একুশে বার্তা রিপোর্ট: দীর্ঘ ১৪ বছর কেয়ারটেকারের ১৬ লাখ টাকা বেতন দিয়ে উল্টো হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিভিল এভিয়েশন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার অপারেটর গাজী তোফায়েলের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে তার বাসার কেয়ারটেকার নওয়াব আলি বাদি হয়ে উত্তরখান থানায় জিডি করেছে।
উপপুলিশ কমিশনার উত্তরা বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন কেয়ারটেকার নওয়াব আলি।
২১ জুন তারিখে দেওয়া লিখিত আবেদনে নওয়াব আলী খান (৫২), পিতা মৃত সিরাজ মিয়া, সাং- মুন্ডা লাগবাগ, ডাকঘর উত্তরখান মাজার, থানা উত্তরখান উল্লেখ করেন, বিবাদী গাজী তোফায়েল (৫২), পিতা দ্বীন মো. গাজী,। তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হযরত শাহজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস অপারেটর পদে।
পাওণাদারের আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর বিবাদী গাজি তোফায়েলের উত্তরখান মুন্ডার ৫ কাঠা প্লট, দক্ষিণখানের ৩টি প্লট ও ৫ তলা বাড়ি এবং গাজীপুরের ১ বিঘা জমি কেয়ারটেকার হিসেবে দেখাশোনা করেন তিনি। তিনি জানান, মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতন ও ১ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অঙ্গীকারে কাজ শুরু করেন তিনি ।
নওয়াব আলী খানের দাবি, ১৪ বছরের বেতন হিসেবে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওনা।
এ নিয়ে উত্তরখান থানায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গে উপস্থিতিতে সালিশ-মীমাংসায় বিবাদী নিজে ৪ লাখ টাকা দিতে স্বীকার করেন।
কিন্তু সম্প্রতি বিবাদী মুন্ডার প্লটটি অন্যের কাছে বায়না/ বিক্রি করে দিয়ে সন্ত্রাসী নিয়ে তার ব্যবহৃত খাট, বিছানাপত্রসহ মালামাল রাস্তায় ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নওয়াব আলী। এ ঘটনায় তিনি উত্তরখান থানায় জিডি করেন। জিডি নং ৯১৬, তারিখ ১৬ মে ২০২৬।
আবেদনকারী জানান, “ পাওনা টাকা চাইলে দেবেন না বলে জানান এবং বিভিন্ন মামলা করার হুমকি দেন। আমি একজন অসহায় গরিব মানুষ, জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
নওয়াব আলী খান আরো জানান, বিবাদীর মিটারের বিদ্যুৎ বিলের অরিজিনাল কপি ২০১২ সাল থেকে শেষ পর্যন্ত তার হেফাজতে আছে। যা তার ১৪ বছরের কর্মের প্রমাণ।
তিনি উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তরা বিভাগের কাছে সঠিক তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার ও পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মানবিক বিবেচনায় ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কে এই গাজি তোফায়েল, গাজি আজাদ, মিজান: গাজি তোফায়েলের বাড়ি নড়াইলে। আজাদ তার আপন শ্যালক, মিজান ওদের কলিক্। এ ত্রিরত্ন শাহ জালাল বিমানবন্দরে প্রায় আড়াইযুগ ধরে কর্মরত। এই ত্রিরত্ন সিন্ডিকেড গড়ে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক মানব পাচারসহ বিভিন্ন পাচারে সিদ্ধহস্ত হয়ে পড়ে। দুহাতে কামিয়ে নেয় লাখ লাখ সময়ের ব্যবধানে কোটি টাকা করে। রাজধানির কাওলার , উত্তরখান, দক্ষিণখান, মুন্ডা, উত্তরা এলাকায়্ একাধিক ফ্লাট,প্লট, বহুতল বাড়ি, গাজিপুরে বহুতল বাড়ি গড়ে তোলে। এর মধ্যে গাজি আজাদ-মিজানের কাওলায় বহুতল বাড়ি রয়েছে, ওই বাড়ি ওরা ভাড়া দিয়ে থাকেন উত্তরা অভিজাত এলাকায়।
গাজি তোফায়েল দুই বউ, দুই বাড়িতে থাকে: গাজি তোফায়েল বেবিচকের এক কর্মচারির বউকে আবার বিয়ে করেছে। এটা তার ২য় বিয়ে। ১ম বিয়ে করে গাজি আজাদের বোনকে। দুই সংসারই করছে দুই বউয়ের সাথে, দুই বউয়ের সংগে দুই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ি দুটা উত্তরখান এলাকায়।
কেয়ারটেকারের ১৬ লাখ টাকা মেরে দেয়া গাজি তোফায়েলের বিরুদ্ধে এখনও পুলিশি এ্যাকশন শুরু হয়নি, বেবিচকও তাকে তলব করেনি।
ওয়ান ইলিভেনের সময় গাজি তোফায়েল পাকড়াও: যৌথ বাহিনী গাজি তোফায়েলকে পাকড়াও করে, গাজি আজাদ মিজানরা পালিয়ে রক্ষা পান। পট পরিবর্তনের আবার মানব পাচারে নেমে পড়ে। ২০১৫ সালে বেবিচক কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কর্মচারিদের চাকরি স্থায়ীকরণের সময় গাজি তোফায়েল নিরাপত্তা বিভাগ ছেড়ে ফায়ারে চলে যায়। আজাদ- নিরাপত্তায় থেকে যায়, মিজান ফায়ারে চলে যায়, মানব পাচারসহ বিভিন্ন পাচারে সিদ্ধহস্ত ওরা দু’হাতে কামাতে থাকে কাচা টাকা। আজাদ রাজধানি ঢাকা ছাড়াও নড়াইলের গ্রামের বাড়িতে পাকা দালান গড়ে তোলে। এখনও এই সিন্ডিকেড শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত। বেবিচক কর্তৃপক্ষ এদেরকে রহস্যজনক কারণে বদলি করে না।
উত্তরখান থানায় জিডি: গাজি তোফায়েলের বিরুদ্ধে কেয়ারটেকার বাদি হয়ে ডিএমপির উত্তরখান জিডি করলেও পুলিশ নিষ্কৃয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেনি পলিশ, জিডির চার্জশীটও দেয়নি উত্তরখান থানা পুলিশ। গাজি তোফায়েল নাকি থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে রেখেছে বলে অভিযোগ।
