নিউজ ডেক্স : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় দুবাই যাওয়ার কথা ছিল আরিফ মোল্লার। চেক-ইন কাউন্টারে দায়িত্বরতদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে ফ্লাইট মিস করেন তিনি। সে সময় পাশে কনকোর্স হলে চলছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) গণশুনানি। আরিফ সেখানে গিয়ে নিজের অভিযোগ তুলে ধরলে তাৎক্ষণিক সমাধান মেলে।
আরিফ মোল্লা জানান, তিনি সকাল ৮টা ২০ মিনিটে চেক-ইন কাউন্টারে হাজির হন। কর্মরতরা তাকে সরাসরি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে চলে যেতে বলেন। তিনি সেখানে দীর্ঘ লাইনে থেকে পরে ফিরে এসে দেখেন ততক্ষণে কাউন্টার বন্ধ হয়ে গেছে। এ অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। এ সময় এমিরেটস এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ম্যানেজার সাঈদ মিরান আরিফের জন্য নতুন ফ্লাইট নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও কয়েকজন যাত্রী গণশুনানিতে অভিযোগ জানিয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়েছেন। অনেকে তুলে ধরেন বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এবং বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তল্লাশি পদ্ধতি, হয়রানি, সহায়তা কেন্দ্রে লোক না থাকা, লাগেজের বেল্ট-বিন্যাস পদ্ধতিসহ নানা সমস্যা। তবে সংরক্ষিত এলাকায় আয়োজিত গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী বা অভিযোগকারী। উপস্থিতির অধিকাংশই ছিলেন বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তি।
আরেক যাত্রী সৌদি আরব প্রবাসী কাজী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের ভেতরে মুদ্রাবিনিময় করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
শরীফুল আলম মঞ্জু নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তার ভাই সপরিবারে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। ভুলবশত একজনের টিকিটের সঙ্গে পাসপোর্ট নম্বরের গরমিল হয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে তারা চার দিন ধরে বিমানবন্দরে ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান পাননি। গণশুনানিতে বিষয়টি তুলে ধরলে বেবিচক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।
মনিরা নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, তারা ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করতে পারেন না। বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষের সহায়তাও পান না। চেক-ইন কাউন্টারের দায়িত্বশীল মিঠুন বিশ্বাসও অভিন্ন অভিযোগে জানান, ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করার জন্য অনেক যাত্রী তাদের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। এসব বিষয় দেখভালের জন্য হেল্পডেস্কে লোক থাকে না। তবে হেল্পডেস্কে দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময় লোক থাকে বলে দাবি করেন বেবিচক চেয়ারম্যান। এ সময় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সহকারী পরিচালক মো. তানভির হোসেন জানান, বহির্গমন হলের ভেতরে ‘প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’ নামে আলাদা একটি সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে; যেখানে সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা লোক থাকে।
অন্যদিকে, বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান, ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ডিসেম্বরেই তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। চার বছরমেয়াদি কাজটি সম্পন্নের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল মেরামত শুরু হবে। তখন বছরে অন্তত দুই কোটি যাত্রীর সেবা নিশ্চিত হবে।
গণশুনানিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর খালিদ হোসেন, সদস্য (অর্থ) মিজানুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী, এয়ার ট্রাফিক বিভাগের গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেহবুব খান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদুল হাসান, পরিচালক (এফসেক) উইং কমান্ডার ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।
