার আগেই লাগেজ পৌঁছে যায়।

প্রতিদিন শাহজালাল  বিমানবন্দরে শতাধিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। মাঝেমধ্যে একসঙ্গে ৮-১০টি ফ্লাইটও অবতরণ করিতেছে। এই সময় কয়েক হাজার লাগেজ ফ্লাইট থেকে নামানো হয়। তবে লাগেজের তুলনায় বিমানে জনবল এবং লাগেজ সরবরাহ যান (টু-ট্র্যাক্টার) ও কনভেয়ার বেল্টের স্বল্পতা রয়েছে। বিমানবন্দরের দেশি-বিদেশি সকল উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজটি করে বিমান। বিষয়টি   গণমাধ্যমে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের হয়রানি রোধে একাধিক বার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়া করাবার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে তা ভণ্ডুল হয়েছে।

দেশের নাগরিকদের নৈমিত্তিক হয়রানি তো আছেই, বিমানবন্দরে নেমেই বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয় বিদেশি নাগরিকদের। এই অবস্থাই চলছে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। শত সমালোচনা-লেখালেখির পরও ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের’ এসব প্রক্রিয়ার কোনো উন্নতি নাই। একটি লাগেজ-বেল্ট গত দুই সপ্তাহ নষ্ট হয়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। সকল সরকারের আমলেই বিমানবন্দরের মান উন্নয়নের নানা উদ্যোগ দেওয়া হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি এবং দুর্নীতির কারণেই অবস্থার উন্নতি করা যায় না। কিন্তু দেশ অগ্রসর হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সেবার মানের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা আশা করব, সরকার এসকল ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি, অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করবে না।