স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা কাস্টমস হাউজে ৩ কমিশনারের আমল ধরে বহাল রাজস্ব কর্মকর্তা শমসের। এরমধ্যে ২ বার প্রিভেনটিভে, ১ বার লংরুমের গ্রুপে। তাকে শাহজালাল বিমানবন্দরে বদলি করা হয়।
৩ কমিশনারের আমল থেকে ঢাকা কাস্টমস হাউজে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা শমসের। কমিশনার নূরুল হুদা আজাদের পুরো সময় ধরে রাজত্ব করেছেন। এর আগের কমিশনারের আমলেও বেশ দাপটের সাথে ছিলেন। বর্তমানে সৎ কমিশনার হিসেবে খ্যাত মোবারা খানমের আমলেও দিব্যি হাউজের বিমানবন্দর ইউনিটে আছেন। বিগত আমলে তিনি আয় বহির্ভুত ইনকাম করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে অনেকে জানান। তিনি এখন নাকি চাকরি ছেড়ে দেবার চিন্তাভাবনা করছেন। বিমানবন্দর গোডাউন থেকে ৫৫ কেজি সোনা পাচারের সময় তিনি প্রিভেনটিভে ছিলেন, অনেকের প্রশ্ন তিনি কি দায় এড়াতে পারেন। তবে কমিশনারের সাথে তার সখ্যতার কারণে পার পেয়ে যান বলে শোনা যায়। হুদা কমিশনার তাকে আবার বিমানবন্দর ইউনিটে পাঠান-যা বর্তমান কমিশনারের আমলে বহাল। বোর্ডে কয়েকজন সদস্য তার ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে তার সেল ফোনে কল করলেও রিসিভ করেননি।
বহিরাগতরা হাউজ থেকে বিতাড়িত: বর্তমান হাউজ কমিশনার মোবারা খানম আসার পর ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ বলে জাহির করা হচ্ছে। এখন আর ওপেন ঘুষ লেন-দেন হয় না। লংরুমসহ বিভিন্ন কাস্টমস কর্মকর্তাদের রুমে ডিউটিরত ২০০ বহিরাগতকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দাপ্তরিক চিঠি জারি করে বহিরাগতদের বিতাড়িত করা হয়েছে।২৬ সেপ্টেম্বর এই চিঠি জারি করা হয়।
সারাদেশের সব কাস্টমস ইউনিটে বহিরাগতরা বহাল। এনবিআরও-ও এদের নিয়ে ঘামায় না। কিন্ত মোবারা কমিশন এদের নিয়ে দাপ্তরিকপত্র জারি করলেন, এরা এখন যাবে কোথায়? খাবে কি? এদের পরিবার-পরিজন চলবে কিভাবে? এরা কেউ কেউ আবার ঢাকা কাস্টমস ক্লাব সদস্য। যুগ যুগ ধরে এরা আছে, ফুটফরমায়েস করে পেট চালাচ্ছে, এবার এদের পেটে লাথি পড়ছে।
কুরিয়ারে নিষিদ্ধ ১৭ ব্যবসায়ী এখনও বহাল : হাউজে কর্মরত সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুবুর রহমান কুরিয়ার শুল্কায়নে ১৭ ব্যবসায়ীকে নিষিদ্ধ করে দাপ্তরিকপত্র জারি করে তা নোটিশ বোর্ডে টাংগিয়ে দেন। তখন হাউজ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন, কমিশনার বিষয়টি তখন আমলে নেননি। উল্টো এডির বদলির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।
এই কুরিয়ারে মামাখ্যাত রাইদুল,তার ভাই , ভাগিনা এখনও বহাল , শরিফরাও বহাল ১ দিনে শত শত বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে পণ্য খালাসের ঘটনাও ঘটে। ডিসিএএ নেতা এবং নব্য আওয়াামীলীগার সেজে এ সব কাজে নেতৃত্ব দেন। কিন্ত তারা এখনও বহাল। এখানে গেট কন্টাক্টে পণ্য পাচার হয়ে যায় বলে গোয়েন্দা নজরদারি করা হয়।সম্প্রতি কুরিয়ারে পণ্য পাচারের একটি অডিও রেকর্ড ফাস হবার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এর নেপথ্যকন্ঠ ব্যবসায়ী নামজিরের বলে জানা যায়। গত কমিশনারের আমলে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
রাজস্ব টার্গেট ফুলফিল হবে তো? মোবারা কমিশনার ঢাকা হাউজে যোগদান করছেন মাত্র, তার চাকরি আছে নাকি ডিসেম্বর পর্যন্ত, এরপর তিনি পিআরএলএ চলে যাবেন। তবে এ সময়ের মধ্যে শতভাজ রাজস্ব আদায় হবে নাকি ভাটা পড়বে- এ নিয়ে আশংকা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ শতভাগ রাজস্ব ধরে টান দিলে ব্যবসায় ভাটা পড়বে, রাজস্ব আহরণে গতি কমবে, আমদানি-রফতানি কমে যাবে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
