শাহজালাল বিমানবন্দর : সোনাসহ ধরা গেল সিএএবির প্রকৌশলী জহির: মুচলেকায় ছাড় , সোনা ডিএম করলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষ

বিশেষ সংবাদদাতা : গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বৃর গভীর রাতে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৬৭৮ গ্রাম সোনা নিয়ে পালানোর সময় সিভিল এভিয়েশনের সহকারি প্রকৌশলী (সিভিল) জহিরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা সংস্থা । রাতভর তাকে গ্রেফতারকৃত অবস্থায় রাখার পর তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশে মুচলেকা দিয়ে অপরাধ স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা কৃের ছাড় পান।
এ ঘটনায় শাহজালাল বিমানবন্দরে তোলপাড় চলছে।
এ দিকে প্রকৌশলী জহিরকে সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সিএএবি সূত্রে জানা যায়।
এ ব্যাপারে কাস্টমসের উপ-কমিশনার নির্ঝর আহমেদ জানান, আমাদের এক স্টাফকে ম্যানেজ করে সোনা নিয়ে পালানোর সময় প্রকৌশলী জহিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তার থেকে ৬৭৮ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। আটককৃত সোনা ডিএম করা হয়েছে।
চ্যানেল ২৪-এ প্রচারিত খবর থেকে জানা যায়, প্রকৌশলী জহির ঘটনার রাতে ইমিগ্রেশনের পাশে একটি চেয়ারে বসা ছিলেন, তার গলায় নিরাপত্তা পাস ঝুলানো ছিল। রাত ১১ টার পরে সৌদি আরব থেকে এসভি ফ্লাইট এসে শাহজালালে অবতরণের পর এক ব্যক্তি তার কাছে ৬টি সোনার বার দেয়। সময় ও সুযোগে উক্ত সোনা নিয়ে পালানোর সময় বাধসাধে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা, তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে সোনা জব্দ করা হয়।
এ দিকে সিএএবির ডিভিশন-৩-এ দেড় কোটি টাকার গেট কেলেংকারির সাথেও এই প্রকৌশলী জহির জড়িত, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তাকে কক্সবাজার বিমানবন্দর বদলি করা হলেও তিনি তদবির করে ঢাকায় চলে আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক্সইএন শহিদুজ্জামানের আমলে এই জহির ও আরেকজন প্রকৌশলীর সাইট ভিজিট করা রিপোর্টের ভিত্তিতে কাজ না করে বা নামকাওয়াস্তে কাজ করে বা নিম্মমানের কাজ করে অপ্রয়োজনীয় খাতে কোটি কোটি টাকার বিল দিয়ে দেয়া হতো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের।কিন্ত ঠিকাদারি কাজের ফাইলে ‘উইথহেল্ড বা কাজ করার প্রয়োজন নেই’ লিখে দেয়া হতো না। কার্গো কার পার্কিংয়ে বাশের ও টিনের বাউন্ডারি ঘেরা দিয়ে কয়েক লাখ টাকার বিল দেয়া হয় শাসকদলের পরিচয়ধারি এক নেতাকে। তার পাশে ড্রেনেজ নির্মাণের সময় যথাযথ প্রোটেকশন ( সেইভটি ফ্স্টা) না নেয়ায় একজন শ্রমিক ড্রেনে পড়ে মারা যান। মামলা না করার তদবিরে ম্যানেজ করা হয়-যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।
আর এই এক্সইএনও দুর্নীতিবাজ বলে দুদক বার বার তলব তাকে করে, বিদেশে নাকি তার বাড়ি রয়েছে, রাজধানি ঢাকার অভিজাত মার্কেটে একাধিক দোকান রয়েছে বলেও শোনা যায়।