ঢাকা কাস্টমস হাউজ : গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার: কোটি কোটি টাকার স্বর্নসহ পণ্য চালান ধরা খাচ্ছে: সরকারের রাজস্ব বাড়ছে: ২০ সিন্ডিকেড ব্যবসায়ীরা চিহ্নিত: অসৎ কাস্টমস কর্মকর্তারা নজরদারিতে

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা কাস্টমস হাউজের বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষ করে শাহজালালের টার্মিনাল ভবন, এয়ারফ্রেইট আমদানি-রফতানি, কার্গোভিলেজে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে গত পক্ষকালে কয়েকশত কোটি টাকার স্বর্নসহ বিভিন্ন চালানের পণ্য ধরা পড়েছে। এর সাথে জড়িত ঢাকা কাস্টমস হাউজের অসৎ কর্মকর্তারা নজরদারিতে রয়েছেন, ইতিমধ্যেই ২ জন কাস্টমস কর্মকর্তার গতিবিধি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। এ নিয়ে একটি টিভি চ্যানেলে খবর প্রচারিত হয়েছে।
ফলের ভিতর ১৬ কেজি সোনা, কাপড়ের রোলে ১৬৫৫ দামি দামি মোবাইল পাচারে এদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। বিমানবন্দরে ২৫ কোটি টাকার সোনা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে জব্দ করা হলেও ক্রেডিট নিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।
এয়ারফ্রেইটের শুল্ক গোয়েন্দার সহকারি পরিচালক দত্ত, রাজস্ব কর্মকর্তা সনজয়সহ পুরো টিমকে বদলি করা হয়েছে। নতুন টিম কাজে নেমেছে।
এ দিকে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কেন্দ্রিক রুবেলের নেতৃত্বে ২০ সিন্ডিকেড ব্যবসায়ী- যারা দীর্ঘদিন ভিন্ন ওয়েতে পণ্য খালাস করে আসছিল গোয়েন্দা অভিযান জোরদারে তারা অনেকটাই চিহ্নিত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে এদের পণ্য ধরা পড়েছে, তবে অধিকাংশ চালান কাস্টমস সমঝোতায় পার হয়ে গেছে। আর এরা এক্কেবরেই চুনোপুটি থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। কেউ কেউ রাজধানীর কোন কোন মহল্লার অধিকাংশ জায়গা-জমি কিনে ‘লাট সাব’ সেজে গেছেন। এরা আবার রাজনৈতিক শেল্টার পেয়ে আওয়ামী আমলে জামালপুরের নেতা/মন্ত্রীর শেল্টার পেয়েছে, বিএনপির এ আমলে আবারও জামালপুর মন্ত্রীর শেল্টার খুজছে, এরা জামালপুর সিন্ডিকেড, মন্ডল ব্যাংককে, গত ১৫ বছরে কয়েক মন্ডল গজিয়েছে। এরাই মন্ডলের জায়গায় প্রক্সি দিচ্ছে। ফলের ভিতর ১৬ কেজি সোনা পাচার ঘটনায় মন্ডলের শিষ্যের নাম জড়িযে রয়েছে, গোন্দেয়া সংস্থা তার গতিবিধি নজরদারি করছে। মুস্তফা ধরা খেলেও মন্ডলের শিষ্যরা ধরাছোয়ার বাইরে। এর মধ্যে কর্মচারি ইউনিয়নের কর্ণধারের বন্ড-গামেন্টস ব্যবসার অন্তরালের খবর বেরিয়ে আসছে, তবে তার বাড়ি জামালপুর না, ঢাকা বিভাগে। ক্রমশ—–

 

কাপড়ের রোলের আড়ালে ৫ কোটি টাকার মোবাইলের চালানের হোতারা অধরা: কাস্টমসের কায়িক পরিক্ষা-নিরীক্ষাকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধরাছোয়ার বাইরে!সাসপেন্ড বা লক করা সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট/আমদানিকারকের লাইসেন্স!

নিউজ ডেক্স : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোলের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনের একটি চালান জব্দ করা হলেও এর সাথে জড়িতরা এখনও অধরা। ঢাকা কাস্টমস হাউজের কায়িম পরিক্ষা-নিরীক্ষাকারি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তাররা ধরাছোয়ার বাইর। কাস্টমস -এর কায়িম পরিক্ষায় কেন কাপড়ের রোল খুলে পরিক্ষা করা হলৈা না? কায়িক পরিক্ষার সময় কাপড়ের রোল শতভাগ পরিক্ষা করলেই তো মোবাইল ধরা পড়তো। কিন্ত সাধলো শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা, পাচারের প্রাক্কালে তারা গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে বের করে আনলো এক এক করে আনলো ৫ কোটি টাকার ১৬৫৫টি দামি মোবাইল ফোন সেট।
এ পাচারের সাথে ঢাকা কাস্টমস হাউজের লাইসেন্সধারি সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারক জড়িত থাকলেও তাদেরকে তদন্তের আওতায় আনা হয়নি, সাসপেন্ড বা লক করা হয়নি তাদের লাইসেন্স। জামালপুর সিন্ডিকেডের কাউকে ডেকে জিঙ্ঘাসাবাদ করা হয়নি।
গত মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দার এয়ারপোর্ট ও এয়ার ফ্রেইট সার্কেলের তৎপরতায় চালানটি পরীক্ষা করে এসব মোবাইল ফোনের সন্ধান পাওয়া যায়।
শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চালানটিতে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি মোবাইল ফোন রয়েছে।
এয়ার কার্গো ব্যবস্থার তথ্যানুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল (এমএডব্লিউবি) নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ এবং হাউস এয়ারওয়ে বিল (এইচএডব্লিউবি) নম্বর জেএলজি ৫৭২০৩। আমদানিকারক বা পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম রয়েছে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ বা বোনা কাপড় উল্লেখ করা হয়েছে। চালানটির ওজন ৮৯৫ কেজি এবং এতে ২০টি প্যাকেজ রয়েছে। হংকং থেকে চালানটি ঢাকায় আসে।
সিস্টেমের তথ্যানুযায়ী, চালানটি আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় আসে। সংশ্লিষ্ট হাউস এয়ারওয়ে বিলে প্রেরক হিসেবে ঝেজিয়াং শাওশিং শিনহুয়া নিটিং কোম্পানির এবং মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাঙ্কো গ্লোবাল লজিস্টিকস লিমিটেডের নাম রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফএফ কার্গো সার্ভিসের তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এয়ার কার্গো নথিতে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ বা বোনা কাপড় এবং অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল’ উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে কাপড়ের রোলের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন আনা হয়েছে।
প্রাথমিক গণনায় পাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে—রেডমি ১৪সি ৪৫০টি, রেডমি ১৫সি ১৫০টি, পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৫টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ৬৫৫টি।
শুল্ক গোয়েন্দার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বা ঘোষিত পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন আনার ঘটনায় পণ্য সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা, পণ্য গোপন এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তবে জব্দ মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল, আইএমইআই নম্বর, এগুলো নতুন না কি ব্যবহৃত, প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নিরূপণের পর এ ঘটনায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।
চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেড। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।