২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে ওসমানী বিমানবন্দর : ম্যানেজার হাফিজ উদ্দিন এখনও বহাল

একুশে বার্তা ডেক্স : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৫৬৮ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুপরিসর বিমান ওঠানামার জন্য রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি করতে ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ। কিন্ত বিতর্কিত ম্যানেজার হাফিজ উদ্দিন এখনও ওসমানিতে বহাল, তার বাড়ি সিলেট এলাকায় এবং ইতিপূর্বে তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে  তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, সদর দপ্তরে ডেকে জিঙ্ঘাসাবাদ করা হলেও তিনি এখনও বহাল, তাকে বদলির নামনিশানা নেই।

দ্বিতীয় প্রকল্পের ২১১৬ কোটি টাকায় নির্মিত হবে সব সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক টার্মিনাল। টেন্ডার ও চুক্তি প্রক্রিয়া শেষে বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপকে (বিইউসিজি) এ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। খুব শিগগির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ কাজ ২০২৩ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানা যায়।

২০০২ সালে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ২০০৬ সালে টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা হলেও সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক বিমান আসা-যাওয়া শুরু হয়। এখান থেকে হজ ফ্লাইট পাঠানো শুরু হয় ২০০৭ সালে। রিফুয়েলিং স্টেশন চালু হয় ২০১২ সালে। ২০১৫ সালে সিলেট-দুবাই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে সিলেট-মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল শুরু হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যেসব সুবিধা থাকা দরকার তার অনেক কিছুই ছিল না। যাত্রী ও ফুয়েল নিয়ে সুপরিসর বিমান উড্ডয়নের জন্য কমপক্ষে ৮৯ পেভমেন্ট ক্লাসিফিকেশন নম্বরের (পিসিএন) শক্তিশালী রানওয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তা ছিল ৭০ পিসিএনের। যে কারণে সিলেটে লন্ডন থেকে আগত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ল্যান্ড করতে পারলেও চার শতাধিক আসনের সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজ প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও পূর্ণ আসনের যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারত না। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের সব গন্তব্যেই যেন সিলেট থেকে সরাসরি বিমান চলাচল করতে পারে এমন দাবি করে আসছে সিলেটের প্রবাসীরা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ সালেই এ বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালীকরণের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এরপর এ বছরের ১৯ এপ্রিল এ বিমানবন্দরের একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন, একটি কার্গো ভবন, আধুনিক এটিসি টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন এবং আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য ২ হাজার ১১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে প্রায় ৬ লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় নতুন বোর্ডিং ব্রিজ, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে­সিস্টেমসহ অন্য অত্যাধুনিক টার্মিনাল বিল্ডিং সম্পর্কিত সব ধরনের যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম প্রকল্পে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেবিচকের সঙ্গে চুক্তি সই করে ৬ দিন পর ২৪ ডিসেম্বরই যৌথভাবে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান কোম্পানি হাল্লা ও বাংলাদেশের মীর আক্তার গ্রুপ।

সিএএবির প্রকৌশল বিভাগ  সার্বক্ষণিক মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছেন। বুয়েটের ইঞ্জিনিয়াররা পরিক্ষা করছেন।