আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার আ. মালেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না মন্ত্রণালয় : হ্জক্যাম্পে বসে সিন্ডিকেট দুুর্নীতি

বিশেষ সংবাদদাতা : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন আশকোনা স্থায়ী হজ্ব ক্যাম্পে প্রায় তিনযুগ ধরে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের দুর্নীতি আমলে নিচ্ছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। দুদক তার ব্যাপারে নীরব। ফলে হজ্ব ক্যাম্পে মালেকের নেতৃত্বে ৫-৭ সদস্যের দুর্নীতি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা খিলে খাচ্ছে হজ্ব ক্যাম্প। পরিচালক হজ্ব এই সিন্ডিকেট সদস্যদের আগলে রেখেছেন। আর তাই সিন্ডিকেট সদস্য, দুর্নীতিবাজ সোহেল মোহাম্মদ ফেরদৌস শারীরিকভাবে আনফিট থাকার পরও তাকে চলতি বছর হাজীদের তদারকি করার জন্য সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। পরিচালক হজ্বও এ বছর হজ্ব মওসুমে হজ যাত্রীদের তদারকির জন্য সৌদি আরব যান এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। সিন্ডিকেট আরেক সদস্য সোহেল মোহাম্মদ ফেরদৌসের আপন শ্যালক দীন মোহাম্মদকে পরিচালকের পিএ‘র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে হজ্ব অফিসের ডরমেটরিকে নিজেদের আবাসিক এলাকা বানিয়ে স্ত্রী-পুত্র -কন্যা নিয়ে রীতিমত বছরের পর বছন বেশ আরামে বসবাস করছেন। এ নিয়ে বার বার পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় তা আমলে নিচ্ছে না। ফলে তারা হজ্ব ক্যাম্পকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করছেন। বছরের পর বছর সরকারি পানি, বিদ্যুৎ গ্যাস খরচ করে সরকারের বারোটা বাজাচ্ছে। পরিচালক হজ্ব সিন্ডিকেট সদস্যদের আশকারা দিচ্ছেন। পরিচালকের ড্রাইভার সালাউদ্দিনও ৪/৫টি রুম দখল করে তার জননি স্টোরেরর মালামাল ও কর্মচারিদের বসবাসের সুযোগ করে নিচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিটের হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে কালেরকন্ঠে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ইতিমধ্যেই ৩/৪জন কর্মচারি স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন। এদের অত্যাচারে সৎ ও নীরিহরা আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে টিকতে পারছে না। ইতিপূর্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা সিন্ডিকেট সদস্যদের দাবড়ে বেড়ালেও বর্তমান পরিচালক এদেরকে আগলে রেখেছেন। এর ফলে পরিচালকের নজরানা পৌছে দিচ্ছে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সোহেল মোহাম্মদ ফেরদৌস।
সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দুদকের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ধর্ম সচিব বরাবরও আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্ত এ সব অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় দেড় হাজার হজ্ব এজেন্সির কাছ থেকে অনেকটা বাধ্য করে সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন সহকারি হজ্ব অফিসার। হজ্ব ক্যাম্পে প্রায় ৩০ বছর ধরে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক ০৫ শতক পৈত্রিক সম্পত্তি পেলেও বর্তমানে সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ম্যানুয়েলি হজ্ব যাত্রী রিপ্লেসমেন্ট, ভিসা ও ব্যর্থ হজ্ব যাত্রীদের মোয়াল্লেরম ফি ফেরত দেবার নাম করে বিপুল অংকের বাণিজ্য করেছেন । এ ধারা অব্যাহতগতিতে চলছে।
দুর্নীতির দায়ে তাকে কয়েকবার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প থেকে বদলি করা হলেও আবার তদবির করে চলে এসেছেন । ১০ লাখ টাকার ঘুষ নিয়ে আব্দুল মালেক হজ্ব লাইসেন্স দেয়ার তদবির করেন বলেও অভিযোগ। হজ্ব মওসুমে ভিসা পাইয়ে দেবার জন্য হজ্ব এজেন্ট প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন বলেও অভিােগ করা হয়েছে। তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে আশকোনা হজ্বক্যাম্পে বসবাস করছেন। পরিচালক তাকে হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিতে বসবাসের মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন বলে তিনি বলে বেড়ান।
এ ব্যাপারে জানতে সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিচালক হজ্ব বলেছেন, হজ্ব ক্যাম্প থেকে আবাসিকভাবে বসবাসকারিদের উচ্ছেদ করা হবে।