একুশে বার্তা প্রতিবেদন : ২১ আগস্টের রায় নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া উচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখন কোন মামলার রায় কবে হবে, তা আর বিচারকরা নয় দেশের আইনমন্ত্রী স্থির করেন। বিচারবিভাগের উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকলে এটা তিনি করতে পারেন তা সহজেই বোধগম্য। কিন্তু গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিষময় পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি। অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে সরকার জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশের জনগণের মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত নয়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি।
নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাদি সমাধানের উদ্যেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া। গত ২৭ আগস্ট নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্ভাব্য রায় নিয়ে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রেড এলার্ট জারি করেছিল। পরবর্তীতে ইন্টারপোলের প্রধান কার্যালয় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তারেক রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পেয়ে গত ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ লিখিতভাবে সেই রেড এলার্ট প্রত্যাহার করে।
রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়ার আওয়ামী ইচ্ছাপূরণ হয়নি- হবেও না ইনশাআল্লাহ্। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসাবে গ্রেনেড হামলার মামলাকে ব্যবহার করতে চাইছে। আর এজন্যই দলীয় একজন নেতা আবদুল কাহ্হার আখন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানকে দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। কিন্তু সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে মুফতি হান্নান সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছে। এখানে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মির্জা আলমগীর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সরকার প্রধান, সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীসহ সরকারি মন্ত্রীবর্গ ও সরকারি দলের ছোট-বড় নেতাদের যে বক্তব্য সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হচ্ছে তা হলো- ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জড়িত। আইনমন্ত্রী বলেছেন- সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই মামলার রায় হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেছেন- এই রায়ের পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। এসবের মাধ্যমে প্রমাণিত বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি হলো- বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা নির্বিঘ্নে এমন সব মন্তব্য রাখতে পারেন- যা মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার চলাকালেও এমন হয়েছে এবং তার ফলাফল মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। যে দেশে তারেক রহমানকে নির্দোষ ঘোষণার পর বিচারিক আদলতের বিচারককে দেশত্যাগে বাধ্য হতে হয়। নিম্ন আদালতকে প্রশাসনের অধীনে রাখার সরকারি অপচেষ্টার বিরোধিতা করায় দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। সে দেশে এটাই তো স্বাভাবিক। এখন কোন মামলার রায় কবে হবে তা আর বিচারকরা নয় দেশের আইনমন্ত্রী স্থির করেন। বিচার বিভাগের উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকলে এটা তিনি করতে পারেন- তা সহজেই বোধগম্য। মির্জা আলমগীর বলেন, ২০১১ সালে গ্রেনেড হামলা মামলার পুলিশ রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগেই তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করা হবে। হয়েছেও তাই। মামলার তদন্তকারীদের উপরেও সরকারের প্রভাবের মাত্রা কতটা তা বোঝা যায়। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মামলার রায় হওয়ার আগেই কি করে বলতে পারেন এই মামলার রায় হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। এর অর্থ হলো- তিনি জানেন যে কি রায় হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বলা এসব বক্তব্যকে কোনো বিচারেই গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার কিংবা আইনের শাসনের পক্ষে বলা যাবে না। একমাত্র স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই শুধু এমন ঘটনা সম্ভব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা এবং তার পরবর্তীতে সংঘটিত ঘটনাবলী পর্যালোচনা করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সকলের জানা প্রয়োজন। তা হলো- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে মুক্তাঙ্গণে সভার আয়োজন করেছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশ সভার নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ করে মহানগর পুলিশকে কিছু না জানিয়ে সভার স্থান পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নিয়ে যাওয়া হলো কেন আজও তা স্পষ্ট হয়নি। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম জাতীয় সংসদে হঠাৎ করে সভার স্থান পরিবর্তনের কারণ জানতে চেয়ে বক্তব্য দিলেও তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। মির্জা আলমগীর বলেন, ঘটনার পরদিন ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট এই হামলার বিষয়ে মতিঝিল থানার একজন কর্মকর্তা এফআইআর দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত মোট ৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। ২০০৭ সালের ২২ আগস্ট ৫ম তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবীর যে চার্জশিট আদালতে পেশ করেন তাতে ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও সেই তালিকায় তারেক রহমানের নাম ছিল না।
এমনকি ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা সাব-জেলে বন্দি থাকার সময় গ্রেনেড হামলা মামলার ৫ম তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল কবীর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ১৬১ ধারায় গৃহীত জবানবন্দিতে তিনি কোথাও খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেননি। এমনকি এই মামলার চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও তিনি আদালতে এসে এমন কোন সাক্ষ্য দেননি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুফতি হান্নানের দেয়া প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও কয়েক বছর ধরে পরিচালিত পুলিশি ও গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে এই চার্জশিট প্রদান করা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর এর ভিত্তিতেই ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ ফ্রেম করে বিচার কার্য শুরু হয়। মামলায় ৬১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়। ইতিমধ্যে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ার পর গোটা ঘটনা এক অস্বাভাবিক মোড় নেয়। চার্জশিটে জিয়া পরিবারের কারো নাম না থাকায় সরকার চলমান সেই বিচার কাজ বন্ধ করে মামলা পরিচালনার জন্য একটি স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত করে। ২০০৯ সালের ২৫ জুন এই নতুন কর্মকর্তা মামলাটির অধিকতর অনুসন্ধানের অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে নতুন কোন তদন্ত কর্মকর্তা দিয়ে ২ মাসের মধ্যে আবার চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেন। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট সরকার অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহ্হার আকন্দকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে।
এ সময় তিনি মুফতি হান্নানের দু’টি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং সেখানে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করতে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে অযোগ্যতার অভিযোগে আবদুল কাহ্হার আকন্দ চাকরি হারান। ফলে তিনি বিএনপি’র উপর ছিলেন ক্ষুব্ধ। এটাকে কাজে লাগোনোর অসৎ উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দলীয় ব্যক্তি কাহ্হার আকন্দকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে চাকরিতে পুনর্বহাল করে।
উল্লেখ্য, আবদুল কাহ্হার আকন্দ চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কিশোরগঞ্জে তার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থনা করেছিলেন এবং তার স্বপক্ষে পোস্টার, লিফলেট বিলি থেকে শুরু করে বহু সভা-সমাবেশ করেছিলেন। আরও উল্লেখ্য যে, বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচারক ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর অসম্পূর্ণ রিপোর্ট পেশ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য সিআইডি’র তৎকালীন স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল কাহ্হার আকন্দের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপি সরকার ইন্টারপোল এবং এফবিআইয়ের মাধ্যমে ঘটনা তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা করে। সরকারের প্রবল আগ্রহে আগস্ট মাসেই ইন্টারপোল এবং ১ সেপ্টেম্বর এফবিআইয়ের তদন্তকারীরা ঢাকা পৌঁছে তদন্ত কাজ শুরু করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এফবিআই ও অন্যান্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঘটনার দিন শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটি পরীক্ষা করতে চাইলেও শেখ হাসিনা তাতে কখনও সম্মত হননি। একই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ গাড়িটি আলামত হিসেবে প্রদান করতেও তিনি ক্রমাগত অসম্মতি জানান। বিএনপি সরকারের আমলেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি মুফতি হান্নানসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাসহ হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর সবকিছুই প্রমাণ করে, প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের শনাক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল না। মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানোয় প্রশ্ন রেখে মির্জা আলমগীর বলেন, মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে মুফতি হান্নানের সঙ্গে তারেক রহমানের যোগসাজশ থাকলে বিএনপি সরকারের আমলে মুফতি হান্নান গ্রেপ্তার হবে কেন? মুফতি হান্নানের ২য় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গেলে তার ১ম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির গুরুত্ব কি? আবদুল কাহ্হার আকন্দের পেশকৃত চার্জশিটে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্যই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। শেখ হাসিনাও ক্রমাগত বলে চলেছেন, তারেক রহমান এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন এবং মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছে যে, তাকে বহনকারী গাড়িতে কয়েকটি বুলেট ছোড়া হয়েছিল। অথচ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলা ছাড়া গুলি ছোড়ার কোনো কথারই উল্লেখ নেই কেন? কে বা কারা এসব গুলি ছুড়েছে তা কি এই ঘটনার জন্য প্রাসঙ্গিক নয়?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা এবং তার ফলে আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ আমরা তখনও জানিয়েছি, এখনও জানাই। আমরা এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কারণ আমরাও চাই, এমন নির্মম অরাজনৈতিক ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। কিন্তু ওই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার ও সরকারি দল যেভাবে বিএনপি এবং বিএনপি’র মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার জন্য তাদের পুলিশ, গোয়েন্দা, তদন্ত কর্মকর্তা, এমনকি বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে তা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মইনুল ইসলাম খান শান্ত, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইন সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও সহ-আইন সম্পাদক এডভোকেট জয়নাল আবেদীন মিজবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
