স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতি আখড়া : হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরখাস্ত , তার স্ত্রী রুবিনা বহাল : বাজেট কর্মকর্তা ডা. আনিসুরকে জিজ্ঞাসাবাদ

একুশে বার্তা রিপোর্ট : অবৈধ সম্পদ অর্জনের ফসল উত্তরা বিভিন্ন সেক্টরে ৫টি আলিশান বাড়ির মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শাহিনা খাতুন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে একই দপ্তরের বাজেট বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমানকে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
আবজাল হোসেনের বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, সমপ্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেষণে/সংযুক্তিতে কর্মরত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (মূল কর্মস্থল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, মহাখালী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের বিপরীতে পদায়নকৃত) মো. আবজাল হোসেন সম্পর্কে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। চিঠিতে আরো বলা হয়, আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এর ১২ বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবজালের নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬। ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি।

বাড়ি নম্বর ১৬। উত্তরার ১১ নম্বর রোডে রয়েছে একটি প্লট। ওই প্লট নম্বর ৪৯। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায়ও রয়েছে তাদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার দুদক আবজাল হোসেনকে টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুদক আরো জানায়, আবজালের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক। এদিকে একই দপ্তরের বাজেট বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমানকে টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থা। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ দুদুকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলম। এ সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগের    পৃষ্ঠা ১৭ শলাম ১
কথা অস্বীকার করেন ডা. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, আমি বাজেট শাখায় কাজ করি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বাজেট পত্রে স্বাক্ষর করি। যে কাজটার জন্য বলা হয়েছে টেন্ডার জালিয়াতিতে জড়িত, আমি তো টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত না। বাজেটটা এখন থেকে কীভাবে ডিসপাস (অর্থ ছাড়) হয়েছে, সে বিষয়ে আমাকে দুদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তাহলে কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জড়িত- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রমাণিত না হওয়া ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। এসময় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এর আগে গত ৯ই জানুয়ারি স্বাক্ষরিত চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ৪ জনকে তলব করে নোটিশ প্রেরণ করে শামসুল আলম। যাদেরকে তলব করা হয় তারা হলেন- পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট) ডা. আনিসুর রহমান ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। এদের মধ্যে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন সহকারী পরিচালক (বাজেট) ডা. আনিসুর রহমান। দুদকের উপ-পরিচালক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামসুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমানকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে টেলিফোনে দুদিন সময় চেয়েছেন পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। আর ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন লাইন ডিরেক্টর ডা. আব্দুর রশিদ।  দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।