বিশেষ সংবাদদাতা : হেফাজতের আমির আল্লামা শফির অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে অরাজনৈতিক ইসলামি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং হাটহাজারি মাদ্রাসার কর্তৃত্ব নিয়ে রীতিমত বাবুনগরির পক্ষে প্রচার-প্রচারনা গনজমায়েত তথা রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে, দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। বাবুনগরী গ্রুপ যুদ্ধাপরাদের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীর সাথে ছবি ফেইজবুকে ভাইরাল হয়ে ফাস হয়ে গেছে। অপরদিকে মাদানি গ্রুপ পিতার পদ আকড়ে রাখার জন্য মনোনিবেশ করছেন। কিন্ত বাবুনগরীর সাথে টেক্কা দিয়ে কুলিয়ে ওঠতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করছেন।এ দিকে অসুস্থ আল্লামা শফি এক ভিডিও বার্তায় কাউকে মুহাতামিমের দায়িত্ব দেননি বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লামা শফির অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে হাটহাজারি মাদ্রাসার কর্তৃত্ব সংক্রান্ত বাবুনগরির পক্ষে এক হ্যান্ডবিল প্রকাশ ও বিলি করা করা হয়েছে।
এ নিয়ে চট্রগ্রামের দুটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনেও আলাøমা শফির ভিডিও বার্তার খবরও ফলাও করে প্রকাশ করেছে।
হেফাজত জামায়াতের অংশ বা জামায়াত নিষিদ্ধ হলে হেফাজত বোলপাল্টে জামায়াতের গর্ভে ঢুকে যাবে- এমন গুজব এর আগেও লোকমুখে বহুল প্রচারিত হতে থাকে। হেফাজতের সরকার বিরোধী কর্মকান্ড মতিঝিলের শাপলাচত্বরের ঘটনা সরকার দক্ষহাতে সামাল দেয়। এরপর থেকে হেফাজত আবার বোল পাল্টাতে থাকে, সরকারের সাথে লিয়াজো করেও ভিতরে ভিতরে জামায়াতের গর্ভে ঢুকার ফন্দি আটতে থাকে। এবার বাবুনগরির নেতৃত্বে আন্দোলন বা সমাবেশের কোন কর্মকান্ডে আল্লাহ না করুন হুজুরের কোন অঘটন ঘটলে বাবুনগরির নেতৃত্বে তার ষোলকলা পূর্ন হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। এমনকি বাবুনগরি এর দায় এড়াতে পারেন বলেও অনেকে মনে করেন। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই বাবুনগরি কলকাঠি নাড়ছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। তবে বাবুনগরি তার ষোলকলা পূর্ন করতে গিয়ে আবার আন্দোলন করতে বা কোন কর্মকান্ড করতে গিয়ে তাকে লাল দালানে ঠাই হলেও হতে পারেন। কারণ সরকার বিরোধী বা অনৈতিক বা অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করে বিশৃৃংখলার সৃষ্টি করলে সরকারের আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী তো আইনি পদক্ষেপ নেবেই।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে,
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জামায়াত কানেকশান, হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দীর্ঘদিন যাবৎ জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত থেকে উগ্রপন্থী ইসলামীক নেতা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সময় যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্রের সাথে জুনায়েদ বাবুনগরীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বাবুনগরী যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতের সাথে কোন সম্পর্ক নাই বলে দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীর পাশে মাসুদ সাঈদীর ঘনিষ্ঠ ছবি জনমনে প্রশ্ন ও উদ্যেগ সৃষ্টি করেছে।
গত ১৬ মে ২০২০ খ্রিঃ শনিবার সকাল ১১০০ ঘটিকা হতে ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ মাওলানা মীর ইদ্রীসের নেতৃত্বে (বিএনপি নেতা মীর নাছিরের চাচাতো ভাই) আকষ্মিকভাবে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ঢুকে জুনায়েদ বাবুনগরীর সাথে দীর্ঘ সময় বৈঠক করে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১) মাওলানা মীর ইদ্রীস, ২) মাওলানা জাফর আলম- ওলামা পরিষদের সেক্রেটারী, ৩) মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, ৪) আহসান উল্ল্যাহ- সেক্রেটারী, আল আমিন সংস্থা, ৫) কামরুল কাসেমী, বর্তমান মুফতী ইজহারের নাতনী জামাই, লালখান বাজার, ৬) মাও. ইমরান সিকদার, মেখল, ৭) মাও. নজরুল, বাড়ি মাদারশা, ৮) আসাদ উল্লাহ,নুরানি কম্পিউটার, হাটহাজারী, ৯) মাও. আলী আকবর, মিরেরখীল, হাটহাজারী, ১০) জসিমুদ্দীন আজিজি, ঈদগাহ আবাসিক, হাটহাজারী, ১১) মাওঃ নজরুল, ঈসাপুর চাঁদগাজী বাড়ি, ১২) জাকারীয়া নোমান ফয়জী, মেখল মাদ্রাসা, হাটহাজারী।
জানা যায়, ওলামা পরিষদের মিটিং থেকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা তাদের অনুসারী ফেইজবুক আইডি থেকে অভিনন্দন ও শুকরিয়া জানিয়ে পোস্টের মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে।
একই তারিখে ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ মাদ্রাসার অভ্যন্তরে মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় শেষে মাওলানা ইদ্রীস মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন জরুরী আলোচনা রয়েছে, আপনারা সকলে বসবেন। মাওলানা ইদ্রীস বক্তব্যে বলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক নিয়োগে একক সিদ্ধান্ত তৌহিদী জনতা কোন অবস্থায় মেনে নেবে না। অন্যান্য উপস্থিত সদস্যরাও একই রকম বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় জুনায়েদ বাবুনগরীর ভাগীনার পরিচালিত ‘ক্বওমী ভিশন’ নামক অনলাইন নিউজে বক্তব্যগুলো লাইভ করতে থাকে।
ওলামা পরিষদ হাটহাজারী মাদ্রাসার কোন অঙ্গ সংগঠন বা দায়িত্বশীল কেহ নয়। তারা হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, জুনায়েদ বাবুনগরীর সাথে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক, জুনায়েদ বাবুনগরীকে পরিচালক হিসেবে ঘোষণা করা মাদ্রাসার এখতিয়ার বহিঃভর্‚ত। এমত পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার বর্তমান মোহতামিম আল্লামা শাহ আহমেদ শফী (দাঃ বাঃ) তাদের বক্তব্য শুনে বয়োজৈষ্ঠ ও বাংলাদেশের সর্বজন গ্রহণযোগ্য মুরুব্বী অত্যন্ত ব্যথিত হন। তাই তিনি ১০২ বছর বয়সে অসুস্থ অবস্থাতে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য হন। তিনি অত্যন্ত ব্যথিত কণ্ঠে ভিডিও বার্তায় বলেন- “দায়িত্বে আসার পর থেকে এই মাদ্রাসার জন্য কি করেছি, না করেছি সব মানুষের জানা আছে। এমন কিছু অপবাদ দেয়া হচ্ছে, যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। সারাটা জীবন মাদ্রাসার জন্য নিজের জীবনকে কোরবান করে দিয়েছি। কাউকে নায়েবে মোহতামিম অথবা জীম্মাদার করে দেইনি। যা কিছু করার মাদ্রাসার জন্য সব মজলিশে শূরা করবে।”
মাদ্রাসার বর্তমান মোহতামীম আল্লামা শাহ আহমেদ শফী হুজুর সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হওয়া সত্তে¡ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মাদ্রাসার দায়িত্ব পাওয়ার জন্য দিক-বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে বহিরাগতদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তার ললুপ দৃষ্টি মাদ্রাসা যে কোন মূল্যে দখল এবং বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বী মাদ্রাসার মোহাতামীম আল্লামা শাহ আহমেদ শফী (দাঃ বাঃ) বহিরাগতদের মাদ্রাসার অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং তাদের হুমকী-ধামকিতে হুজুর শোক বহন করতে না পেরে আল্লাহ না করুন যদি মৃত্যু ঘটে যায় তার দায় জুনায়েদ বাবুনগরী এড়াতে পারবেন না।
