স্টাফ রিপোর্টার : হজ্জ অফিসের সহকারী হজ্জ অফিসার ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মালেক ১৯৯৮ সন হতে অদ্যাবধি হজ্জ ক্যাম্পের প্রশাসনিক ভবনের ৩য় তলার একটি অফিস ভবন নিজ উদ্যেগে গনপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে অফিস ভবন ভেঙ্গে লোড বিয়ারিং ওয়াল স্থাপনের মাধ্যমে কয়েকটি পাটিশন করে আবাসিক কক্ষ বানিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তিনি সরকারের নিকট হতে প্রতিমাসে বাসা ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা আহরণ করছেন। তার বেতন বিলে তিনি প্রতিমাসে সীলমোহর দ্বারা মিথ্যা প্রত্যয়ন করে থাকেন যে, “আমি কোন সরকারী বাসায় বসবাস করি না” এ তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বাসা ভাড়া পেয়ে থাকেন। হজ্জক্যাম্পের ফ্যামিলি বাসায় তিনি অফিসের টেলিভিশন,টেবিল,চেয়ার ,ফাইল রেক,আলমারী,সিলিং ফ্যান ব্যবহার করে সরকারী সম্পদ বিনষ্ট করছেন। তিনি গত ২৭/১২/২০১৫ সনে ডিএমপি, বিমানবন্দর থানার বাসা নিবন্ধন ফরমে স্পষ্টভাবে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন তিনি হজ্জ ক্যাম্পের ফ্লাট ৩য় তলায় পরিবারসহ ও বসবাস করছেন।
আব্দুল মালেক- এর আবাসিক কক্ষের সামনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ের সদর দপ্তর রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা অফিস সংলগ্ন আব্দুল মালেক পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস করায় অসন্তেুাষ প্রকাশ করে আসছেন। তার হজ্জক্যাম্পে বসবাস তিনি বৈধ মর্মে দাবী করছেন। এতদ্ব্যাতিত, হজ্জ ক্যাম্পের সুবিশাল ডরমিটরীতে ইমাম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোয়াজ্জিন রুহুল আমীন, গনপূর্ত বিভাগের কার্য সহকারী দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার রাসেদা ইয়াছমিন ও ফাতেমা বেগম পরিবার- পরিজন নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
পরিচালকের গাড়ীর ড্রাইবার সালাউদ্দিন, দপ্তরী, জালাল আহম্মদ হজ্জ ক্যাম্পের প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলায় ৬-৭টি কক্ষ সারাবছর পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন যা হজ্জ মৌসুমে ইমিগ্রেশন ও অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রশাসনিক ভবনের ৩য় তলায় মালি পদধারী সুমা আক্তার, মসজিদের খাদেম আল-আমিন ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান সুপরিসর ৪ টি কক্ষে পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। তারাও বাসাভাড়া পাচ্ছেন। একটি হল রুমে ব্যাচলার থাকেন বার্তা বাহক রফিক মোল্লা ও ক্লিনার মোঃ মস্তফা। ৩১/১২/২০১৮ ইং তারিখে তাদের ক্যাম্প ত্যাগ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা গড়িমুসি করছেন।
হজ্জ ক্যাম্পের সরকারী অফিস ভবনে আবাসিক ব্যবস্থা ব্যাঙ্গের ছাতার নেয়ায় গড়ে উঠায় এ বিষয় দীর্ঘ দিন যাবৎ বহু পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পরেও হজ্জ পরিচালক এগুলো আমলে নিচ্ছেন না। গত হজ্জ মৌসুমে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয় হতে পরিচালক, হজ্জ অফিস, ঢাকাকে হজ্জক্যাম্প থেকে হজ্জ অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উচ্ছেদের জন্য একটি চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হলেও উচ্ছেদে পরিচালক গড়িমুসি করছেন। হজ্জক্যাম্প থেকে অন্য ২-৩ জন কর্মচারী নির্দেশনা মেনে চলে গেলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা- কর্মচারী অবৈধভাবে ক্যাম্পে বসবাস করে ক্যাম্পের ক্ষতি সাধন করছেন।
হজ্জ ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল প্রতি মাসে সরকারকে ২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হয়। অবৈধভাবে বসবাসরত হজ্জ অফিসের/গনপূর্ত বিভাগের কর্মচারীগন যথেচ্ছভাবে অফিসের বিদ্যুৎ, পানি, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ ব্যবহার করে সরকারী সম্পদের যথেষ্ঠ ক্ষতি সাধন করার ফলে ক্যাম্পের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়া ছাড়াও মসজিদে আগত মুসুল্লিগন বিরুপ প্রতিক্রীয়া ব্যক্ত করছেন। ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পূর্ব নির্দেশনার আলোকে এসব অবৈধ বসবাসরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের উচ্ছেদ অথবা বাসা ভাড়া কর্তন করার জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়/সিএও অফিসের দৃষ্টি আর্কষন করা হচ্ছে।
