জোবাইদার পরামর্শে চিকিৎসা নিতে চান খালেদা জিয়া

একুশে বার্তা ডেক্স : কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ। কারাগারে যাওয়ার পর আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যায় তার হাতে, পায়ে ও কোমরে ব্যথা বেড়েছে। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করছেন না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নিতে চান বলে ওষুধ খাচ্ছেন না। এমনটি বলা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে। তারা এ-ও বলছেন, খালেদা জিয়া তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানের পরামর্শ ছাড়া কখনো ওষুধ খান না। তাই লন্ডনে অবস্থানরত পুত্রবধূর সঙ্গে পরামর্শ করেই চিকিৎসা নিতে চান।

গত বৃহস্পতিবার  রাজধানীর বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আমি জেনেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মেডিক্যাল বোর্ড তাকে চিকিৎসা দিয়েছে, কিন্তু তিনি সে চিকিৎসা নিচ্ছেন না। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নেবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে তা প্রক্রিয়াধীন আছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, আমরা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখেছি। আগে থেকেই তার ব্যথাজনিত সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে এসব সমস্যা বেড়েছে। তবে খালেদা জিয়ার এখনকার ফলোআপ আমার কাছে নেই। তার যদি কোনো সমস্যা হয় তা হলে নিশ্চয় আমাদের জানাত। আর যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় তা হলে আমাকে আবার দেখাবে। তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) আগে থেকেই অসুস্থ। অসুস্থ বিধায় আমাদের বোর্ড করে দিল, আমরা দেখলাম। আতঙ্কিত হওয়ার মতো বা বেশি খারাপ এমন অবস্থা নয়। আগে তার অসুখ যা ছিল, এখন তা বাড়ছে। হাতে ব্যথা, পায়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা ও পায়ে ব্যথা এগুলো আগে ছিল না। এগুলো নতুন দেখা দিয়েছে, এজন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে গত বৃহস্পতিবার  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন এ বিষয়ে আপাতত তারা কোনো কথা বলবেন না।

খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা ওনাদের পরামর্শ ছাড়া কখনই কোনো ওষুধ গ্রহণ করেন না খালেদা জিয়া। তার ছেলের বউ (তারেক রহমানের স্ত্রী) ডা. জোবাইদা রহমানের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করেন না। খালেদা জিয়ার রিউমোটলজি আর্থ্রাইটিসের যে সমস্যা রয়েছে তা চিকিৎসা করেন লন্ডনের চিকিৎসকরা। তার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে লন্ডন ও নিউইয়র্কে। এ ছাড়া চোখের ছানি অপারেশন হয়েছে লন্ডনে। এখন তার রিউমোটলজি আর্থ্রাইটিস বা শারীরিক যে সমস্যা তার জন্য বাংলাদেশে দুজন ডাক্তার আছেন, যারা রোগ সম্পর্কে পরামর্শ দেন। তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান বা লন্ডনের চিকিৎসক আছেন তার সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ওনাদের পরামর্শ মতে করেন। খালেদা জিয়া যে কারো কথায় কোনো ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসা করান না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়াকে যেই চিকিৎসা দেওয়া হোক না কেন, তিনি সেই চিকিৎসা সম্পর্কে পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এরপর ওষুধ খাবেন। তাকে আগেও যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, সেটি দেখভাল করতেন জোবাইদা রহমান।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ এটা সবাই জানেন। তিনি যে অসুস্থ এটা তো আর নতুন নয়। অসুস্থতা বাড়ার পেছনে মানসিকসহ বেশ কিছু কারণও আছে। খালেদা জিয়া যেখানে আছেন সেখানে হাজার হাজার বন্দি থাকতেন। এখন তিনি আছেন একজন মাত্র। এই যে নিঃসঙ্গতা এক ধরনের মানসিক চাপ বা শাস্তি। মানসিক চাপ থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাকে যে রুমে রাখা হয়েছে, সেখানে লোক ছিল না; তার থাকার রুম পরিষ্কার করা হলেও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা রয়েছে। তার হাঁটাচলার জন্য জায়গার সমস্যা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা সমস্যা, টয়লেটের ফ্যাসিলিটিস কী রয়েছে। আমরা যে ধরনের তোশক ব্যবহার করি তা করলে ওনার ব্যথা বেড়ে যায়, এজন্য তার শোবার স্থানে এক ধরনের স্পেশাল ম্যাট্রেস প্রয়োজন হয়। এসব ব্যবস্থা সঠিক না হলেই ব্যথাজনিত সমস্যা বেড়ে যাবে। মেডিক্যাল বোর্ডও বলছে ওনার অসুস্থতার প্রকোপ বেড়েছে। অসুস্থতা কোনো বানানো জিনিস নয়, তিনি সত্যি সত্যি অসুস্থ। তারপরও ওনাকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও যে ধরনের ব্যঙ্গ করা হয় সেটি আমরা কারো কাছ থেকে আশা করি না।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে যে দুজন চিকিৎসক দেখতেন সেই দুজন চিকিৎসকের সঙ্গে তার ছোট ভাই, ছোট ভাইয়ের বউ, বোন, ওনার বড় ভাইয়ের বউ, ছেলের (কোকো) বউ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই আবেদন রিজেক্ট করে দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চারজন অধ্যাপক দিয়ে বোর্ড করেছে এবং মেডিক্যাল বোর্ড দিয়ে দেখিয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা যে ওপিনিয়ন দিয়েছে তা আমাদের দেয়নি। দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে যে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করেন তাদের দেখতে দিতে কারা কর্তৃপক্ষ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এত অনীহা কেন থাকবে? খালেদা জিয়া তো বড় ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। ওনাকে সাজানো রাজনৈতিক মামলায় জেল দেওয়া হয়েছে।