সিভিল এভিয়েশনে পিএ-কেরানিদের দৌরাত্ম্য : কর্মকর্তাদের পছন্দের পিএ : বলিরপাঠা পিএ হানিফ : হাফিজের পোয়াবারো

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে বিভিন্ন কর্মকর্তার পিএ- কেরানিদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। কোন কোন কর্মকর্তা চেয়ারে বসে দায়িত্ব নেয়ার আগেই তার পছন্দের পিএকে নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে হানিফ নামের একজন পিএকে নিয়োগ কেলেংকারিতে বলিপরপাঠা বানিয়ে পিঠ রক্ষা করার জন্য চট্রগ্রামে বদলি করা হয়েছে। জাহাংগীর নামের একজন পিএ প্রায় কোটি টাকা লুটপাট করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছে। তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি। তবে তাকে স্থায়ী চাকরিচ্যুত করেনি সিএএবি কর্তৃপক্ষ। নারি শিশু পাচার মামলার আসামি যদিও মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে গ্রেড পরিবর্তন করে সিকিউরিটি গার্ড থেকে কেরানি পদে চাকরি স্থায়ীকরন করে একজন পরিচালকের পিএ’র চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
কথা ওঠেছে একজন পিয়ন শাহজালালে উপপরিচালকের পিএগিরি করছে। আর পরিচালকের পিএগিরি করছেন গ্রেড পরিবর্তন করে সিকিউরিটি গার্ড থেকে এলডিসি পদে চাকরি স্থায়ীকরণ হওয়া কেরানি মোর্শেদ। এদের মধ্যে কোন কোন পিএ প্রায় দেড়যুগ ধরে পিএগিরি করলেও তাদের অন্যত্র বদলি করা হয় না। পিএগিরি পদের জন্য স্টেনোগ্রাফার/ স্টেনো টাইপস্ট পদবি যোগ্যতার মাপকাঠি হলেও কেরানি-পিয়নদের পিএ’র চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।এদের মধ্যে কাউকে আবার পিএগিরির জন্য দায়িত্ব ভাতাও দেয়া হচ্ছে।
পিএ হাফিজ এদের মধ্যে উদাহরণ হতে পারে। এই হাফিজ চাকরির শুরু থেকে অদ্যাবধি সিএএবির সদর দপ্তরে দুই জায়গায়-অর্থাৎ প্রশাসনে আবার ফিন্যান্সে কর্মরত আছেন। রহস্যজনক কারণে তাকে বদলি করা হয় না। সিএএবির চাকরির শর্ত লংঘন করে তাকে আবার পিএগিরি করার জন্য বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতাও দেয়া হচ্ছে। যদিও বিষয়টি ডিডি প্রশাসন জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ফাইল ঘেটে জানবেন।
এই পিএ হাফিজ সদস্য ফিন্যান্সের পিএগিরি ছেড়ে সদ্য সদস্য প্রশাসনের পিএগিরি করছেন। তবে বিষয়টি ডিডি প্রশাসন জানেন না বলে জানান। এডি-২ ( প্রশাসন) এ সবের নাটেরগুরু।
এ্যারো/এটিএস-এ কর্মরত কেরানি নাছির প্রায় দেড়যুগ ধরে কর্মরত থাকলেও তাকে বদলি করা হয়নি। কতো পরিচালক এলো-গেলো কিন্ত কেরানি নাছির এখনও বহাল। তার সাথে পিএ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কেরানিগিরি করছেন আউয়াল।
কেরানি অদুদকে সৈয়দপুরে বদলি করা হয়েছে। কোন তদবিরে কাজ হয়নি বিধায় তাকে বদলিকৃত স্থানে যোগদান করতে হয়েছে। এই কেরানি অদুদ আবার ঢাকায় আসার জন্য জোরালো তদবির করছেণ, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন বলে অনেকে জানান। কেরানি অদুদ নাকি চ্যালেন্ঞ করে বলছেন আবার কয়েকদিনের মধ্যেই হেডকোয়ার্টারে ফিরে আসছি। এই কেরানি অদুদের শাহজালাল বিমানবন্দরে বেনামে ৪/৫টি দোকান রয়েছে, তিনি দোকানগুলো নাকি বেনামে লিজ নিয়েছেন।একজন কেরানিকে আইন শাখায় পরে শাহজালালে বদলি করলেও ডিডি প্রশাসনের আর্শীবাদপুষ্ট হওয়ায় তাকে স্বস্থানেই রেখে দেয়া হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে টাইপিস্ট দীদার পিএগিরি করছেন। প্রধান প্রকৌশলী নাকি তার দেড়যুগের পিএ মুস্তাফিজ পিআরএল-এ যাবার আগেই দীদারকে পছন্দ করে রেখেছেন।
পরিচালক ফিন্যান্সের দপ্তরে প্রায় একযুগ ধরে পিএগিরি করছেন লতিফ।
বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত পিএ-কেরানিদের দৌরাত্ম এেেতাই বেড়ে গেছে ঘুষ ছাড়া এদের টেবিল থেকে ফাইল নড়েচড়ে না। এদের সাথে আবার কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকে বলে অনেকে জানান। এই পিএরা অনেকেই বিত্তবৈভবের মালিক। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দামি গাড়িতে করে অফিসে আসেন। এদের কারো কারো উত্তরায় ফ্লাট রয়েছে, একাধিক প্লট রয়েছে। অভিজাত মার্কেটে দোকানও রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গোপন তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।