নিউজ ডেক্স : দেশের ৮ বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারের পর এবার ৮ বিমানবন্দরে এন্ট্রি হাইজ্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তাবায়ন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নিরাপত্তার ওপরে পিএইচপডি সম্পন্ন করতে যাওয়া নিরাপত্তা বিশেঙ্ঘ, বেবিচক সদস্য নিরাপত্তা নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন, বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে হাইজ্যাক, নাশকতা কিংবা আকস্মিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সেনা, নৌ, ও বিমানবাহিনী এবং র্যাব ও পুলিশ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে দ্রুত সাড়া দেবে তার কৌশলও বলে দিয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়। আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত সংকটকালীন পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলায় একগুচ্ছ সমন্বিত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৩তম সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। পরবর্তী সময়ে ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি ১ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাপত্র পাঠান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের তালিকা অনুযায়ী, দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে বিমান বাহিনী ঘাঁটি একে খন্দকার। এ বিমানবন্দরে যেকোনো বড় বিপর্যয় বা নাশকতায় বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড এবং র্যাব-১। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে নিয়োজিত থাকবে বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক। অন্যদিকে বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এসডব্লিউএ বাংলাদেশ নৌ ঘাঁটি ঈশা খাঁ এবং র্যাব-৭। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি)। বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকবে র্যাব-৯ এবং সিলেট ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ১৭ পদাতিক ডিভিশন। পর্যটন নগরী কক্সবাজার বিমানবন্দরে যেকোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রস্তুত থাকবে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার। এ ছাড়া সেখানে বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে র্যাব-১৫ এবং রামু ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ১০ পদাতিক ডিভিশন।
উত্তরাঞ্চলের আকাশপথের প্রবেশদ্বার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে রংপুর ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন। সেখানে বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে র্যাব-১৩ এবং নীলফামারী জেলা পুলিশ। রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে যেকোনো সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে র্যাব-৫ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ডিভিশন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যশোর বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে। সেখানে বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে যশোর ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এবং র্যাব-৬। আর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার বরিশাল বিমানবন্দরে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট ও জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রাথমিক সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে র্যাব-৮। এ বিমানবন্দরে বিকল্প সাড়াদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং লেবুখালী ক্যান্টনমেন্টের সদর দপ্তর ৭ পদাতিক ডিভিশনকে।
জরুরি অবস্থা মোকাবিলার পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাছ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ভূতাপেক্ষ প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকার সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রবেশমুখে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদারে মন্ত্রণালয় কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) ল্যান্ডসাইডের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল যানবাহন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় কমাতে একজন বিমানবন্দর প্রবেশ পাসধারীর (এএসআইএ/এআইসি) সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত দর্শনার্থী নিয়ে প্রবেশ করলে সরাসরি শাস্তিমূলক জরিমানার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে বিমানবন্দর চত্বরে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনামূলক সাইনেজ স্থাপন করতে বলা হয়েছে।
এ সব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন, অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা বরাদ্দ দেবে কি? যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় বিমান বাহিনীর জন্য গত অর্থবছরে বেশ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।
সার্বিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বেবিচক সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই আমরা প্রতিটি বিমানবন্দরে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করেছি। বিশেষ করে আটটি বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং ভিআইপি লাউঞ্জসহ প্রবেশমুখের তল্লাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আসন্ন আইসিএও অডিটে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং যাত্রীদের শতভাগ নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয় যেসব সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যেই প্রতিটি নির্দেশনা শতভাগ কার্যকর করতে বেবিচকের একাধিক তদারকি টিম কাজ করছে।’
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রীদের নিরাপদ গমনাগমন নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের বাইরের পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি ও ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুক, ছিন্নমূল শিশু ও ভবঘুরেদের উৎপাত এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপারদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এপিবিএনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম নির্মূলে নিয়মিত বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বিমানবন্দরে প্রবেশের মুখে যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক ন্যূনতম চারজন এপিবিএন সদস্য মোতায়েন রাখার পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সাদা পোশাকে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা স্ক্রিনিং কঠোর করতে বলা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি কার পার্কিং এলাকায় দীর্ঘদিন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকা ‘আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেম’ (ইভিএসএস) অতিদ্রুত সচল বা পুনঃস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিআইপি ও সিআইপিসহ সব যাত্রীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী নিয়মিত সিকিউরিটি স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতেও বলা হয়েছে। সেখানে কাস্টমসের হ্যান্ড ব্যাগেজ স্ক্রিনিং মেশিনটি জনবল সংকট ও কারিগরি কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে মেরামত করে পুরোদমে সচল করতে হবে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে উভয় ভাষায় উপযুক্ত দিকনির্দেশনামূলক সাইনেজ টাঙাতে হবে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা মিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি বিমানবন্দরে ভিআইপি বা সিআইপি সুবিধা দাবি করেন, তবে তাদের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া কাউকে সংরক্ষিত এলাকায় সরাসরি প্রবেশাধিকার কিংবা ভিআইপি প্রটোকল সুবিধা দেওয়া যাবে না।
আকাশপথে নিরাপত্তার বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেওয়া অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতেও স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। বিমানবন্দর এলাকা ও তার আশপাশের সংরক্ষিত আকাশসীমায় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ২০২০ সালের বিদ্যমান ড্রোন নীতিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে নতুন ‘ড্রোন রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফ্লাইং রুলস, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিদেশে গমনাগমনকারী যাত্রীদের ব্যাগেজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রটোকল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিদেশে ডিপার্চার কিংবা ট্রানজিট বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণে যাত্রীর অনুপস্থিতিতে যদি কোনো চেকড লাগেজ খোলা হয় বা সেখান থেকে কোনো সামগ্রী সরানো হয়, তবে সেই লাগেজের গায়ে দৃশ্যমান স্থানে ‘এই লাগেজটি যাত্রার শুরুর বা ট্রানজিট বিমানবন্দরে খোলা হয়েছিল’ লেখা সংবলিত সিকিউরিটি সিল বা তথ্য স্লিপ সাঁটানোর বিষয়টি তদারকি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে অবতরণের পর সম্মানিত যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলাররা নিশ্চিত হতে পারবেন যে লাগেজটি পূর্ববর্তী বিমানবন্দরেই খোলা হয়েছিল, যা ব্যাগেজ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাবে।
এ ছাড়া দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্য সুরক্ষায় আরেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে আরোপিত ‘হাই-রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের জন্য জোরদার রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জরুরি সংকট মোকাবিলার মূল সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, বিমানবন্দরে হাইজ্যাকিং, নাশকতা বা আকস্মিক বড় ধরনের সংকটকালীন পরিস্থিতি (কন্টিনজেন্সী/ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট) পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবিলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে দ্রুত আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ওঠেছে, এই সমন্বিত বাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পরও কি শাহজালাল বিমানবন্দর ভিক্ষুক-ভবঘুরে মুক্ত হবে, স্মাগলিং বন্ধ হবে, মানব পাচার বন্ধ হবে, বিশেষ করে সর্বাগ্রে যাত্রী হয়রানি, রিসিভার হয়রানি বন্ধ হবে?
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
