বেবিচক : স্টোরগুলো যেভাবে চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের বিভিন্ন স্টোরগুলোতে রামরাজত্ব বিরাজ করছে। স্টোরের জনবল ছাড়া ফায়ার, প্রশাসন ও অন্যান্য বিভাগের জনবল দ্বারা পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ স্টোরের জনবল বাইরে বাইরে পদায়ন করা হচ্ছে। শাহজালাল স্টোরের ফায়ারের এক কর্মচারিকে ১৭ বছর পর বদলি করা হয়েছে। মাঝেখানে বদলি ঠেকাতে মন্ত্রীর তদবির কাজে দিয়েছে। আবার এ স্টোরে প্রশাসনের জিয়াকে বদলি করা হয়েছে।
এবার আবার দীর্ঘদিন পর ছাত্রলীগের থানা পর্যায়ের এক নেতাকে ইডির পছন্দ না হওয়ায় এখান থেকে সিএনএস স্টোরে বদলি করা হয়েছে। কিন্ত ওই নেতা হাল ছাড়েননি শাহজালাল স্টোরের। সিএনএস-এ বসে শাহজালাল স্টোরের কেনাকাটার টেন্ডারে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। উপপরিচালক পর্যন্ত সাইন হবার পর বিষয়টি ধরা খেয়েছে। ইডির দপ্তরে ফাইল আটকে গেছে বলে জানা যায়। দুই ছাত্রলীগ নেতা এর নেপথ্যে বলে জানা যায়। কেনাকাটার এই বিষয়গুলো কোনরকম বাজার দর যাচাই না করেই টেন্ডারে যাচ্ছিল বলে জানা যায়। ধরা খাবার পর একজন ঠিকাদারের পণ্য বাজার দর যাচাই করতে গিয়ে আপত্তি ওঠায় বিষয়টি ধরা খায়। এভাবে প্রায় ১০টি কেনাকাটার টেন্ডার সম্পন্ন হতে যাচ্ছিল কোনরকম বাজার দর যাচাই ছাড়াই।
জানা যায়, কেনাকাটার এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় মলাটে লেখা ছিল সিএনএস স্টোর কিন্ত ভিতরে শাহজালাল স্টোর।
একজন কর্মকর্তা এর সত্যতা জানতে পেরেছেন। পরে ফাইল আর বেশিদূর আগায়নি।
সিএনএস স্টোরের এক কর্মচারি জানান, শাহজালাল স্টোরের শতকরা ৪ ভাগ ঘুষ ছাড়া ঈদের আগে ঠিকাদারদের বিল দেয়া হয়নি। আগে শতকরা ৪ ভাগ ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের বিল দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, এ ব্যাপারে ডিডি বরাবর মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে। এর সাথে জড়িত এক সংখালঘু ডা. দীন মোহাম্মদের ডলার মেরে দেয়ার নায়কের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরেকজন আ.লীগের বড় নেতা, মন্ত্রীর তদবিরে তার বদলি ঠেকানো হয়, ওই আমলের পানি সম্পদ উপমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, কিন্ত আবার পুরনো কর্মস্থলে ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই দুই স্টোরের কর্মরত কর্মচারিরা একসময় নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত থাকায় শাহজালালে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। বেবিচকের অর্ধশত কর্মচারিকে শাহজালাল থেকে বদলির গোয়েন্দা রিপোর্ট এখনও আমলে নেয়া হয়নি। এখনও আজাদ, মিজান, তোফায়েল গংরা শাহজালালে বর্তমান।
বেবিচকের অন্যান্য স্টোরেরও একই অবস্থা। মানব পাচারে সিদ্ধহস্ত এক কর্মচারি সেমসুর ভান্ডার রক্ষক, তার বস একজন পরিচালক, তিনি এবারের ঈদে ওমরায় গেছেন বলে জানা যায়। ওই পরিচালককে উত্তরায় স্পাইসি রেস্টুরেন্টের এমডির দপ্তরে যাতায়াত করতে দেখা যায়।
এ দিকে এমটি স্টোরের ফোরম্যান প্রশাসনের লোক হলেও তাকে ওখানেই বসিয়ে রাখা হয়েছে একযুগ ধরে। এতে করে তার ক্যারিয়ার সফল হচ্ছে না।