একুশে বার্তা প্রতিবেদন : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের আপিল শুনানি শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানিতে দুদক আইনজীবী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা বৃদ্ধি করে যাবজ্জীবন চেয়েছেন।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল ৫ বছরের সাজাই বহাল চেয়েছেন। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে যুক্তিতর্কে তারা এ আর্জি জানান। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ (বুধবার) দিন ধার্য করেন। আদেশের বিষয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার আগে বেলা ১১টায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা আদালত থেকে বেরিয়ে যান। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অর্থের উৎসের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চেয়ে সোমবার একটি আবেদন করেন এজে মোহাম্মদ আলী।
ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, মূল আপিলের যুক্তিতর্ক শেষে এই আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।
মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার আগেই এজে মোহাম্মদ আলী ওই আবেদনের ওপর আদেশ চাইলে আদালত যুক্তিতর্ক শেষে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান।
এজে মোহাম্মদ আলী এ সময় বলেন, তাহলে এই আদেশটিই (নথিভুক্ত করে রাখার আদেশ) দেন, আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। বিচারক তখন বলেন, ‘সে আপনারা যেতে পারেন।’ এছাড়া ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তাহলে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখা হোক।’
এ পর্যায়ে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করলে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্কে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আদালত ত্যাগ করেন।
পরে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন, আবদুর রেজ্জাক খান, ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, আমিনুল ইসলাম, এএইচএম কামরুজ্জামন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, মো. আখতারুজ্জামান, অ্যাড. মো. ফারুক হোসেন ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমানসহ অন্য আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তিতর্কে দুদকের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন চেয়েছি। আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের ৫ বছর সাজা দেয়া ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার করা আপিলসহ ৪টি আবেদনের ওপর ২৮ দিন শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ কার্যদিবসে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অতিরিক্ত সাক্ষ্য দেয়ার জন্য একটা দরখাস্ত নিয়ে এসেছিল। সোমবার তাদের ওই দরখাস্ত শুনে দু’পক্ষের যুক্তিতর্কের পর আদেশ দেবেন বলে আদালত নথিভুক্ত করে রাখেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, নিম্ন আদালত যে সাজা দিয়েছে তা সঠিক। ওই সাজা যাতে বহাল থাকে আমি সেই মর্মে আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি। সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেছেন দুদক। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করিনি। সেজন্য সাজা বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো বক্তব্য রাখার সুযোগ আমার ছিল না।
তিনি বলেন, আমি বলেছি, বিদেশ থেকে যে অর্থ এসেছে তা এতিমদের জন্য এসেছে। সেখানে লেখা ছিল প্রাইমিনিস্টার অরফানেজ ট্রাস্ট। সেই অর্থটা পরবর্তী সময়ে দুটি এতিমখানায় দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটা হল বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও বগুড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট। কাজেই টাকা যে সরকারি টাকা এবং রাষ্ট্রের অর্থ, জনগণের অর্থ এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। সুতরাং এই আত্মসাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকেই অপরাধী। নিম্ন আদালত সঠিকভাবেই সাজা দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন যুগান্তরকে বলেন, ‘না আমরা আদালত বর্জন করিনি। শুনানি থেকে বিরত থেকেছি। আজ আদালতে যাব।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি চার আসামি হলেন- সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।
